শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
স্বাস্থ্যকথা
লকডাউন ও রমজানে কোষ্ঠ কাঠিন্য ও তার প্রতিকার
ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হাসান পান্নু
Published : Friday, 1 May, 2020 at 12:08 AM
লকডাউন ও রমজানে কোষ্ঠ কাঠিন্য ও তার প্রতিকারদেখতে দেখতে ছয়টি রমযান শেষ হয়ে গেল। এই লকডাউনের ভিতর কষ্ট করে সবাই সিয়াম সাধনা করছেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়।

রমজানে আল্লাহতালার ইবাদত বন্দেগী করার জন্য সুস্থ থাকা একান্ত প্রয়োজন,তাই এই সময়ের সমস্যা গুলো সম্পর্কে সচেতন থেকে ব্যবস্থা নিলে এই পবিত্র মাসে সুন্দর ভাবে ইবাদত করা
সম্ভব।

রমজানে অন্যতম একটি সমস্যা হল কোষ্ঠ কাঠিন্য। কারন সারা দিন রোজা রাখার জন্য পানি খাওয়া হয় না,তাছাড়া ইফতারির সময় আমরা বিভিন্ন ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার বেশি খায় এবং সেহেরীতেও  আমরা সাধারনত: আঁশযুক্ত খাবার কম খাই ‘ রিচ ফুড ’ অর্থাৎ উচ্চ ক্যালরি যুক্ত খাবার বেশি খাই।
ফলে প্রায় সব রোজাদারেরই রমজানে একটু একটু কোষ্ঠ কাঠিন্য হয়ে থাকে। তাছাড়া করোনার কারণে এই রমজানে লকডাউন থাকায় আমরা সারাদিন একরকম কাজ ছাড়াই ঘরেই বসে আছি ফলে খাবার-দাবার পরিপাকেও কিছু সমস্যা হয়।
যার ফলে রমজানে পায়ুপথের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়| বিশেষ করে পাইলস ও এনাল ফিসার নামক দুটি রোগ এইসময়  বেশী হয়ে থাকে।

কোষ্ঠ কাঠিন্যের জন্য মলত্যাগের সময়  প্রেসার দিয়ে মলত্যাগ করতে হয়,যার ফলে মলদ্বারের রক্তনালী সূমহ ফুলে যায় এবং কোন কোন সময় রক্তনালীতে Tear হয় বা রক্তনালী  ছিড়ে যায়, ফলে  প্রচুর রক্তপাত হয়। এটাকেই  পাইলস বলে।

(অধিকাংশ সাধারণ মানুষ অবশ্য মলদ্বারে কিছু হলেই সেটাকে পাইলস মনে করে-এ বিষয়ে অন্য একদিন বিশদ আলোচনা করব)

 এছাড়া মল যখন কঠিন হয় তখন প্রেসার দিয়ে মলত্যাগের কারণে  মলদ্বার ছিড়েও যেতে পারে এবং  এতে তীব্র ব্যাথাসহ অল্প রক্তপাত  হতে পারে। ব্যাথার জন্য রোগীর দৈনন্দিন কাজের ব্যাঘাতও ঘটতে পারে ।এটাকে এনাল ফিসার বলে| গবেষণায় দেখা গেছে রমজানে পায়ুপথে পাইলস ও এনাল ফিসার  সব চাইতে বেশী নতুন রোগী সৃষ্টি হয়।
 অপরদিকে পুরাতন রোগী যারা ইতিমধ্যে  পাইলস ও এনাল ফিসার রোগে ভুগছেন রমজানে তাদের রোগের প্রকোপ  বেড়ে যায়। মলত্যাগের সময় রক্তপাত ও  তীব্র ব্যাথার  কারণে রোগীকে অনেক সময় রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হয় বা  রোজা রাখতে পারেন না। ফলে অনেকেই রমজানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হন|

এ থেকে বাঁচার উপায় কি ?

উপায় সমূহঃঃ

১।রমজানে যথাসম্ভব ভাজাপোড়া কম খাবেন,ইফতারির সময় এবং সেহেরি পর্যন্ত প্রচুর পানি পান করুন,
ফলমূল  খান,রাতের খাবারে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান।

২।নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন,

"DON’T MAKE A DEDICATORY CALL  AS A MISSED CALL"..

অর্থাৎ মলত্যাগের বেগ আসলে ধরে না রেখে যতদ্রুত সম্ভব মলত্যাগ করুন।

৩। যাদের পূর্বে থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা আছে তারা প্রথম থেকেই সতর্ক হোন। মল নরম করার জন্য রমজান মাস জুড়ে ইসুফগুলের ভূষি খেতে পারেন।ইহা বাজারে খোলা অবস্থায় পাওয়া যায় আবার ওষুধের দোকানে প্যাকেট আকারেও পাওয়া যায়। ইফতাররের সময় ও সেহেরি খাবার পর ১ চামচ বা ১ প্যাকেট ১গ্লাস পানিতে গুলিয়ে সাথে সাথে পান করুন।

৪। আর যাদের পূর্ব থেকেই পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ আছে তারা রমজানের শুরুতেই একজন কলোরেক্টাল সার্জন দেখিয়ে  পরামর্শ নিন।

৫। রমজানে যদি কারো নতুন করে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই একজন কলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন।রোগের কাছে লজ্জার কিছু নেই।অনেকেই লজ্জার কারণে গাইনী ডাক্তারের কাছে যান,মনে রাখবেন পায়ুপথের রোগের চিকিৎসা একজন কলোরেক্টাল সার্জনই (পায়ুপথের রোগ বিশেষজ্ঞ) সবচেয়ে ভালো করবেন।
 
বিঃদ্রঃ
 প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলস, এনাল ফিসার রোগের চিকিৎসা করালে ৮০% ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়া ভালো হয়।

প্রত্যেকে ভালভাবে পবিত্র রমজানের ইবাদত বন্দেগি  করতে পারুন, এই প্রত্যাশা  রইল।
Stay home
Stay safe...

লেখক:
ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হাসান পান্নু
সার্জারি ও কলোরেক্টাল  সার্জন
এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস (সার্জারী)
এম এস(কলোরেক্টাল সার্জারী -থিসিস ) ফোনঃ ০১৩০৪-৩৬০৭৮৭।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft