বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১
সারাদেশ
কালকিনি পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ৭ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ
মাদারীপুর সংবাদদাতা :
Published : Saturday, 18 April, 2020 at 10:34 AM
কালকিনি পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ৭ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগমাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার মেয়র মো. এনায়েত হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত দরিদ্রদের প্রদানের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের বরাবর দুর্নীতির অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার বিকেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৮ জন ভুক্তভোগী কাউন্সিলরা।
এদিকে মেয়রের দাবি তার নিজের লোক দিয়ে প্রতি ওয়ার্ডে চাল দেয়া হয়ে গেছে। পৌরসভার খাদ্য গুদামে গিয়ে কোনও চালের বস্তা পাওয়া যায়নি। কিছু চাল মাটিতে পরে থাকতে দেখা গেছে। ত্রাণ না পেয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে হত দরিদ্রদের জন্য মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা থেকে কালকিনি পৌরসভার হত দরিদ্রদের জন্য ৪ কিস্তিতে ৭ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই চাল ও নগদ অর্থ কাউন্সিলরদের না জানিয়ে মেয়র উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন ৮ জন কাউন্সিলর।
এর মধ্যে ১, ২, ৩, ৫, ৭, ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ১,২ ৩ ও ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর রয়েছেন। কালকিনি পৌরসভার কাউন্সিলরা মেয়র কোনও সভা না করে এই চাল উত্তোলন করেছেন। কোথায় তা বিতরণ করেছেন তার কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পৌরসভার হত দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারের ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভা থেকে মার্চ মাসের ২৫ তারিখে দেড় মেট্রিক টন, ২৯ মার্চ ০.৩৭৫ মেট্রিক টন, ৬ এপ্রিল ২ মেট্রিক টন, ৮ এপ্রিল ৩ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়। যা কালকিনি উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভার কয়েকটি এলাকার সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের বলেন, এ পর্যন্ত আমরা সরকারি কোনও ত্রাণ পাইনি। মেয়র ত্রাণ উঠিয়ে নিজে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ত্রাণ না পেয়ে এলাকাবাসী এসময় বিক্ষোভ করেন।
কালকিনি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএম তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গত ৮ তারিখ থেকে এই পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত টন চাল এসেছে কিন্তু আমরা কেউ সেটা জানি না, আমাদের জানানো হয়নি। আমারা খাদ্যগুদামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি। এরপর পৌরসভার গুদামে গিয়ে দেখি কোনও চাল নাই।
২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অলিল হাওলাদার জানান, আমরা এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না, কাউকে সরকারিভাবে কোনও সহযোগিতা করতে পারছি না। মেয়র একাই সব চাল আত্মসাৎ করেছে।
১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাসির শিকদার জানান, মেয়র চাল আত্মসাৎ করেছে তাই ডিসির কাছে আমরা ৮ জন কাউন্সিলর অভিযোগ দিয়েছি। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ হলেও কোন কাজ হয় নাই। তিনি একের পর এক অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
কালকিনি উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে বরাদ্দকৃত জিআর চাল বিভিন্ন তারিখে কালকিনি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ উত্তোলন করেন। মোট বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ৬ হাজার ৯৮৫ কেজি।
মাদারীপুরের কালাকিনি পৌরসভার মেয়র এনায়েত হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সাড়ে ৬শ’ লোককে দেয়ার জন্য আমি চাল বরাদ্দ পেয়েছি। আমি পৌরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে চাল বিতরণ করেছি। পৌরসভার ৮ জন কাউন্সিলর গত চার বছর ধরে পৌরসভার কোনও মিটিংয়ে আসেন না। আমি ডাক মারফত ঐ কাউন্সিলরদের পৌরসভায় আসার জন্য অনেক চিঠি পাঠিয়েছি। এই মহামারির মধ্যেও তারা পৌরসভায় আসে নাই এবং গরীব অসহায় মানুষকে কোনও সহযোগিতা করে নাই। চার জন কাউন্সিলর যারা সব সময় পৌরসভায় আসে তারা তাদের এলাকায় চাল দিয়েছে এবং যে কাউন্সিলররা আসে না তাদের ওয়ার্ডে আমি আমার লোকজন দিয়ে চাল বিতরণ করেছি। সে হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডের ৭০ জন সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছি। ডিসি মহোদয় তদন্ত করে দেখুক আমি চাল দিয়েছি কি-না?
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোনও ভয় নেই। ডিসি স্যার যা দিয়েছে তার চেয়ে বেশি আমি মানুষকে দান করেছি।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, কালকিনি পৌরসভার কাউন্সিলরা আমার কাছে একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয় আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছি বিষয়টি তদন্ত করে ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা তাদের এলাকার জনগনকে ত্রাণ সহযোগিতা করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলেছি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft