শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সুলতানপুরে আকরামের কলগার্ল সিন্ডিকেট
মাদক কারবার চলছেই
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Saturday, 7 September, 2019 at 6:25 AM
মাদক কারবার চলছেইযশোরের আলোচিত দেহ ব্যবসায়ী ও ব্লাক মেইলিং কলগার্ল সিন্ডিকেটের হোতা সুলতানপুরের আকরাম তার অনৈতিক কর্মকান্ডে এখন মাদক কারবার যোগ করেছে। নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার আগের ঘরের এক মেয়ে এবং তার এক ছেলে বউকে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে তার কলগার্ল ব্যবসা ও দেহ ব্যবসার রমরমা কারবার।
আকরাম চানপাড়ার এক সন্ত্রাসীর সাথে সখ্যতা রেখে চালাচ্ছে ইয়াবা কারবার। মাঝে মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় লোককে তার ডেরায় অবস্থান করিয়ে নিজের শক্তি জানান দিচ্ছে। আকরাম সিন্ডিকেটের অপর নাম ‘কেয়া ও পিয়ার মা সিন্ডিকেট’। কলগার্ল ব্যবসায় খরিদ্দার সংগ্রহে আকরাম পরিচালিত কেয়া-পিয়ার মা সিন্ডিকেট এখন রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসীদের সেল্টার নিয়ে এগিয়ে আছে। অনৈতিক কর্মকান্ডে তার ছেলে আটক হলেও টনক নড়েনি। প্রতিবেশিদের বোকা বানাতে খরিদ্দার ও কলগার্লদের তাদের বিভিন্ন সম্পর্কের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে চলছে আকরাম গং। বছর ৪ আগেও নুন আনতে পান্তা ফুরানো আকরাম গংয়ের সদস্যরা এখন চলছে ঠাঁটে বাটে।
৭ বছর আগে যশোরের নীলগঞ্জে এক দেহ পসারিনির ডেরায় অনৈতিক কাজে গিয়ে সুলতান পুরের আকরামের সাথে পরিচয় হয় আলোচিত কলগার্ল কেয়ার মার। আর ওই ডেরায় নিয়মিত আসা যাওয়ার সুবাদে এই কেয়ার মায়ের সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুলতানপুরের মাদক কারবারী আকরামের। আর শেষেমেষ এক মেয়ে ও এক ছেলেসহ ওই কেয়ার মাকে বিয়ে করে এই আকরাম। সেখান থেকে শুরু তাদের নতুন সিন্ডিকেট। কলগার্ল আর দেহপসারিনি বাজারে নাম হয় আকরাম পরিচালিত ‘কেয়া-পিয়ার মা সিন্ডিকেট’। আকরাম ওই কেয়া পিয়ার মাকে নিয়ে শহরের কয়েকটি ফ্লাট ভাড়া করে চালায় কলগার্লের রমরমা কারবার। ডজন দেড়েক কলগার্ল এই চক্রের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যম ও সাধারণ কলগার্ল এই চক্রে বেশি। প্রিয়াংকা, অনন্যা, সাগর, জুঁই, লাবনী, রানী, জুলেখা, অনামিকা, সোহেলীসহ আরও নানা নাম ধারণ করে চিহ্নিত কিছু কলগার্ল আকরাম সিন্ডিকেটের ডেরা সমৃদ্ধ করছে। সিন্ডিকেটটি এখন এতোটাই বেপরোয়া আর নির্লজ্জ হয়ে পড়েছে, তারা ব্যবসায় আরও বেশি লাভ ও মুনাফার জন্য নিজের স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ে ও ছেলে বউকে দিয়ে করাচ্ছে কলগার্লের জমজমাট ব্যবসা। এখন এই ব্যবসা চলছে খোদ সুলতানপুরে আকরামের নিজের বাড়িতে। ইজিবাইকযোগে আত্মীয় সাজিয়ে আনা হচ্ছে খরিদ্দার। আবার কলগার্ল স্ত্রী কেয়া-পিয়ার মা খ্যাত মহিলার নেতৃত্বে মেয়ে ও ছেলে বউ সুলতানপুরের বাড়িতে ছাড়াও বাইরেও যাচ্ছে। নাম মাত্র জামাই সেজেও আছে কয়েকজন। প্রতিনিয়ত আত্মীয় পরিচয়ে খরিদ্দাররা আসা যাওয়া করছে। বাড়ির সামনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মটর সাইকেল, এমনকি প্রাইভেট দাড়িয়ে থাকে মাঝে মধ্যেই। আর এক ঘন্টা আধা ঘন্টা পরে ওগুলো একেএকে সরে যায়। এভাবে টাকা কামিয়ে নেয়া হচ্ছে এই বিনা পুঁজির ব্যবসায়। প্রতিবেশিরা  এতো লোকজনের আসা যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে আকরাম ও তার কলগার্ল স্ত্রীর মুখস্ত বক্তব্য, কেউ ছেলে বউয়ের বাড়ির আত্মীয়, কেউ আকরামের বন্ধু, কেউ কেয়া-পিয়ার মায়ের বাবার বাড়ির লোকজন আরও কতকি! আবার কেউ মেয়ের শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়।
প্রতিবেশিদের চোখে ধুলো দিয়ে নানা মিথ্যা বুলি আওড়িয়ে পরিবেশ বিঘিœত করা এই আকরাম ও কেয়া পিয়ার মা সিন্ডিকেট যশোর শহরে ৫/৭টি আবাসিক হোটেলেও কলগার্ল সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে। আবার সুলতানপুরের বাড়িতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন মাঝে মধ্যে অবস্থান করছেন আর সময় কাটিয়ে বেরিয়ে আসছেন, এমন চিত্রও চোখে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কয়েকজন দারোগা এই বাড়িতে আসা যাওয়া করেন বলে তাদের অভিযোগ।
কলগার্ল ব্যবসায় টাকা তিন ভাগে ভাগ হচ্ছে। একটি আকরাম সিন্ডিকেট, কলগার্ল আর তৃতীয় হচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগী দালাল ও হোটেল সংশ্লিষ্টরা। বাসা বাড়ির ডেরায় সিন্ডিকেট ও কলগার্লের চার্জের পাশাপাশি ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয় খরিদ্দারদের। আর দু’হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় খরিদ্দার প্রতি এক ঘন্টা সময় কাটাতে। খরিদ্দারের পছন্দ মত জায়গায় কলগার্ল চাইলে সেখানে রুম ভাড়া কমলেও আকরাম মটরসাইকেল ভাড়া হিসেবে ‘কলগার্ল ট্রাভেল চার্জ’ অতিরিক্ত দুশো টাকা হাতিয়ে নেন।
সূত্র জানায়, গত ৫ বছর ধরে যশোর শহর ও শহরতলীসহ আরও কয়েকটি এলাকা চষে বেড়াচ্ছে কলগার্লদের হোতা আকরাম পরিচালিত এই কেয়া পিয়ার মা চক্র। কলগার্ল ও খরিদ্দারের সাথে মোবাইলে চুক্তি করে বিকাশে টাকা নিয়ে থাকে এই সিন্ডিকেট। আর পাঠিয়ে দিচ্ছে চক্রের পছন্দের ডেরায়। আর এই চক্রে বিভিন্ন নামে আত্মীয় পরিচয়ে থাকা কয়েক কলগার্লকে দিয়ে ফিল্মি স্টাইলে ব্লাকমেইল করাচ্ছে আকরাম।
চলতি বছর কলগার্ল সিন্ডিকেট পরিচালনার পাশাপাশি আকরাম গং মাদক কারবারে লিপ্ত হয়েছে। দৃশ্যত তার কোনো কাজ না থাকলেও সারাদিন মটরসাইকেলে মোড়ে মোড়ে তাকে দেখা যায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য। ফতেপুর, হামিদপুর, সুলতানপুর, চানপাড়া, দেয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সাপ্লাইয়ের কাজ করে। তার ইয়াবা ব্যবসা ও কলগার্ল সিন্ডিকেটের ঢাল হিসেবে কাজ করছে চানপাড়ার এক সন্ত্রাসী। ওই সন্ত্রাসীকে পুঁজি করে এলাকার লোকজনকে ভয় দেখাচ্ছে আকরাম। নিহত এক সাবেক সন্ত্রাসীর ছেলের রাজনৈতিক সেল্টারে থেকে ওই আকরাম সিন্ডিকেটকে ইন্ধন দিচ্ছে। তার সাথে এখন চানপাড়ার আলোচিত এক সন্ত্রাসী যোগ দেয়ায় সে কাউকে কর্ণপাত করছে না। তার ছেলেকে গাঁজাসহ আটক করলে সে একদিনের মধ্যেই থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আকরামসহ ওই চক্রের লোকজনকে আটক দাবি করেছেন স্থানীয়রা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft