http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!

‘শুধু সহকর্মীই নয়, সে ছিল আমার সন্তানের মতো’
    A+ A A-

মিঠু শিকদার : জামাল শুধু আমার সহকর্মীই ছিল না, সে ছিল আমার সন্তানের মতো। যেদিন সে জানতে পেরেছিল আমার ছেলের নামও জামাল, সেদিন থেকে মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আমাকে পিতার মতোই সম্মান করে এসেছে। কাজে এসেই খোঁজ নিতো আমি খেয়েছি কি না। প্রায়দিন সকালে সে জোর করে আমাকে হোটেলে নাস্তা খাইয়ে তারপর কাজে বসতো। আমি আমার সহকর্মী সন্তানকে আর ফিরে পাবো না। সন্ত্রাসীরা আমার সন্তানকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সীমান্ত পরিবহনের স্টাটার মুক্তিযোদ্ধা হানেফউদ্দিন। ৭৮ বছরের বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা হানেফের বাড়ি বেনাপোলের দীঘিরপাড় গ্রামে। হানেফ স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো জানান, দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে তিনি বেনাপোল-যশোর রুটে সীমান্ত পরিবহনের স্টাটার হিসেবে চাকরি করে আসছেন। প্রায় ৪ বছর আগে গ্রামের কাগজের সাংবাদিক ও শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন (৪২) নতুন স্টাটার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেয়। কাজে যোগদানের পর জামাল যখন জানতে পারে আমার (হানেফের) ছেলের নামও জামাল তখন থেকে সে আমাকে পিতার মতোই শ্রদ্ধা ও সম্মান করে এসেছে। জামালের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই তিনি ছুটে যান কাশিপুর গ্রামে। জামাল ছিল একজন সৎ ও পরোপকারী মানুষ। সে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। মানুষের বিপদে সব সময় সে পাশে দাঁড়িয়েছে। সে এলাকার মাদক সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড বন্ধের লক্ষ্যে গ্রামের কাগজে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। আর এ কারণে এলাকার মাদক সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি তার সহকর্মী ও সন্তানতুল্য জামালের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।