রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সারাদেশ
নওগাঁর ধামইরহাটে করোনার প্রভাবে ১২ লক্ষ টাকার ফুল নষ্ট
মোফাজ্জল হোসেন, নওগাঁ অফিস :
Published : Tuesday, 21 April, 2020 at 6:24 PM
নওগাঁর ধামইরহাটে করোনার প্রভাবে ১২ লক্ষ টাকার ফুল নষ্টনওগাঁর ধামইরহাটে করোনার প্রভাবে এক ফুলচাষীর ১২ লক্ষ টাকার ফুল ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। ্এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ফুলচাষ করলেও বর্তমানে বিরাট অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরকারের কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ফুল চাষী। জানা গেছে, এলাকার ফুলচাষী হিসেবে পরিচিত উপহার নার্সারীর স্বত্বাধিকারী মো.আবু তালেব মন্ডল জাকারিয়া। লীজকৃত দুটি বাগানে ফুল চাষ করে তার নিয়ন্ত্রণাধীন দুটো দোকানে প্রতিদিন ফুল বিক্রি করতেন তিনি। অন্যান্য বছর ফুল চাষ ও বিক্রয় করে স্থায়ী ৮জন এবং মওসুমে প্রায় ২শত কর্মচারীর বেতনভাতা পরিশোধ করে মোটামুটি স্বচ্ছলভাবে চলতো তার সংসার। এটিই তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। এবার বড় পরিসরে এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত মঙ্গলবাড়ী শহীদ আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ একর এবং এবং ধামইরহাট পৌরসভার বেড়াডাঙ্গা গ্রামে ৯ একর মোট ১৩ একর জমিতে তিনি ফুল চাষ করেছেন। বর্তমানে তিনিসহ ৮জন কর্মচারী বাগানে কাজ করছেন। এসব বাগানের ফুল তিনি নওগাঁ,রাজশাহী,যশোর,ঠাকুরগাঁও,লালমনিরহাট,দিনাজপুর,খুলনা,পঞ্চগড়,গাইবান্ধা,বগুড়াসহ  বিভিন্ন স্থানে পাইকারীভাবে বিক্রি করেন। এবার তিনি বাগানে গোলাপ,বেলী,রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুল চাষ করেছেন। ফুলগুলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা,্স্বাধীনতা দিবস,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান,১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। এছাড়া বিয়ে,সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রচুর ফুল বিক্রি হতো। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারী,মার্চ এবং এপ্রিল মাসে প্রায় ২শত জন নারী শ্রমিক শুধু ফুল উঠানো ও ফুলের স্তবক নির্মাণ করতো। গত বিজয় দিবস ভালোভাবে ব্যবসা হলেও মাতৃভাষা,স্বাধীনতা দিবস,১লা বৈশাখে কোন ফুল বিক্রি হয়নি। করোনার প্রভাবে প্রায় তিন মাস থেকে ফুলের সকল ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফুল বাগানে নিয়মিত পানি দিয়ে ফুল ও ফুলগাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দির্ঘদিন ধরে বাজারে ফুলের চাহিদা না থাকায় বর্তমানে ফুল নষ্ট হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। এই দুই বাগানে বছরে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি হতো। লাভতো দূরে থাক আসল টাকা ওঠানো কোন সম্ভাবনা নেই। প্রতি বছর থাকে জমির মালিককে লীজ বাবদ প্রায় ৪ লক্ষ টাকা দিতে হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে কর্মচারীদের নিয়ে তিনি বেকার হয়ে পড়েছেন। ফুলচাষী জাকারিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,আমার সকল অর্থ ফুল বাগানো বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু এখন বাগান থেকে কোন আয় পাওয়া যাচ্ছে না। সকল ফুল নষ্ট হয়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। সরকারি সহায়তা ছাড়া আমি ঘুরে দাঁড়াতো পারবো না। এ বিষয়ে ফুলচাষী জাকারিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর সরকারি আর্থিক সহায়তা চেয়ে একটি আবেদন করেছেন। এব্যাপারে এলাকার বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন,জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি এবং বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যাপক ফুলের চাহিদা থাকে। কিন্তু পুরো তিন মাস ধরে সকল অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ। এছাড়া এই এলাকার সকল অনুষ্ঠানের ফুল সরবরাহ করেন ফুলচাষী জাকারিয়া। তার ফুল বাগানকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনা দেয়ার দাবী জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা ফুলচাষীর আবেদনের প্রাপ্তিতা স্বীকার করে বলেন,এ সময় প্রচুর ফুল বিক্রি হয়। কিন্তুু করোনার প্রভাবে সকল অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফুলচাষী জাকারিয়ার দুটো বাগান পরিদর্শন করা হয়েছে। সত্যিই বাগানের করুণ পরিস্থিতি। তবে সরকার ফুলচাষীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা হিসেবে মাত্র ৪ভাগ সুদে ঋণ প্রদানের ঘোষনা দিয়েছেন। আশা করি তিনি এ আওতায় পড়বেন এবং আবারও পুরোদমে বাগানে ফুল চাষ করতে পারবেন।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft