মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
জাতীয়
ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে পারিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা : খন্দকার মাহবুব
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 26 October, 2019 at 8:42 PM
ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে পারিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা : খন্দকার মাহবুব‘ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ না করতে পারা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের দুর্ভাগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে আইনজীবী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মাহবুব বলেন, এই সরকার দুর্নীতি, লুট, গুমসহ কোনও কুঁকর্মই বাদ দেয় নাই। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দল থেকে যে ধরণের নেতৃত্ব আসার কথা ছিল, তা আসে নাই। আমরা সেই কারণে ক্ষুদ্ধ।
একটি নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করতে পারলাম না এই অবৈধ নির্বাচনের বিরুদ্ধে। এটা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের দুর্ভাগ্য। একটি সরকার দেশের ওপর অত্যাচার, অনাচার, অবিচার করে যাচ্ছে। আমরা প্রেস ক্লাবে বক্তব্য দেওয়া ছাড়া জনগণকে নিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি আজকে ওয়াদা করে যাচ্ছি- ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবে। এই অবৈধ সরকারের কোনও বৈধতা নাই। জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। সাংবিধানিকভাবে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার নেই।’
তিনি আরও বলেন, আজকে এই সমাবেশ থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। তারপর নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশের বুকে একটি বৈধ সরকার গঠন করতে হবে। এর ব্যতয় ঘটলে আমরা জনগণকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করবো এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত।
বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে এমন দাবি করে খন্দকার মাহবুব বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য নীতিমালা করে বলা হলো – শৃঙ্খলাবিধিসহ সব ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হলো। সুপ্রিম কোর্টকে ‘সাক্ষী গোপাল’ হিসেবে অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই কারণে আজকে নিম্ন আদালতে টেলিফোনের ওপরে বিচার হয়, জামিন হয়। এই অবস্থা চলতে পারে না।
মিথ্যা মামলায় নয় প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এমন দাবি করে তিনি বলেন, আজকে রাজপথ উত্তপ্ত করে সরকারকে বাধ্য করতে হবে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় একজন অসুস্থ মহিলা, চলাফেরা করতে পারেন না। বলেছিলাম তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক, কিন্তু সেই চিকিৎসাও তিনি পাচ্ছেন না। খালেদা জিয়া যদি আমাদের মধ্যে থেকে চলে যান, বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিলুপ্ত হবে। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থে, মানবাধিকারের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে আমরা বলতে চাই, যদি অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে অরাজকতা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাবে।
অনেকক্ষেত্রে বিএনপি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এমনটি স্বীকার করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন মিথ্যা মামলায় কারাগারে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই অনেকক্ষেত্রে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বানচাল করে দিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবি করতে পারতাম। আমাদের দুর্ভাগ্য সেটা আমরা পারি নাই। সারা বাংলাদেশে আমাদের জাতীয়তাবাদী শক্তি উজ্জীবিত আছে, হাজার হাজার কর্মী আছে। তাদেরকে নিয়ে আমরা মাঠে নামবো।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft