শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সারাদেশ
আদালত চত্বরে নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও আইনজীবীকে হুমকি
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 30 May, 2019 at 8:22 PM
আদালত চত্বরে নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও আইনজীবীকে হুমকিফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ২১ আসামিকে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর পর কোর্ট হাজতে নেয়া ও আদালতে উপস্থিত করার সময় আসামিরা মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান ও বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকনকে অকথ্য গালাগাল ও নানা হুমকি-ধামকি দেন।
বৃহস্পতিবার ছিল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখ। এদিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ১০ জুন ধার্য্য করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকন সাংবাদিকদের বলেন, আজকে আদালত প্রাঙ্গনে আপনারা দেখেছেন আসামিরা কেমন সন্ত্রাসী তারা কাষ্টডি থেকে বের হওয়ার সময় এজহারকারী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। পারলে তারা আজকেই আমাদেরকে সেখানেই খুন করতো। তাদের কিছু আত্মীয়-স্বজনও সেভাবে হুঙ্কার দিচ্ছে। আমরা প্রশাসন নিকট অনুরোধ জানায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ও সংশিষ্ট ওই সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং নুসরাতের পরিবারকে ও আমাকে তারা ইশারা-ইঙ্গিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আজকে আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি এই মামলার শেষ পর্যন্ত আমি লড়বো। প্রয়োজনে আমারও মৃত্যু হবে নুসরাতের মতো। তারপরেও কোনও আসামি বাঁচার সুযোগ নাই। ১৬ জনের মধ্যে ১৬ জনেরই ফাঁসি নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলোচিত মামলা হিসেবে তদন্ত ভার দিয়েছেন পিবিআইয়ের হাতে। তারা পুঙ্খানপুঙ্খরুপে তদন্ত কাজ শেষ করেছে। এছাড়া গোপনে অনেক সংস্থা এই মামলা তদন্ত করেছে। যে ১৬ জন চার্জশীটে অন্তভূক্ত হয়েছে এদেও বাচার কোনও সুযোগ নাই। নারী ও শিশু নির্যাতনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৪ ধারায় মামলাটি আনা হয়েছে তার একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন। যেহেতু পুঙ্খানপুঙ্খরুপে তদন্ত করে পিবিআই অল্পসময়ে চৌকস অফিসার দ্বারা সচিত্র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে তাতে আসামিরা যতই চল চাতুরী করুক তাদের বাঁচার কোনও সুযোগ নাই। এই চার্জশীটে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।
এদিকে মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানও একই অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (২৯ মে) আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে পিবিআই। পিবিআই’র ৮২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে এজহারনামীয় ৮জন, এজহার বহিভূত তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ৮জন। আমরা সকল আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপারিশ করেছি।
এই মামলাটি গত ১০ এপ্রিল থেকে শুরু করে মোট ৫০ দিনে ৩৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্য সমাপ্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এই মামলায় সর্বমোট ৯২ জন স্বাক্ষী মামলাটি প্রমাণ করবেন। এর মধ্যে কার্যবিধির ১৬১ ধারায় ৬৯ জন স্বাক্ষ্য দিয়েছেন অন্যান্য হলেন বিশেষজ্ঞ, বাদি, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিজার লিষ্টের স্বাক্ষী। মামলায় ৭ জন স্বাক্ষী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বাক্ষ্য দিয়েছেন।
১২জন আসামি নিজেদের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় ২১ জনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই নুসরাত হত্যায় ব্যবহৃত বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। এবং নুসরাত হত্যার ঘটনার ধারাবাহিক ডিজিটাল স্কেচ ম্যাপ ও আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. গোলাম জিলাণী জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত অধ্যক্ষ এস.এম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft