সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২
শিক্ষা বার্তা
অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পাবলিক পরীক্ষা না হওয়ায় মেধার অবমূল্যায়ন
ক্ষতির শিকার ৭ লাখ শিক্ষার্থী
এম. আইউব
Published : Tuesday, 9 April, 2019 at 6:30 AM
ক্ষতির শিকার ৭ লাখ শিক্ষার্থীসারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পাবলিক পরীক্ষা না হওয়ায় মেধার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে পশ্চাৎপদ অঞ্চলের সাত লাখ শিক্ষার্থী। আর এ কারণে হতাশা ভর করছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে।
সারাদেশে আটটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, দিনাজপুর, বরিশাল ও সিলেট। এসব বোর্ডে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির মতো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় কোনো বোর্ডে সব বিষয়ে সহজ প্রশ্ন তৈরি হয়। আবার কোনো বোর্ডে কঠিন প্রশ্ন তৈরি হয়। আবার এও দেখা যায়, কোনো কোনো বোর্ডে দু’ একটি বিষয়ে এমন কঠিন প্রশ্ন করা হয়ে থাকে যে, যার ফলে ওই বোর্ডের পাশের হার অনেক কমে যায়। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটলে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ সুবিধা পায়। আবার জেলা শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি সুযোগ সুবিধা পায় বিভাগীয় শহরের শিক্ষার্থীরা। একইভাবে রাজধানীতে বসবাসকারীরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায় বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন। এসব কারণে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীর পক্ষে কোনোভাবেই বেশি সুযোগ সুবিধা পাওয়া শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব না। আর এ কারণে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর কোনো না কোনো বোর্ডে ফল বিপর্যয় ঘটছে। যে বোর্ডে এমনটি হচ্ছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে এক প্রকার ছিটকে পড়ছে। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে শিক্ষা গবেষকরা বলছেন। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশি জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন কলেজে পয়েন্টের ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়ে থাকে। এসএসসি এবং এইচএসসি মিলে যত পয়েন্ট হবে সে অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে শিক্ষার্থী। সেক্ষেত্রে কোনো একটি পরীক্ষায় ফল খারাপ হলে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কারণে এ সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অবমূল্যায়ন হচ্ছে প্রকৃত মেধার। এটি একমাত্র অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু এখন আর নকল এবং প্রশ্নফাঁস নিয়ে মাথাব্যথা নেই সেকারণে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণে কোনো বাধা থাকার কথা না। মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে সরকারের উচিত অবিলম্বে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা। তাহলে সারাদেশে সমভাবে মেধার মূল্যায়ন হবে।
সূত্র জানিয়েছে, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষাবোর্ডে গণিত এবং রসায়ন বিজ্ঞানে প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়েছে। যে কারণে পাশের হারে প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। তুলনামূলক অন্যান্য বোর্ডে এ দু’টি বিষয়ে সহজ প্রশ্ন হয়েছে বলে শিক্ষাবিদরা বলছেন। যদি এমনটি হয় তাহলে যশোর বোর্ডের ১ লাখ ৮৬ হাজার এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধকলে পড়তে হবে। এসএসসি পরীক্ষায় তাদের পয়েন্ট কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
একইভাবে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজারের মতো। এরমধ্যে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছে ৪২ হাজার ৬শ’ ৯জন। এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে যদি পরীক্ষা খারাপ হয় তাহলে তার পুরো প্রভাব পড়বে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর উপর। একই অবস্থা হবে অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের ক্ষেত্রেও। কোনোভাবে ফল বিপর্যয় ঘটলে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলে সারাদেশের সকল শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একই হবে। তখন আর অসম প্রতিযোগিতা হবে না। সবার জন্যে সমান সুযোগ তৈরি হবে।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আমিরুল আলম খান বলেন, আগে অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এ অবস্থায় অভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরীক্ষায় তেমন একটা কাজ দেবে বলে মনে হয় না।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এটি জাতীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হলে যশোর বোর্ড অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের জন্যে প্রস্তুত রয়েছে।   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft