রবিবার, ০২ অক্টোবর, ২০২২
সারাদেশ
আড়াই কোটি টাকার ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই ফাটল
সিলেট সংবাদদাতা :
Published : Wednesday, 22 May, 2019 at 12:42 PM
আড়াই কোটি টাকার ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই ফাটলসিলেটের জৈন্তাপুরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নব নির্মিত একটি ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্যে খারুবিল ও জৈন্তাপুর ইউনিয়ন এবং জৈন্তাপুর বাজার সড়কের সঙ্গে যাতায়াতের সুবিধার্থে চিকার খাল নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। সেতুটি নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘নূরুল হক এন্ড তৈয়বুর রহমান জেবি’।
সেতুর দুই পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী সেতুটির ঢালাই কাজের পূর্বে সার্বক্ষণিক উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপস্থিত থেকে তা পর্যবেক্ষণ করার কথা থাকলেও কাজ করার সময় সংশ্লিষ্টদের কাউকে দেখা যায়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের মর্জিমত সেতুর ফাইলিং ৮০ ফিটের স্থলে কোনো কোনো পিলারে ৩৫-৪০ ফুট গভীরে ফাইলিং করে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে। ঢালাই কাজে কাদামিশ্রিত বালু, নিম্নমানের পাথর ও মরা পাথর এবং সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীদের বেশ কয়েকজন জানান, তখন বিষয়টি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসে একাধিকবার মোবাইল ফোনে জানালেও কোনো কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই সেতুর গার্ডওয়াল ধুঁয়ে মাটি সরে গিয়ে পাইলিং পিলারের ফাঁটল বেরিয়ে এসেছে। নিম্নমানের বালু-পাথরের সাথে নিম্নমানের সিমেন্ট ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারেই এমনটি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘নূরুল হক এন্ড তৈয়বুর রহমান জেবি’র স্বত্ত্বাধিকারীর মোবাইল ফোনে জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) জৈন্তাপুরের নির্দেশনা মোতাবেক পুরো কাজ হয়েছে। পাইলিং কাজের সময় পশ্চিমপার্শ্বে কয়েকটি পিলার ৩৫ হতে ৪০ ফিটের মধ্যে ঢালাই কাজ করা হয়েছে। ফাইলিং (পিলার) যতটুকু গভীরে গেছে ততটুকুর বিলই আমাকে দেওয়া হবে।
তিনি স্বীকার করেন, সেতুটির পূর্বপাশের প্রধান ফাইলিংয়ের (মেইন পিলার) উপর মূল সেতুর ভারসাম্য রক্ষার জন্য ক্যাপ স্থাপনের স্থানটিতে ফাটলের বিষয়টি শুনেছেন। বলেন, নদীতে পানি থাকায় আমি ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। তবে, সেতুর অন্যান্য কাজ যথা নিয়মে হয়েছে দাবি এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তানভীর আহমদ বলেন, সঠিক নিয়মে কাজ হয়েছে। কোনো সন্দেহ নাই। ‘পানির স্রোত’ বেশি হওয়ায় গার্ডার ভেঙে যায়। এতে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না।
তবে, জৈন্তাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান, কোনো কোনো পিলারে ৩৫-৪০ ফুট গভীরে ফাইলিং ঢালাইয়ের কাজের কথা স্বীকার করে বলেন, ক্যাপে ফাটলের বিষয় তার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এটি প্লাস্টারিং করলে সমাধান হয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে লেখালেখি করে লাভ নেই বলেও জানালেন এই উপজেলা প্রকৌশলী।
জানা গেছে, এর আগে উপজেলার সারী নদীর উৎসমূখে শুকসারী নামে পর্যটন উন্নয়ন করর্পোরেশনের প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি জলঘাট উদ্বোধনের ছয় মাসের মাথায় ভেঙে পড়েছিল। সম্প্রতি চিকারখাল সেতুর এমন অবস্থা দেখে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সাংসদ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft