বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
দড়াটানা থেকে হযরত গরীবশাহ মাজার পর্যন্ত এক হাজার ফুট
পিচের আস্তরণে শেষ হচ্ছে আড়াই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Monday, 11 May, 2020 at 12:01 AM
পিচের আস্তরণে শেষ হচ্ছে আড়াই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ
দেড় মাস বন্ধ থাকার পর যশোর শহরের দড়াটানা-হযরত গরীবশাহ (র.) মাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। পিচ ঢালাইয়ের শেষ আস্তরণের মাধ্যমে কাজটির সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। এ সড়কটির মাধ্যমেই শহরের গরীবশাহ সড়কের দীর্ঘদিনের যানজটের অবসান হচ্ছে। শহরবাসী ভৈরব নদের সৌন্দর্য উপভোগ করার মাধ্যমে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে এ সড়কটির নির্মাণ কাজের দৈর্ঘ হলো মাত্র এক হাজার ফুট, আর বাজেট হলো আড়াই কোটি টাকা।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারাদেশের ন্যায় যশোরেও বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় গোটা শহরের দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। ২০১৫ সাল নাগাদ যশোরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু হয়। এডিবির অর্থায়নে শহর উন্নয়নের এ প্রকল্প প্রথমে হাতে নেয় যশোর পৌরসভা। মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর উদ্যোগে শহরময় নানা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়। এরপর উন্নয়নের শেষ টেনেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৈরব নদ খনন ও দখলদার উচ্ছেদ করে সৌন্দর্যবর্ধনে স্বাক্ষর রেখেছেন। একইসাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর-বেনাপোল এবং খুলনা মহাসড়কসহ শহরের কয়েকটি সড়ক ডাবল লেন ও ফোর লেনে উন্নিতকরণ ও বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন কাজগুলো বর্তমানে শেষের পথে।
সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ ভৈরব নদের পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। তারা নদের পাড় থেকে ৮৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শহরে রীতিমত হৈ-চৈ ফেলে দেয়। দড়াটানামোড় থেকে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পর্যন্ত হযরত গরীবশাহ সড়কের বই মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা বুলড্রোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। এরপর যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ শহরের দড়াটানামোড় থেকে হযরত গরীবশাহ (র.) মাজার পর্যন্ত সড়কটি উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রায় এক হাজার ফুটের এ সড়কটি ডাবল লেনে উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কাজের ওয়ার্কঅর্ডার দেয়া হয়। এর প্রায় দু’মাস পর ১৭ নভেম্বর নাগাদ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ সড়কের উন্নয়ন কাজে হাত দেয়। এরমধ্যে গত ৮ মার্চ দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কারণে ২৬ মার্চ থেকে দেশে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে, বন্ধ হয়ে যায় উন্নয়ন কাজ ও অফিস আদালত। গত দেড় মাস যাবৎ এ অবস্থা চলার পর গত সপ্তাহ থেকে সচল হয়েছে উন্নয়নের চাকা। ফলে ভৈরব পাড়ে আবার শোনা যাচ্ছে স্কেভেটর ও রোলার চলার ইঞ্জিনের শব্দ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে হযরত গরীব শাহ সড়কটি ১৮ ফুট চওড়া রয়েছে। এটি ডাবল লেন করে ৩৬ ফুটে উন্নিত করা হয়েছে। সড়কের মাঝখানে নির্মাণ করা হয়েছে ডিভাইডার। সড়কটি দড়াটানামোড় থেকে হযরত গরীবশাহ (র.) মাজার পর্যন্ত লম্বা করা হয়েছে ৩০০ মিটার (প্রায় এক হাজার ৫০ ফুট) ও চওড়া ৫ মিটার (১৭ ফুট)। ভৈরব নদের অংশেই সড়কটি প্রশস্থ হয়েছে। নদের পাড় বাধাই করে বর্ধিত অংশ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নদের পাড়ের এ অংশের সড়কটি বিশেষভাবে ও টেকসই পদ্ধতিতে নির্মিত হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
সড়ক বিভাগ বলেছে, শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সড়কটি প্রশস্থকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে ভৈরবপাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে ও ব্যস্ততম সড়কটি থেকে যানজট নিরসন হবে। এরপর তারা ১৮ ফুটের সড়কটি ৩৬ ফুটে উন্নিতকরণের এস্টিমেট ও টেন্ডার আহবান করে। তবে মাত্র এক হাজার ফুট দৈর্ঘের এ সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যা নিয়ে রীতিমত হুলস্থুল পড়ে যায় ঠিকাদার মহলে। টেন্ডারে এ কাজ পান খুলনার খানজাহান আলী রোডের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। তারা ওয়ার্কঅর্ডার পাওয়ার প্রায় দু’মাস পর ১৭ নভেম্বর থেকে কাজ শুরু করে। কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কঅর্ডার দিলেও তারা কাজে হাত দেয় দু’মাস পর। শহরবাসীর অভিযোগ নির্মাণ কাজের শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভৈরব নদ থেকে তোলা মাটি দিয়েই সড়কের পাঁচ ফুট ভরাট করে। এরপর ব্যবহার করা হয় আমাইটের খোয়া ও নিম্নমানের ভিত বালি। প্রকাশ্যে জনকোলাহল মূখর স্থানে অনিয়মের এ চিত্র দেখে শহরবাসী হতবাক হয়েছেন। তারা চোখের সামনে এ জাতীয় অনৈতিক কাজ কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে পত্রিকা দপ্তরে এসে অভিযোগ করেছেন।
এসব ব্যাপারে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শহর ও সড়কের যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় এনে সড়ক বিভাগ বর্তমানে এ অঞ্চলের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে কোন সড়কই আর সিঙ্গেল থাকবে না। পর্যায়ক্রমে যশোরাঞ্চলের সকল সড়ক ডাবল বা ফোর লেনে উন্নিত করা হবে। তিনি বলেন, দড়াটানামোড় থেকে হযরত গরীবশাহ মাজার পর্যন্ত ৩০০ মিটার সড়ক ডাবল লেনে উন্নয়ন করা হচ্ছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে। ভৈরবের পাড় বেধে নদের অংশে নতুনভাবে এ সড়কটি নির্মিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণের কাজে কোন সমস্যা নেই। যে সকল মেটিরিয়ালস ব্যবহার করা হয়েছে, তা সঠিক আছে। নির্মাণ সামগ্রী পরীক্ষা করেই ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 
     




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft