রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১
সারাদেশ
মার দিতে গিয়ে খেলো মার!
শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 22 May, 2019 at 12:25 PM
মার দিতে গিয়ে খেলো মার!শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কীর্তিনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে মার দিতে গিয়ে নিজেই উল্টো জনতার রোষানলে পড়ে মার খেয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ৮ জন আহত হয়েছে। আহত পাঁচজনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ও তিনজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ইতিপূর্বে নারী ঘটিত অভিযোগ, সঠিকভাবে ইউনিয়নের কাজ না করায় এমন আরও বেশ কয়েকবার মার খেয়েছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজ সেবক রিপন সরদারের এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকায় চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা ও তার  প্রথম পক্ষের ছেলে সাগর মোল্যা প্রায়ই রিপন সরদারের সাথে বিরোধ বাধাঁনোর চেষ্টা করতো। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ওমর ফারুক মোল্যার ছেলে সাগর মোল্যা কীর্তিনগর সেতুর কাছে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে রিপন সরদারের সমর্থক তোতা সরদারকে দেখে মারতে যায়। একপর্যায়ে রিপনের সমর্থকরা তাকে চড়থাপ্পর মারে। এখবর পেয়ে চেয়ারম্যান ফারুক মোল্যা তার সমর্থকদের নিয়ে সেখানে রিপন সমর্থকদের মারতে যায়। কিন্তু মার দিতে গিয়ে নিজেই উল্টো জনতার রোষানলে পড়ে মার খেয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা। পরে খবর পেয়ে পালং থানার পুলিশ ও সন্তোষপুর ফাঁড়ি থেকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। এতে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা ও তার প্রথম পক্ষের ছেলে সাগর মোল্যা, শাওন মোল্যা, সমর্থক ইছহাক মাতবর ও জামাল হাওলাদার আহত হয়। এর আগে চেয়ারম্যান ফারুক ও তার দলবল রিপন সরদারের বৃদ্ধা মা সমাজ সেবিকা ফিরোজা বেগম, তার চাচাতো ভাই সমাজ সেবক তোতা সরদার ও সমর্থক আওয়ামীলীগ কর্মী শহীদ মল্লিকের ওপর হামলা করে আহত করে।
চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের পুত্রবধূ শারমিন আক্তার বলেন, রিপন সরদার এলাকায় নির্বাচন করতে চায়। এ কারণে আমার শ্বশুর, স্বামী ও দেবরের ওপর ক্ষিপ্ত। ওই কারণে তার সাথে আমাদের বিরোধ। সে কারণেই এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও কোন কিছু হলেই তারা আমার শশুর ফারুক মোল্যাকে রাজাকারের বাচ্চা (কুখ্যাত রাজাকার ইমান উদ্দিন মোল্যার ছেলে) বলে এবং আমাদেরকে রাজাকারের বংশ বলে। রাজাকারের বাচ্চা হলে চেয়ারম্যান নির্বাচনে আমার শশুরকে তৎকালীন এমপি বিএম মোজাম্মেল হক নৌকা এনে দিলে কিভাবে, আপনেরাই কন।
এ বিষয়ে রিপন সরদার বলেন, আমি চন্দ্রপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি। দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলাম না। এখন এলাকায় এসেছি। কমবেশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলছি। এই ইউনিয়নের জনগণ আমাকে ভালবাসে তাই চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও তার ছেলেরা শুধু শুধু আমার সঙ্গে বিরোধ করে চলছে। তারা আমার মাকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমি ওই স্থানে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষের ঝগড়া সমাধান দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যানের প্রথম ছেলেরা ছেলে বেশি উগ্র। তারাই আমার সমর্থকদের কোপায়। খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক আমাদের মারতে আসেন। তখন স্থানীয় জনগণ তাকে মারধর করে। ইতিপূর্বে নারী ঘটিত অভিযোগ, সঠিকভাবে ইউনিয়নের কাজ না করায় এমন আরও বেশ কয়েকবার মার খেয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান ফারুক মোল্যা শরীয়তপুর শহরে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে এলাকায় এসে অঘটন ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এবার জনতার প্রতিরোধের মুখে সে একটু কাবু হয়েছে।
পালং থানার ওসি মো.আসলাম উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ যাওয়ার পর সংঘর্ষে থেমেছে। দুই পক্ষের আটজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। সংঘর্ষে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের  গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft