সোমবার, ১০ মে, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
আইসোলেশনে ভর্তি নারীকে নিয়ে আতংক
চৌগাছা পৌর মেয়রের সাহসী উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা (যশোর) :
Published : Monday, 30 March, 2020 at 7:41 PM
চৌগাছা পৌর মেয়রের সাহসী উদ্যোগ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সর্বত্র যেখানে নীরব আতংক বিরাজমান ঠিক সেই সময়ে আইসোলেশনে ভর্তি নারীকে নিয়ে আতংক ঠেকাতে যশোরের চৌগাছা পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। ১৮ বছরের এক নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ঠ এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় পৌর মেয়র ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিহ্নিত বাড়ীটি তালা লাগিয়ে দেন ও ওই এলাকা প্রশাসনের সহযোগিতায় লকডাউন ঘোষনা করেন। প্রতিকুল পরিস্থিতে অনেকে বাঁধা প্রদান করলেও তিনি সেই বাঁধা মানেননি বলে অনেকে জানিয়েছেন। তাঁর এই সাহসী উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ধন্যবাদ জানান।
জানাগেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটে পৌর এলাকার কালিতলা নামক স্থানের ভাড়া বাসিন্দা ১৮ বছরের এক নারী হাসপাতালে আসেন। ওই নারীর জ্বর, গলা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা ও নানা উপসর্গ দেখে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে করোনা পজেটিভে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করেন। এ অবস্থায় দ্রুত তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে রেফার করেন। এছাড়া যশোর থেকে তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা আইইডিসিআর এ পাঠানো হয়। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গোটা উপজেলায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ওই নারীর বসবাস স্থান কালিতলা এলাকায় অনেকটা পিনপতন নিরবতা অবস্থা বিরাজ করে।
এই ঘটনা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল ও গণমাধ্যকর্মীদের মধ্যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। প্রথম পর্যায় ওই নারীর নাম ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছিলনা। কখনো মহেশপুর, কখনো হাকিমপুরের নাম শোনা গেছে। একপর্যায় পৌর মেয়র নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহারের সহযোগিতায় আইসোলেশনে ভর্তি থাকা ওই নারীর সাথে ফোনে কথা বলে নাম ঠিকানা জেনে নেন। করোনা ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না যায় সেজন্য এই মুহুূর্তে কি করণীয় তা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে প্রশাসন মহলে। এই অবস্থায় ওই নারীর বসবাসের বাড়ীটি সংরক্ষিত করার মানসে দ্রুত ছুটে যান পৌর মেয়র। বিশেষ সেপটি পোষাক ছাড়া সেখানে না যাওয়ার জন্য অনেকে বাঁধা দেন। তারপরও তিনি কারো কথা কর্ণপাত না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীর বসবাসের বাড়ীটি তালা মেরে দেন। একই সাথে নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে ওই বাড়ীসহ আশেপাশের ৩টি বাড়ি লকডাউন করেন। এর পরপরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তা সকলকে বাড়ীতে অবস্থান করার নির্দেশনা জারি করেন।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর নাম “র” আদ্যাক্ষর দিয়ে শুরু। রংপুর জেলার পীরগঞ্জে তার বাড়ী। দীর্ঘদিন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় বৈবাহিক সূত্রে বসবাস করতেন। কিন্তু তার স্বামীর সাথে তালাপ্রাপ্ত হয়ে অত্র এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকতেন। পরবর্তীতে উপজেলা হাকিমপুর গ্রামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় চৌগাছা পৌর এলাকার কালিতলায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। ওই নারী অসুস্থ্য হলে খুশি নামের এক মহিলা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কালিতলা, হাকিমপুর ও ব্যাপারী মার্কেটের দ্বিতীয় তলাসহ মোট ৫টি বসবাসের স্থান লকডাউন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতালের ভূমিকার পাশাপাশি পৌর মেয়রের ভূমিকাও ছিল প্রশংসার মত এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ এলাকার মানুষ।
পৌর মেয়রের ভূমিকার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌর মেয়রের তৎপরতায় আমরা মুগ্ধ। বরাবররই তিনি প্রশাসনের সকল কাজে আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফুন্নাহার বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলা কারো একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। সকলে মিলে পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রন করেছি। পৌর মেয়রের যথেষ্ট সহযোগিতা আমরা পেয়েছি।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনভাবেই ভয়াবহতা সৃষ্টি করা যাবেনা। যেখানেই সমস্যা তৈরি হবে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কতৃপক্ষ, পুলিশ, বিভিন্ন রাজনীতিক নেতা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমিও চেষ্টা করছি সহযোগিতা করতে। দেশের সংকট সময়ে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করা এখন খুবই জরুরী।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft