বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ঝিনাইদহে করোনা এসেছে স্বাস্থ্য বিভাগের জীপে চড়ে
টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
Published : Friday, 1 May, 2020 at 1:23 PM
ঝিনাইদহে করোনা এসেছে স্বাস্থ্য বিভাগের জীপে চড়েঝিনাইদহে মোড়ে মোড়ে পুলিশ। সেনাবাহিনীর বিরামহীন টহল। গ্রাম এলাকায় ৩৪টি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের তৎপরতা। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর পাহারা। বিদেশফেরত মানুষের ওপর কড়া নজদারি। ঝিনাইদহ জেলা করোনামুক্ত মর্মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস ব্রিফিং। সব মিলিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। সাধারণ মানুষের মাঝেও ছিল শান্তি। সেই শান্তির সুবাতাস সরে যেয়ে সেখানে ভর করেছে করোনা আতঙ্ক! এখন গোটা জেলায় করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী। কেউ কেউ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
অনেকে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে শৈলকুপা ও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে জেলার চিকিৎসা সেবা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে ঝিনাইদহে ২৫ এপ্রিল শনিবার প্রথম দু’জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এদের একজন ঝিনাইদহ জেলা শহরের পাগলাকানাই সড়কের বাসিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, অপরজন কালীগঞ্জ উপজেলার মোল্লাডাঙ্গা গ্রামের এক দিনমজুর। এদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যায় ১৪ বছরের এক শিশু। এঘটনার পরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঝিনাইদহ জেলা করোনামুক্ত বলে দাবি করে অনলাইনে প্রেস ব্রিফিং করে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
২৬ এপ্রির নয়জন, ২৭ এপ্রিল চারজন, ২৮ এপ্রিল আরও আটজন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। জেলার ২১ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ১৩ জন ডাক্তার, নার্স, ড্রাইভার রাধুনীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন। বিলাসবহুল দামি জীপে চড়ে শৈলকুপা ও জেলা শহরে করোনা এসেছে দাবি দায়িত্বশীল একাধিক জনের।
সারা দেশ করোনা ঝুঁকি ঘোষণা করার পরেও থেমে থাকেনি স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন জীপ হস্তান্তরের কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হয়েছে আধুনিক দামি জীপ। কিছু দিন আগে এ জেলার তিন উপজেলাতে সেই জীপ দেয়া হয়েছে। বাকি ছিল শৈলকুপা, মহেশপুর এবং ঝিনাইদহ সদর। এগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দ। তিনটি জীপ ঢাকা থেকে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ঔষুধ ভান্ডার থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই জীপের একটিতে চড়ে আসা করোনা আক্রান্ত নারী থেকে শৈলকুপা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সদরের পৌর এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ঠদের অভিমত।
১৯ এপ্রির দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার স্থানীয় আরিফ ফিলিং স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঝিনাইদহ-চ ১১-০০০৩ নম্বর মাইক্রোটি ঝিনাইদহ ভেটিরিনারি কলেজের। এর চালক ছিলেন আব্দুল আলীম। তিনি জানায়, মাইক্রোতে যাত্রী ছিলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার সাজ্জাদ হোসেন, তার দপ্তরের আউট সোর্সিং গাড়ি চালক কানু বিশ্বাস এবং তার বড় ভাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গাড়ি চালক বাদশা বিশ্বাস, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার আকবার নেওয়াজ এবং আউট সোর্সিং ড্রাইভার তারা মিয়া।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুনের দেয়া তথ্য মতে প্রাইভেট কারে চড়ে যান তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক সোহেল রানা, স্টোরকিপার মাসুদ রানা, আউট সোর্সিং ড্রাইভার অহিদ সাদিক উজ্জল এবং ডাক্তার আকাশ আহম্মেদ আলিফ।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আউট সোর্সিং গাড়ি চালক কানু বিশ্বাস বলেন, ২০ এপ্রিল সকাল অনুমান সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় ঔষুধ ভান্ডারে পৌঁছান তারা। একই দিন রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাসহ ঝিনাইদহে ফিরে আসেন তারা তিনজন। তার দেয়া তথ্য মতে অন্য দু’টি নতুন জীপ এবং ভেটিরিনারি কলেজের মাইক্রোটি আলাদাভাবে ঢাকা ত্যাগ করে। পরে তিনি জানতে পারেন শৈলকুপার জন্য বরাদ্দ দেয়া নতুন জীপে করোনা আক্রান্ত একজন নারী যাত্রী ও তার স্বামীকে বহণ করা হয়।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদ আল মামুন দাবি করেছেন, করোনা রোগী বহনের খবর সঠিক নয়। তবে জীপের ড্রাইভারসহ সব যাত্রী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মর্মে স্বীকার করেন তিনি। এ কর্মকর্তার ভাষায় নতুন জীপে করোনা রোগী নয়, ব্যাগপত্র বহণ করা হয়েছে। ওই নারীর রোগীর স্বামী তার দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ বখতিয়ারের নিকটাত্মীয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম নতুন জীপে করোনা রোগী বহন করার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান ।
পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেছেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে গোয়েন্দারা কাজ শুরু করেছেন।
জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেছেন, আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করার ফলে করোনার ঝুঁকির বাইরে ছিলেন এ জেলার মানুষ। এখন সব হিসেব পাল্টে গেছে।
তিনি আরও বলেছেন, শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দ করা জীপে করোনা আক্রান্ত  নারী স্কুল শিক্ষককে বহন করা হয়েছে মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে। চলমান পরিস্থিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সন্ধান করে দ্রæত হোম কোয়ারেন্টাইন করার পরার্মশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft