মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
হুমায়ুন ও মুকুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কেশবপুরের টিটাবাজিতপুর গ্রামের মানুষ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
Published : Wednesday, 13 May, 2020 at 8:35 PM
হুমায়ুন ও মুকুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কেশবপুরের টিটাবাজিতপুর গ্রামের মানুষমামলা ও হামলার ভয়ে নিজের জমির ধান কাটতে পারছেন না যশোরের কেশবপুর উপজেলার টিটাবাজিতপুর গ্রামের মো. সেলিম রেজা। চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবীর ও আসাদুজ্জামান মুকুলের হামলা ও মামলার ভয়ে তিনি এখন বাড়ি ছাড়া। শুধু এই দু’জনই নন; তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামের অনেক মানুষ। গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজন থাকায় তারা নানান কায়দায় হয়রানী ও অত্যাচার করে চলেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, টিটাবাজিতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে হুমায়ূন কবীর ও আসাদুজ্জামান মুকুল চাকরি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
গ্রামের লিয়াকত আলী সরদারের মেয়ে রোজিনা বেগম জানান, চাকরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে তারা। কিন্তু চাকরিও হয়নি; টাকাও ফেরত দেয়নি। টাকা চাইলে উল্টো জেল খাটানোর হুমকি দেয়।
একই গ্রামের আবু সরদার জানান, তার ছেলে ইলিয়াস হোসেনকে চাকরি দেয়ার জন্য হুমায়ূনকে জমি বিক্রি করে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত টাকাও ফেরত দেয়নি, চাকরিও হয়নি।  
হাসানপুর ইউনিয়নের মেম্বর হুমায়ূনের চাচা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে হাসানপুর বাজারে হুমায়ূন তাকে মারপিট করেছে। কিন্তু কী কারণে মারলো তা জানি না। আমি একজন মেম্বর হওয়ার পরও কোনো প্রতিকার পাইনি। গ্রামের লোকজনও তাদের হাতে জিম্মি।’
তিনি দাবি করেন, হুমায়ূনের চাচা মৃত আনছার আলী, আনোয়ার সরদার তাদের কয় ভাইকে লেখাপাড়া শিখিয়ে মানুষ করেছেন। কিন্তু সেই চাচার ছেলেরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। জোর করে রাস্তার পাশের জমি লিখে নিয়েছেন। একই বাড়ি ভেতরে পাঁচিল দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের কোনো আত্মীয় নাকি বড় পুলিশ অফিসার আর জজ। এইসব বলেও তারা হুমকি ধামকি দেন।
হুমায়ূনের চাচাতো ভাই মুরাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, ‘আমাদেরকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য তারা সব সময় ষড়যন্ত্র করে। হুমায়ূন ও মুকুল আমার বৃদ্ধা মাকে ধরে মারপিট করেছে।  আমার ভাই সেলিম রেজা মনিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে আসছে। ওদের ভয়ে সেলিম রেজা বাড়িতে ঠিকমত আসতে পারে না। আমাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। তারা গ্রামের অনেক মানুষকে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। আমার ভাই সেলিম রেজার কাছ থেকে বাড়ি বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তা না দিয়ে টালবাহানা করে আসছে।’
সেলিম রেজা মনি অভিযোগ করেন, ‘আমি হুমায়ূনকে ব্যবসা শিখিয়েছি। সম্পর্ক ভালো হবার কারণে এবং চাচাতো ভাই হওয়ার সুবাদে ব্যবসার জন্য টাকাও দিয়েছি। হাসানপুর বাজারে হুমায়ূনের বাড়ি বিক্রির কথা বার্তা হয়। চুক্তি হয় ১৯ লাখ টাকায়। প্রথম কিস্তিতে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিই। পরে টাকা দেয়ার কথা অস্বীকার করে। এরপর টাকাও ফেরত দেয়নি, বাড়িও দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘টাকা না দেয়ার অজুহাতে আমার ও আমার পরিবারের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। গত ১ মে কোনো ঘটনা না ঘটলেও থানায় গিয়ে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। এ মামলায় আমাদের ছয় ভাই ও এক ভাইপোকে আসামি করেছে। ওদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। আদালত বন্ধ থাকায় জামিন নিতে পারছিনা, তাই আটকের ভয়ে এলাকার বাইরে থাকছি। এই কারণে আমাদের মাঠে ৮ বিঘা ধান রয়েছে যা ঘরে তুলতে পারছি না। গত ৯ মে এসব ঘটনা সাংবাদিকদের জানালে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। এই বিষয়ে কেশবপুর থানায় আভিযোগও দায়ের হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তদন্তে আসেনি।’
গত ১ মে তাদের নামে যে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য যশোরের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সেলিম রেজা।
এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাড়ি বিক্রির নামে সেলিম রেজার কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, সেলিম রেজা ও তার লোকজন হামলা করায় তিনি মামলা করেছেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft