মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ইজতেমায় জুমার নামাজে লাখো মুসল্লির ঢল
আশিকুর রহমান শিমুল :
Published : Saturday, 7 December, 2019 at 6:36 AM
ইজতেমায় জুমার নামাজে লাখো মুসল্লির ঢল শুক্রবার জুমার নামাজে যশোরের আঞ্চলিক জোড় ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল নামে। মূল ময়দানে জায়গা না পেয়ে অসংখ্য মুসল্লি রাস্তা, সড়ক ও খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করেন। জুমার নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশের আলমী শুরার সদস্য তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা রবিউল হক। তাছাড়া শুক্রবার বাদ আসর বয়ান করেন মাওলানা সানাওয়ার (ভারত)। বাদ মাগরিব বয়ান করেন মাওলানা জিয়াউল হক (পাকিস্তান)। জুমার নামাজে রাজনৈতিক, সামাজিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সারথী টেক্সটাইল মিল, যশোর-মাগুরা মহাসড়কের কাছাকাছি, বিরামপুর, বাবলাতলা পর্যন্ত জুড়ে নামাজে দাঁড়ান মুসল্লিরা। কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হয় এই নামাজ। জায়গা না থাকায় খবরের কাগজ, জায়নামাজ, পলিথিন ও পাতা বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন। অনেকে খালি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন। বাদ ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা ঈমান, আমল ও দাওয়াতের মেহনত সম্পর্কে ফজিলতপূর্ণ বয়ান করেন।
জোড় ইজতেমা ময়দানের প্রধান জিম্মাদার মাওলানা নাসির উল্লাহ জানিয়েছেন, সকালেই মজমা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আগত মুসল্লিরা সারাদিন ইবাদত বন্দেগির মধ্যে দিয়ে সময় পার করছেন। বৃহৎ জমায়েতে নামাজ আদায়ের ফজিলত থাকায় মুসল্লিদের উপস্থিতি লাখে  পৌঁছে বলে মনে করেন অনেকেই।
এদিকে, ছুটির দিন হওয়ায় শহর, শহরতলি এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ দলে দলে যোগ দেন জুমার নামাজ আদায় করার জন্যে। নামাজের সময় শহর প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। জুমার নামাজের আগে ইজতেমাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই নামাজ আদায়ের জন্যে মূল মাঠে পৌঁছাতে পারেননি। তারা রাস্তার ওপরে, বাড়ির ছাদে শরিক হয়েছেন জামাতে। এতো মানুষের সমাগম ঘটলেও সুশৃঙ্খলভাবেই নামাজ শেষ হয়।
বিরামপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম স্বপরিবারে এসেছিলেন ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ আদায় করতে। তিনি বলেন, বেশি মানুষের সাথে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর খুব ভালো লাগে সে জন্যে আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে এসেছি জুমার নামাজ আদায় করতে। এতো বিশাল জামাতে জুমার নামাজ আদায় করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। তবে, মাইক ভালো হলে সবকিছু বোঝা যেত। জুমার খুতবা বা সুরা কেরাত অনেক সময় শোনা যাচ্ছিল না। তবুও ভালো লেগেছে।
শহরের খড়কি এলাকার শাহাদৎ হোসেন জানিয়েছেন, এর আগেও  দু’বার জেলা ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ এবং মোনাজাতে শরিক হতে এসেছিলেন। গতকালও আসেন। মাদারিপুর থেকে আসা হাজী মহিবুল্লাহ জানান, তারা এক সাথে ২৩ জন এসেছেন। এখানে থাকা, খাওয়ার কোনো সমস্যা নেই। তবে, হালকা শীতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আর পাতলা পলিথিন দিয়ে বাসা করাতে বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। ফলে, প্রচ- ঠান্ডা লাগছে। তাই ঠিকমত ঘুমাতে পারছিনা। তবুও যেহেতু আল্লাহর রাস্তায় এসেছি তাই চিন্তার কিছু নেই। সবকিছু মহান মালিক ঠিক করে দেবেন। আমরা আশা করছি এখান থেকে আরও কিছু সঙ্গী সাথী নিয়ে ৪০ দিনের তাবলীগের চিল্লায় যাব।
আজ শনিবার সকাল ১০ টায় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার মুরুব্বি মাওলানা আব্দুর রহমানের বিশেষ মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে জোড় ইজতেমা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft