মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সারাদেশ
কলাপাড়ায় ৪০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Tuesday, 21 April, 2020 at 4:59 PM
কলাপাড়ায় ৪০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো  পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ও খাপড়াভাঙ্গা ইউনিয়নে মাঝ দিয়ে প্রবাহমান নদীর তারিকাটা পয়েন্টে একটি ব্র্রিজ নির্মান না হওয়ায় ১৫ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসী একটি সেতুর জন্য বিভিন্ন মহলের কাছে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ২০০৫সালে এলাকার লোকজনের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মান করা হয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে বাঁশ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর সাঁকো মেরামত করা হয়নি। এলাকার লোকজন আলহাজ্ব মো. মাহবুর রহমান তালুকদার এমপির সাথে যোগা যোগ করলে তার উদ্দ্যেগে ২০১৪ সালে তিন টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এলাকার লোকজর চাউল বিক্রি করে এলাকার লোকজন বাঁশ ক্রয় করে আবার বাঁশের সাঁকোটি পুনঃনির্মান করে। এর পর কয়েক বছরের মধ্যে আবার সাঁকোর বাঁশ গুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। এলাকার লোকজন আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদা তুলে সাঁকোটি মেরামত করে। বর্তমানে সাঁকোটির দরি ও বাঁশ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দু’টি ইউনিয়নের  ১৫ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। নদীর উওর পাড়ে তারিকাটা ,নয়াকাটা, নয়াকাটা দিওর, বেীলতলী , বেীলতলীপাড়া , মুসলিমপাড়া , খেচাউপাড়া , বেতকাটা , বেতকাটাপাড়া, বেতকাটাচর , সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া, নদীর দক্ষিনপাড়ে কাজিকান্দা , সুরডগি, বরকুতিয়া, খাপড়াভাঙ্গা ,মনসাতলীসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় রাখাইন মন্দির মিশ্রিপাড়া ও লক্ষী এবং শিববাড়ীয়াবাজার যেতে পার হতে হয় এ বাঁশের সাঁকো। ফলে স্কুল ,মাদ্রাসা ও কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে এবং অসুস্থ ও গর্ববতী মায়েদের নিয়ে কষ্টের কোনো শেষ থাকেনা। চরম ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে ঘটেছে অহরহ দুর্ঘটনা।
মিশ্রীপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তারিকাটা দাখিল মাদ্রাসার একাধিক ছাত্র ছাত্রী জানান , ওই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন সাইকেল ও বই কাঁদে নিয়ে পারাপার খুবই কষ্ট হয়। অনেক গুলো বাঁশও দড়ি পচেঁ নষ্ট হয়ে গেছে যে কোনো সাইকেল ও বই নিয়ে ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে যেতে পারে। যদি সরকার এই জায়গা একটি ব্রিজ নির্মান করতে তাহলে এই লাঘব থেকে রক্ষা পেতাম।   
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে , ধুলাসার ও ডাবলুগজ্ঞ দুটি ইউনিয়নের মাঝখানে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে রয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। এ নদীর উওর পাড়ে নয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারিকাটা দাখিল মাদ্রসা এবং দক্ষিন পাড়ে মিশ্রিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খানাবাদ ডিগ্রিকলেজ। শিববাড়ীয়াÑলক্ষীবাজার প্রাচীন বড়হাট। সপ্তাহের একদিন শনিবার ও বৃহসপতিবার এ হাট বসে। দূরদূরন্ত থেকে কৃষিপন্য ও মালামাল মাথায় করে এলাকাবাসীকে এ সাঁকো পার হয়ে হাটে যেতে হয়। তাছাড়া অনন্তপাড়া থেকে মহিপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা না হওয়া ওই সব এলাকার লোকজন তারিকাটা পয়েন্টে বাঁশের সাকো দিয়ে লক্ষীর বাজার হয়ে পাকা রাস্তা সহজে মহিপুর বাজারে যাতায়ত করে।
ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাট গ্রামের সাবেক মেম্বর মো.নোয়াব আলী হাওলাদার জানান ,এলাকার রাস্তাঘাট পাকা ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ব্রিজ নির্মান না হওয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এ এলাকায়। ডাবলুগজ্ঞ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আ: ছালাম শিকদার জানান, ওই সাঁকোটি খুবই জনগুরুত্বপুর্ন ও মানুষের জনস্বার্থে একটি ব্রিজ নির্মান করা উচিত। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারা সম্ভব না। কারন এত বড় বরাদ্দ কখনই করে না। এমপি সাহেব ব্রিজটি জনস্বার্থে  করলে করতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলার চেয়ারম্যান এস,এম,রাকিবুল আহসান জানান, উপজেলা পরিষদের এতো বড় বরাদ্দ নেই। নদীটি অনেক বড়।
কলাপাড়া উপজেলা এল জি ইডি প্রকৌশলী মো.মান্নান জানান, ওই সেতুটি খাপড়াভাঙ্গা ও ধুলাসার ইউনিয়নের মাঝ খান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তাই এক চেয়ারম্যান উপজেলার মিটিং আলোচনা করলে কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখতাম।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft