রবিবার, ০২ অক্টোবর, ২০২২
সারাদেশ
খাঁচি তৈরি সেমাইয়ের জন্য বিরামপুরে মাহালিরা ব্যস্ত
মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
Published : Tuesday, 21 May, 2019 at 8:17 PM
খাঁচি তৈরি সেমাইয়ের জন্য বিরামপুরে মাহালিরা ব্যস্তরমজানের ঈদে খাবারের তালিকায় প্রথমেই থাকে সেমাই। আর প্রতিটি দোকানে সেই সেমাই রাখার জন্য ব্যবহার হয় বাঁশের তৈরি খাঁচি। তাই রোজা ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাহালি সম্প্রদায়ের সদস্যরা এখন ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন এ খাঁচি তৈরির কাজে।
 সারা বছর তাদের তেমন কাজ না থাকলেও রমজান মাসে তাদের দম ফেলানোর সময় নেই। এ মাসে তারা যে রোজগার করে তা দিয়ে চলে যায় ৫ মাস। বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনে জিনিস বানিয়ে বিক্রি করে চলে তাদের সংসার। তবে রমজান এলেই বেড়ে যায় তাদের কাজের পরিধি। সরেজমিনে সম্প্রতি মাহালি সদস্যদের সেমাইয়ের খাঁচি তৈরির মহা ব্যস্ততা দেখা গেছে। এ নিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে। জানা যায়, সেমাই তৈরির খাঁচি বানাতে ছোট-বড় সবার হাত চলে দিন-রাত। এতে উপার্জনও হয় ভালো। তবে বাঁশের দাম বেশি হওয়ায় লাভ হচ্ছে না তাদের। তবুও এ লাভ দিয়ে চলে পরবর্তী ৪-৫ মাস।
খাঁচি প্রস্তুতকারী সরলা মার্ডী, অঞ্জলী মার্ডী , দিলীপ মার্ডী, জোসেফ মার্ডী, সংখরী হাসদা, ফিলিপ মার্ডী ও তাপস মার্ডীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের আগে বাঁশ কিনতে পারলে তাদের ভালো লাভ হতো। অর্থ সংকটের কারণে  তারা বাঁশ কিনে জমা রাখতে পারেনা। এদিকে রমজান মাস ছাড়া প্রায় সারা বছরই কমবেশি তারা ব্যস্ত সময় পার করেন টোপা, ডালি, চাঙারি, কুলা, খই চালা, গুমাইসহ নিত্য-নৈমিত্তিক তৈজসপত্র তৈরিতে। তবে প¬াস্টিকের বাজারে কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে মাহালি সম্প্রদায়ের বাঁশের তৈরি এসব তৈজসপত্রের ঐতিহ্য।
বর্তমানে গৃহিণীদের নিত্য-নৈমিতিক কাজে প¬াস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাহালি পরিবারের সদস্যদের নিপুণ হাতে তৈরি বাঁশের তৈজসপত্রগুলো এখন অনেকটাই তুচ্ছ-তাচ্ছিলের পণ্যে পরিণত হয়েছে। কলেজবাজার, জয়নগর, ওসমানপুর মিশন মারিয়ামপুর ও মাদিলাহাট মাহালী পাড়ায় দুই শতাধিক মাহালি পরিবারের সদস্য অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ পাড়ার গুণী কারিগর হিসেবে পরিচিত পলাশ, দিলীপ মার্ডী, দিপালী মার্ডী, দিলীপ টুডুসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্যগত পেশাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই কাজটি করে যাচ্ছেন। তারা আরও জানান, বর্তমানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাঁশ জোগাড় করে এসব পণ্য প্রস্তুত করা হলেও ন্যায্য দামে ক্রেতারা ক্রয় করতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
পলাশ, দিলীপ মার্ডী, দিপালী মার্ডী, দিলীপ টুডুসহ মাহালি সদস্যরা জানান, কুঠির শিল্পের আওতায় এ কাজে জড়িত প্রতিটি সদস্যকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে ‘আধুনিক পণ্য’ তৈরি করা শেখাতে হবে। সেই সঙ্গে বাঁশের তৈরি পণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ পাড়ার আরেক কারিগররা জানান, এ শিল্প রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে একসময়ের গ্রাম বাংলার গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করা ঐতিহ্যময় এসব পণ্য কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft