সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
সারাদেশ
মুখ থুবড়ে পড়েছে কলাপাড়ার হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Sunday, 18 August, 2019 at 5:56 PM
মুখ থুবড়ে পড়েছে কলাপাড়ার হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা  দেশের সর্ব দক্ষিনে সাগর বেষ্টিত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স দীর্ঘ দিন ধরে প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসাসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যানুযায়ী হাসপাতালটি ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৩১ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৫ সালে ৬ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া হাসপাতালটি প্রষ্টিত হয়। ১২টি ইউনিয়ন দু’টি পৌরসভা প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ ও পার্শ্ববতী রাঙ্গাবালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে ২০১২ সালে ৩১ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায় ,উপজেলায়  ৩৬ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও শুণ্য রয়েছে ২৬ টি পদ। কিন্তু  কর্মরত ১০ জন ডাক্তারের মধ্যে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৫জন। বাকি ৫ ডাক্তারকে কুয়াকাটা ও মহীপুর হাসপাতালসহ ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে হচ্ছে।
এছাড়া উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৬টি পদের বিপরীতে ২টি, তৃতীয় শ্রেণির ১২৯টি পদের বিপরীতে ৩৭টি, চতুর্থ শ্রেণির ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
গুরুত্বপুর্ন শুন্য পদ গুলো হলোÑস্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র কনসালটেন্ট(সার্জারী) , জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইন এন্ড অবস), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক,কান,গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোঃ), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেস),  জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্মওযৌন), প্যাথলজিষ্ট , মেডিকেল অফিসার (ই,এম,ও) এ্যানেসথেটিষ্ট, মেডিকেল অফিসার (ইউঃ, আয়ুঃ, হোমিও), সিনিয়ার ষ্টাফ নার্স-২, পরিসংখ্যান-১, ক্যাশিয়ার-১, ষ্টোকিপার-১, স্যাক-১, ফামাসিষ্টÑ১, ফিজিও-১, ল্যাবঃ টেকÑ২, ডাটাএন্ট্রি-১, টিকিট ক্লাক-১,জুঃ মেকা-১, কুষ্ঠঃ নিঃ-১, ওটিবয়-১, এমএলএসএস-১,আয়া-১, নিঃপ্রহরি-১, কুক-২, সুইপার-২, সহ বিভিন্ন বিভাগের মোট ৩৬ টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার (ইনডোর), ডেন্টাল সার্জন, কম্পাউন্ডার, মেডিকেল টেকঃ(ডেন্টাল), মেডিকেল টেকঃ রেডিও), কার্ডিওগ্রাফার, মেডিকেল টেকঃ (ইপিআই), নাসিং সুপারভাইজার, মিডওয়াইফ, সহকারি নার্স, প্রধান সহকারি, ত্র্যাকাউন্টেন্ট, ড্রাইভার, ল্যাবরেটরী ত্র্যাটেনডেন্ট, ইমারজেনসিত্র্যাটেনডেন্ট, হারবাল এসিসটেন্ট, এম এল এস এস, মালী, ও মেডিকেল অফিসার তিনজন চিকিৎসা কর্মকর্তা আছেন।
হাসপাতালে পরিসংখ্যান অনুযাযী ,বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন এবং আন্তঃবিভাগে প্রায় ১০০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসক ও সার্সেও বেশির ভাগ পদ শুন্য থাকায় বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক ও নার্সদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
এ দিকে ১টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে শুধু মহিপুর মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফার্মাঃ), ১জন চিকিৎসক শুন্য রয়েছে। কুয়াকাটা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শুধু  আবাসিক মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন ১টি এ ছাড়া এখানে নার্স ও মেডিকেল অফিসার এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অনেক পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে কোনো চিকিৎসক না থাকায় সাধারন মানুষ চিকিৎসাসেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
মান সম্মত অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলে লোক বলের অভাবে সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে জরুরি প্রসূতিসেবার (ইওসি) আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ। সেখানে অটোক্লেভ মেশিন ও ওটি টেবিলসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও রয়েছে। এই সরঞ্জামগুলো কয়েক বছর বেশি সময় ধরে পড়ে রয়েছে।
গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় জরুরি প্রসূতি সেবা চালু করা যাচ্ছে না। ফলে এখানে নানা স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কোনো প্রসুতি মা সন্তান জন্ম দিতে পারছেন না। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছে গর্ভবর্তী মা ও শিশুরা। গর্ভবর্তী মায়েদের দুর্ভোগের শেষ নেই। গর্ভধারন থেকে শুরু করে সন্তান জন্মদানের পুরো সময়টাতেই চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে তাদের। যার কারনে গর্ভবর্তী মহিলারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারছেন না। জানতে পারছেন না তাদের করনীয়। এতে ঝুঁকির মধ্যে থাকে মা ও পেটের শিশুচিকিৎসা না পেয়ে সন্তান জন্মদানের সময় নানা জটিলতায় মারা যান অনেক মা ও তার নবজাতক সন্তান।
হাসপাতাল সুত্রে আরো জানা যায়, ডাঃ আবদুর রহিম উপজেলা হাসপাতালে সিজারিয়ান করতেন কিন্তু ২০১৫ সালে ৮ এপ্রিল ডাঃ আবদুর রহিম সিভিল সার্জন হয়ে ঝালকাঠি বদলি হয়ে যাওয়ার র্দীঘ দিন পর হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক পদে যোগদান করেন ডাঃ মীরা মজিদ। যোগদানের পর এক মাস বরিশালে এবং দুই মাস ঢাকায় প্রশিক্ষনের জন্য অবস্থান করেন তিনি। প্রশিক্ষন শেষে কলাপাড়া হাসপাতালে যোগদানের একদিন পরে ডাঃ মীরা মজিদ বদলি হয়ে যায়। এর পর  হাসপাতালের সিজারিয়ান কার্যত্রুম সম্পুর্ন বন্ধ রয়েছে। ফলে এখানে এসে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা সেবা পাচ্ছেন না। তাঁদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পটুয়াখালী জেলা এবং বরিশাল বিভাগে গিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে প্রসূতি অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে। সব মিলে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।  উপজেলার রোগী ও সাধারণ মানুষের দাবি কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর ও পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্র কলাপাড়ায় উপজেলায় স্থাপিত হওয়ায় গুরুত্ব বিবেচনায় এ উপজেলাটি অন্যতম। এলাকার দুটি হাসপাতাল। কিন্তু ডাক্তার নেই। এখানে দেশ ও বিভিন্ন দেশের  পর্যটকরা যেমন ঘুরতে আসে তেমনি কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত রয়েছে। তাই কুয়াকাটা ও কলাপাড়া হাসপাতালের আরও আধুনিকায়ন ও জরুরী চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও চিকিৎসক পদায়ন প্রয়োজন। এজন্য তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছেন।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্মময় হাওলাদার বলেন, চিকিৎসক সঙ্কট ও সিজারিয়ান কার্যত্রুম সম্পুর্ন বন্ধ থাকার কথা উধর্বতন কর্তৃপক্ষ বার বার জানানো হয়েছে। প্রতি মাসে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft