বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১
সারাদেশ
বর্ষা মওসুমকে সামনে রেখে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকন্ঠা
কলাপাড়ায় উপকুলের ১০কি.মি. বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Monday, 13 May, 2019 at 1:12 PM

কলাপাড়ায় উপকুলের ১০কি.মি. বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ নিয়মিত সংস্কারের অভাবে উপকুলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ১০.৫ কি.মি.বেড়িবাঁধ জরাজীর্ন। এ অবস্থায় ঝুঁকিপুর্ন বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্ষা মওসুমকে সামনে রেখে এ নিয়ে উৎকন্ঠায় রয়েছেন উপজেলার ৩৪টি গ্রামের মানুষ।  
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সু্েত্র জানা গেছে, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে ৪৭/৫ পোল্ডারের ৭ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই নাজুক। আর বাকী ৩.৫কিলোমিটার রাঙ্গাবালীর চালতাবুনিয়া ইউনিয়নে। এ ছাড়া চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর একই অবস্থা। আসন্ন বর্ষা মওসুমের আগে এসব বেরিবাঁধ মেরামত করা না হলে প্লাবিত হতে পারে গ্রামের পর গ্রাম। এ নিয়ে উদ্বেগÑউৎকন্ঠায় রয়েছেন স্থানীয় লোকজন। কুয়াকাটা ,মহিপুর ,ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন গুলোতে বর্তমানে বেরিবাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু বেরিবাঁধ ভাঙ্গন এলাকা হিসেবে চিহৃত রয়েছে মহিপুর ইউনিয়নে নিজামপুর-৪৭ পোল্ডার, নিলগঞ্জ ইউনিয়নের গৈয়াতলা-৪৬ পোল্ডার, লালুয়া ইউনিয়ন-৪৭/৫পোল্ডার, চম্পপুর ইউনিয়নের দেবপুর-৫৪/২ পোল্ডার, ধুলাসার ইউনিয়ন -৪৭/৩ পোল্ডার, চাকামইয়া ইউনিয়ন-৪৪ পোল্ডার, টিয়াখালী ইউনিয়ন-৪৩/১ পোল্ডার, কুয়াকাটা পৌর -৪৮ পোল্ডার। এছাড়া নদী ভাঙ্গন এলাকা হিসেবে চিহৃত রয়েছে রমজানপুর-৪৭/২ পোল্ডার , ডালবুগঞ্জ-৪৭/২ পোল্ডার , নিলগঞ্জ ইউনিয়নের- ৪৬ পোল্ডারের-গৈয়াতলা , জামালপুর, নিলগঞ্জ, গৈয়াতলা ,উমেদপুর। লালুয়া ইউনিয়ন-৪৭ পোল্ডার , চম্পপুর ইউনিয়নের দেবপুর-৫৪/১ পোল্ডার , করমজাতলা-৪৬ পোল্ডারের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগর ও নদীর জোয়ারের পানি তোড়ে এবং প্রচন্ড ঢেউয়ের ঝাপটায় মাটি ক্ষয়ে নদী ভেঙ্গে যাচ্ছে। এছাড়া বাঁধ ভেঙ্গে ঝুঁকিতে রয়েছে লালুয়া ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম , মহিপুর ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম , নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ২টি গ্রাম , ডালবুগ্ঞ্জ ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম , বালীয়াতলী ইউনিয়নের ২টি গ্রাম , ধুলাসার ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম। কলাপাড়া দুর্যোগ প্রস্তুত কমিটির সভায় এ তথ্য জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা।        
কলাপাড়ায় উপকুলের ১০কি.মি. বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ  
পানি উন্নয়ন অফিস সু্েত্র জানা গেছে, উপকুলীয় এলাকার মানুষকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় বেরিবাঁধ তৈরি করা হয়ে ছিল ষাটের দশকে। নদীর জোয়ারের পানির আঘাতে প্রতি নিয়ত বেড়িবাঁধ ক্ষয়ে যায়। প্রাকৃতিক কারনে অনেক এলাকাতেই বেড়িবাঁধ অবস্থা নাজুক। কিন্তু সময় মতো সংস্কার করা হয়না। তার ওপর আবার চলছে মানুষের অত্যাচার। বন্যা নিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধ অধিকাংশ জায়গায় মাটি ক্ষয়ের ফলে বাঁধ হয়ে পড়েছে অপ্রশস্ত। বেড়িবাঁধের স্লেপে বসবাসকারী মানুষ তাদের প্রয়োজনে বেড়িবাঁধ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে এ দশায় পরিনত হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ নির্মানের পর থেকে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় উপযোগিতা হারানোসহ ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পড়েছে বেড়িবাঁধ। বিগত সিডর ও আইলায় উপকুলীয় বেরিবাঁধগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,যা দীর্ঘ এক যুগপার হলেও এখনও সম্পুর্ন মেরামত হয়নি। এছাড়া প্রতি বছর দফায় দফায় ঝড় ,বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে উপকুলের বেশিরভাগ বাঁধের কোথায় আংশিক কোথাও সম্পুর্ন বিধবস্ত হয়ে পড়ছে। এসব বিধবস্ত বেরিবাঁধ মেরামত না হওয়ায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতিসহ লোকালয়ের মধ্যে লোনা পানি ঢুকে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বারবার সর্বসান্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে তারা। তাই বিধবস্ত বেরিবাঁধ গুলো দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলবাসী। বর্তমানে কয়েক বছরে যেসব বেরিবাঁধ নির্মান হয়েছে তা পুর্বের বেরিবাঁধের মত মজমুদ নয়। তাই বাঁধগুলো সঠিত উচ্চতা এবং টেকসই বাঁধ নির্মানের প্রয়োজন। সিডরের পর থেকে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করার কারনে মহিপুর ইউনিয়নে কোমরপুর , নিজামপুর , পুরান মহিপুর , ইউসুফপুর , মনোহরপুর , নজিবপুরসহ কয়েক গ্রামে এখনও পর্যন্ত তারা জমি চাষাবাদ করতে পারেন না। একই অবস্থা লালুয়া ইউনিয়নের চাড়িপাড়া ,নাওয়াপাড়া, ১১নং হাওয়া, চৌধুরিপাড়া, নয়াকাটা, মুন্সীপাড়া, ,চান্দুপাড়া, হাসনাপাড়া,.চরচান্দুপাড়া ও পশরবুনিয়া গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। কোমর সমান পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় এবং কাঠের সেতু,বাঁশের সাকো ভেঙ্গে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগা । এ কারনে প্রয়োজন গ্রামবাসীদের নৌকা ট্রলারে করে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে হচ্ছে। সিডরের পর বিধবস্ত বেরিবাঁধ মেরামত অবস্থা নাজুক থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর বেড়িবাঁধ। এ বাঁধ ভেঙ্গে যে কোন সময় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশংকা করছে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা।
লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের ফিরোজা বেগম বলেন, পানি বন্দী হয়ে থাকায় গ্রামবাসীরা বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ডায়রিয়াও চর্মরোগ জনিত রোগের প্রাদুভার্ব দেখা দিলেও পানির কারনে ডাক্তার দেখাতে ও যেতে পারছেনা গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের দাবী , দুর্ভোগ হলেই লালুয়া ইউনিয়নের মানুষ ভাসে। তাই চারিপাড়া গ্রামের ভাঙ্গা বেরিবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলে আবার হাসি ফুটে উঠবে সর্বস্ব হারানো মানুষ গুলোর মুখে। গ্রাম গুলো দেখলে মনে হয় , সাগরের বুকে জেগে ওটা কোন দ্বীপ।
লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, ১৬ গ্রামের তলিয়ে রয়েছে ,পুকুর ডুবে আছে নদীর পানিতে । এ অবস্থায় গ্রামবাসীদের গৃহস্থালি সবকাজ করতে হচ্ছে এই দুষিত পানি দিয়ে। এ কারনে গ্রামবাসী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। চাড়িপাড়া ভাঙ্গা বেরিবাধ জরুরি ভাবে মেরামত না করলে গোটা বর্ষা মওসুমেই এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হবে গ্রামবাসীদের।   
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসডিই কুমার স্বস্তিক জানান, আমরা জরুরি কাজের ফেক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে লালুয়া , নিজামপুর , দেবপুর , গন্ডামারিয়া , করমজাতলা , পুর্ব গৈয়াতলা কাজ শুরু করবো। এর মধ্যে গত সপ্তাহে পানি সম্পদ প্রতি মন্ত্রী মো. জাহিদ ফারুক শামিম লালুয়া এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন।  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft