শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২
সারাদেশ
কুড়িগ্রামে ব্রিজ নিয়ে চার বছর দুর্ভোগে ৪০ হাজার মানুষ
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
Published : Saturday, 11 May, 2019 at 9:04 PM
কুড়িগ্রামে ব্রিজ নিয়ে চার বছর দুর্ভোগে ৪০ হাজার মানুষকুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় নির্মাণের বছরেই দেবে যায় ত্রাণ ও পুর্নবাসন মন্ত্রণালয়ের পায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজ। এ অবস্থায় ৪ বছর ধরে যাতায়তের দুর্ভোগে পড়েছে ঐ এলাকার ২০টি গ্রামের মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারই ব্রিজ ভাঙার অন্যতম কারণ। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের দাবী বিলের প্রশস্ততা অনুযায়ী ব্রীজের আয়তন ছোট হওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে দেবে গেছে ব্রিজটি। এ অবস্থায় ৪ বছর ধরে যাতায়তের দুর্ভোগে পড়েছে ঐ এলাকার ২০টি গ্রামের মানুষ।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজার হতে জনতারহাট সড়কের সাকোর পাড় বিলের উপর ত্রাণ ও পুর্নবাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানির তোড়ে সে বছরই ভেঙে যায়। ব্রিজটি নির্মাণ করে মেসার্স হামিদ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে করে যোগাযোগ বিচ্ছিন হয়ে পড়ে বুড়াবুড়ি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ। পরে এলাকাবাসী নিজ উদ্দ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ব্রিজের দু’পাশে পায়ে হেটে চলাচলের ব্যবস্থা করে।
সম্প্রতি ব্রিজের পাশে দাড়ালে দেখা যায়, মোটরসাইকেল থেকে নেমে হাত দিয়ে ঠেলে ব্রিজ পাড় হচ্ছেন বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের রোজাউল ইসলাম। জরুরি কাজে বুড়াবুড়ি বাজার থেকে জনতা বাজারে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এই ব্রিজটির উপর দিয়ে মোটর সাইকেলে চরে পাড় হওয়া খুবই কঠিন বলে হাত দিয়ে ঠেলে ব্রিজ পাড় করছেন।
এসময় রেজাউল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালে সাঁকোর পাড় এলাকায় ত্রাণ শাখার নির্মিত এই ব্রিজটি সে বছরই বন্যার সময় দেবে যায় আর দু’পাশের মাটি সরে যায়। এ অবস্থায় এই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী মিলে কিছু টাকা চাঁদাহারি করে দিয়ে বাঁশ, কাঠ কিনে ব্রিজের দুই দিকে সংযোগ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে ব্রিজের উপর দিয়ে কোন রকমে পাড়াপাড় হওয়া যায়। এই রাস্তা দিয়ে না গিয়ে অন্য রাস্তায় গেলে অনেক ঘুরে আসতে হয় বলেই এদিক দিয়েই আসলাম।
এলাকাবাসী জানায়, এই সড়কটি সাঁকোরপাড় গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন না এই সড়কে ব্রিজের উপর দিয়েই এই সব এলাকার ছাত্র/ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যায়। এছাড়া এই ব্রিজের উপর দিয়ে স্থানীয় মানুষজন তাদের ধান চালসহ কোন মালপত্র বহন করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তাদের তাদের উৎপাদিত পন্য বাজারে নিয়ে যেতে হয়। ব্রিজটি নির্মাণ করা খুবই জরুরি।
উলিপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: রবিউল ইসলাম জানান, ত্রাণ শাখার এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে ২০১৫ সালে আর আমি এখানে এসেছি এক বছর হয়। আমি কিছুদিন আগে ভাঙা ব্রিজটির কথা শুনে ঐ এলাকায় যাই। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলি। ব্রিজটির কাজ ভালো হয়েছে না খারাপ হয়েছে তা বলতে চাই না। তবে আমার মনে হয়েছে বিলের আয়োতনের চেয়ে ব্রিজের দৈর্ঘ কম হওয়াই বন্যার পানির স্রোতে ব্রিজটি দেবে গেছে। যেহেতু ঐ বিলের উপর ৬০ থেকে ৭০ ফুট দৈর্ঘের ব্রিজের দরকার হবে এবং ত্রাণ শাখার অত বড় দৈর্ঘের ব্রিজ নেই সেহেতু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঐ এলাকায় অন্য কোন বিভাগের মাধ্যমে ব্রীজ নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছি।
ব্রিজটি নির্মাতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রিজটি শুধু জামানতের টাকা দেয়া হয়নি। তাছাড়া পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আমি সে সময়কার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো : আনিছুর রহমানের সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন সে সময় ইউপি চেয়ারম্যানের পীড়াপীড়িতে ব্রিজটি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছিল। কাজ খারাপ হয়নি বন্যার প্রবল পানির তোড়ে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো : আব্দুল কাদের জানান, আমি বিষয়টি জানার পর খোঁজখবর নিচ্ছি। কেন ব্রিজটি নির্মাণের বছরেই দেবে গেছে। এ বিষয়টা তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেয়া হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft