মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Tuesday, 28 May, 2019 at 6:53 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজানহযরত আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্নিত আছে তিনি বলেন,রাসুল্লুাহ (স:) বলেছেন, যে রোজাদার ব্যক্তি মিথ্যা কথা আর মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করতে পারলো না তার খানাপিনা ত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।(বুখারী)এ হাদিস থেকে স্পষ্ঠ জানা যাচ্ছে যে, রোজা শুধু খানাপিনা ত্যাগ করার নাম নয়। রোজার একটা উদ্দেশ্য আছে । আর রোজার সেই উদ্দেশ্য সর্ম্পকে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন কুরআনে এরশাদ করেন, ‘ইয়া আয়্যুহালালিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলালাজিনা মিন ক্ববলিকুম লায়্লাাকুম তাত্তাকুন’। অর্থাৎ ‘হে ঈমানদার বান্দারা ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভিরুতা অর্জন করতে পার’। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, আল্লাহ তায়ালার দেয়া রোজার আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে খোদাভিরুতা অর্জনের এক মিশন। আর এ মিশন সফল হবে যদি আমরা রোজার প্রকৃত হক আদায় করে রোজা পালন করতে পারি।রোজা যে তাকওয়া অর্জন উদ্দেশ্যে সেই তাকওয়া আসলে কি? হযরত উমর (রা:) একবার হযরত উবায় ইবনে কাব (রা:)কে জিজ্ঞাসা করলেন, তাকওয়া আসলে কি? তিনি তিনি উত্তরে বললেন,হে উমর, কাঁটা যুক্ত পথে অতি সর্তকতার সাথে পথ চলাই হলো তাকওয়া। অর্থাৎ দুনিয়ার সকল শয়তানী মত পথ বাদ দিয়ে শয়তানের সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে আল্লাহর পথে নিজের জীবন পরিচালনা করাই হলো তাকওয়া। পবিত্র রমজানের আসল উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া বা খোদাভীরু লোক তৈরী করা   এবং এটাই আল্লাহর একমাত্র লক্ষ্য। আর আমরা সকলেই জানি যদি কোন ব্যক্তির মনে তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় সর্বদা জাগ্রত থাকে তবে ঐ ব্যক্তির দ্বারা গভীর অন্ধকার রাতেও একটা অন্যয় বা পাপকর্ম করা সম্ভব হবে না কেননা উক্ত  আল্লাহ ভীরু ব্যক্তি খুব ভালো ভাবেই জানবে যে, এই গভীর অন্ধকারে আমার এ পাপ কর্মটি দুনিয়ার অন্য কেউ না দেখলে ও মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন অবশ্যই দেখছেন। রমজানের উপহার সর্ম্পকে আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি রামাযান মাসে যে সওগাত পাঠান তা হচ্ছে আল-কুরআন। আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানকে যত নে‘মত দান করেছেন তার মধ্যে  সর্বশ্রেষ্ঠ নে‘মত হচ্ছে আল-কুরআন। কারণ আল্লাহর অন্য সব নে‘মাত মূলতঃ নশ্বর দেহের পুষ্টি সাধন করে অথবা নশ্বর দেহকে আরাম আয়েশ দান করে থাকে; কিন্তু আল-কুরআন নশ্বর দেহ পালনের যাবতীয় ব্যবস্থা দান করার সঙ্গে সঙ্গে অবিনশ্বর, চিরস্থায়ী রূহের সকল প্রকার কল্যাণের পথ উন্মুক্ত করে। কাজেই মানুষ যে মাসে এই অমূল্য সওগাত আল-কুরআন লাভ করেছে, সেই মাসটি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহান তাতে কোনই সন্দেহ থাকতে পারে না। আল-কুরআনের বিধি নিষেধ পূর্ণরূপে পালন করবার জন্য যে ধৈয্য, যে সাধনা ও যে তিতিক্ষার প্রয়োজন হয় তা অর্জন করবার প্রধানতম পন্থা হচ্ছে নামায ও রোজা,আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর বিধি-নিষেধ পূর্ণরূপে পালন করে চরম রূহানী তরক্কী লাভের জন্য সবরের তথা রোযার এবং নামাযের আশ্রয় লও। এই সকল কারণে আল্লাহ তা‘আলা রমজান মাসের রোজা ফরয করলেন এবং রাসূলুল¬াহ (সা) এই মাসে অতিরিক্ত নফল ইবাদত, অতিরিক্ত দান খয়রাত ও অতিরিক্ত নেক কাজ নিজে সম্পাদন করেন এবং উম্মতকে তাই করতে নির্দেশ দেন। আর এই সকল কারণেই আল্লাহ তা‘আলা  এই মাসে কদর রাত্রির ব্যবস্থা করেন এবং রাসূলুল¬াহ  (সা) মসজিদে শেষ দশ দিবসের ই‘তিকাফ পালন করতে থাকেন ও উম্মতের জন্য সুন্নাতরূপে জারী করে যান।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft