মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
শিক্ষা বার্তা
৫৫ বছরেও এমপিও’র তালিকায় আড়ানী দাখিল মাদ্রাসা নাম না থাকায় শিক্ষকরা হতাশ
রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Sunday, 27 October, 2019 at 3:12 PM
৫৫ বছরেও এমপিও’র তালিকায় আড়ানী দাখিল মাদ্রাসা নাম না থাকায় শিক্ষকরা হতাশত্রিশ বছর যাবত বেতন ভাতাদি ছাড়াই চাকুরী করে আসছেন সহকারী মাওলানা শিক্ষক মকবুল হোসেন। এভাবেই ২৩ বছর চাকুরি করছেন হারুন-অর-রশিদ। তাদের মতো বেতন ছাড়াই চাকুরি করছেন আর একজন মোশারফ হোসেন, তোফাজ্জল হোসেনসহ পনের জন শিক্ষক কর্মচারী। তারা যে মাদ্রাসায় চাকরি করেণ তার বয়স হয়েছে পঞ্চান্ন বছর।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিনে মাইনাই (বেতন) চাকরি করছেন তারা। আশায় ছিলেন এমপিওভুক্ত হলে বেতন-ভাতাদি পাবেন। কিন্তু পঞ্চান্ন বছর পরেও সেই স্বপ্ন এবারো পূরণ হলোনা। সম্প্রতি সরকারের এমপিও ভূক্তির তালিকায় নাম নেই মাদ্রাসাটির। যার ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন ১৫ জন শিক্ষক কর্মচারী। বিশেষ করে অবসরে যাবেন এমন শিক্ষকরাই হতাশ বেশি। বর্তমানে মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২শত ৮৭জন ।
প্রতিষ্ঠিত আড়ানি দাখিল মাদ্রাসাটি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এলাকা আড়ানী বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত। ১৯৬৪ সালের ১ জানুয়ারী ৭৮শতাংশ জমির উপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেন আড়ানির বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম ভোলাই হাজী। তার জীবদ্দশায় নিজের অর্থ দিয়েই শিক্ষকদের বেতন দিতেন। পরবর্তী সময়ে দেখভাল করেণ আলহাজ্ব মরহুম মুজিবর রহমান, আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ প্রাং এবং মরহুম মাওঃ আব্দুল মাজেদ। বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিজানুর রহমান।
মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হানিফ জানান, মাদ্রাসাটি ১৯৯১ সালে এবতেদায়ী মঞ্জুরি পায়। ১৯৯৮ সালে দাখিলে উন্নতি করা হয়। ২০০০ সালের ১ জানুয়ারী পাঠ দানের অনুমতি পায়। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারী একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে ২শত ৮৭জন ছাত্র-ছাত্রী লেখা-পড়া করছে। শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন ১৫ জন।
দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৯ সালে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাশ করেছে ১৭জন। ২০১৮ সালে ২০ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১৯জন।২০১৭ সালে২৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ১৯জন। মাদ্রাসাটি এমপিও ভূক্তির জন্য মাদ্রাসা বোর্ডের সকল শর্ত পূরণ করেছেন। গত বুধবার প্রকাশিত এমপিও ভূক্তির তালিকায় তার মাদ্রাসার নাম নেই বলে জানান সুপার আবু হানিফ।
সহকারী মাওলানা শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন, চাকুরীর বয়স প্রায় শেষ। আর মাত্র ৬ মাস চাকুরী রয়েছে। এমপিও হবে, বেতন ভাতাদি পাব এই আশায় চাকুরী করে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, বেতন ছাড়াই অবসরে যেতে হবে। এর আগেও তিনজন শিক্ষক অবসরে গেছেন।
সিনিয়র আরেক শিক্ষক মাওলানা মাওলানা হারুন-অর-রশিদ বলেন, চাকরির বয়সে বেত-ভাতাদি পাবেন বলে আশঅ করতে পারছেননা। সকল শিক্ষক কর্মচারি আশায় ছিলেন এবার এমপিও ভূক্ত হলে বেতন ভাতাদি পাবেন। কিন্তু সেটাও হলো না। মাদ্রাসার ফান্ড থেকেও কোন বেতন পাননা। অফিস পিয়ন মামুন আলী বলেন, সংসার চালানোর তাগিদেই মাদ্রাসা ছুটির পরে ইটভাটায় কাজ করতে হয়। এ কাজ করে কোন হালে দিন পার করি।
মাদ্রাসাটির কার্যকরি কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ফান্ড থেকে তারা কোন বেতন পাননা। মাদ্রাসার জমিতে লাগানো কযেকটি আমগাছের আম বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই প্রতিষ্ঠানটির আনুসাঙ্গিক খরচ চলে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft