মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে যশোরের সিটি প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স
স্বপ্না দেবনাথ
Published : Wednesday, 13 May, 2020 at 8:39 PM
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে যশোরের সিটি প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সকরোনা পরিস্থিতিতে ঈদের কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের কাছে নিরাপদ স্থান হয়ে উঠেছে যশোর সিটি প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স। ১০ মে থেকে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সীমিত আকারে মার্কেট ও দোকানপাট খোলার নির্দেশনা দেয় সরকার। নির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনেই রোববার থেকে কার্যক্রম শুরু করে সিটি প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স। অন্য মার্কেটে যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য বিষয়ে তেমন গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে না সেখানে সিটি প্লাজার চিত্র পুরো ভিন্ন। ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মানছেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী সকলেই।
আগত ক্রেতাসহ সকলের শরীরে করোনা সংক্রমণ রোধে সতর্ক শপিং কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।  আলাদা করা হয়েছে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথ। জীবাণুনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি   স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করিয়ে সকলকে ঢুকতে হচ্ছে ভেতরে। আছে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা। হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে তামমাত্রা নিশ্চিত করে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন সকলে। জ্বর থাকলে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানান দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। শুধু তাই নয়, পার্কিং এলাকায় আগত যানবাহও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শপিং কমপ্লেক্সের সকল ফ্লোরে ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন ব্রান্ডেড শোরুম থেকে অন্যান্য দোকানগুলোতেও কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আছে আগত ক্রেতাদের জন্য ব্যবস্থা এবং নির্দেশাবলী।
মাইকপট্টি থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন সাদিয়া শারমিন। একমাস পর বাড়ির বাইরে আসা এ গৃহবধূ জানান, স্বামীর পোস্টিং খুলনাতে। সাধারণ ছুটির কারণে সন্তানকে নিয়ে শ্বশুর, শ্বাশুড়ির সাথে বাড়িতে এসে সময় কাটাচ্ছেন। নিজের জন্য না হলেও ঈদে গৃহপরিচারিকাসহ অন্যদের জন্য জামা কাপড় কিনতে হবে। প্রথমে একটু ভয় পেলেও সিটি প্লাজাতে এসে তিনি খুশি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ তার ভালো লেগেছে।
আফসানা আফরিন সেতু নামে আরেক কলেজ ছাত্রী জানান, অন্যবার অনেকের সাথে কেনাকাটা করতে আসলেও এবার তিনি একাই বেরিয়েছেন। এর আগে ঈদের সময় সিটি প্লাজায় এত ফাঁকা পরিবেশ তিনি দেখেনি উল্লেখ করে বলেন, ক্রেতা হাতে গোণা দেখা যাচ্ছে। তবে যারা এসেছেন তারা সকলেই তার মতো খুশি। কারণ এখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। নেই অনাকাঙ্খিত ভিড়ও।
আলিয়ার রহমান নামে প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, আসলেই ভেতরে ঢোকার ব্যবস্থাটা বেশ ভালো করা হয়েছে। তবে মার্টেটের ভেতরে সকল দোকান এবং শোরুমে আরও সচেতনতামূলক বার্তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কেনাকাটা করে বের হওয়ার সময়ও জীবাণূনাশক স্প্রে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।    
নিউ লেডিস বাজারের স্বত্ত¡াধিকারী রবিউল ইসলাম পাপন জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে তারা সতর্ক। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতাকে তারা ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না। যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো দেখভালের জন্যও তিনি অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করেছেন।
লুকের স্বত্ত¡াধিকারী রেজাউল ইসলাম, তানিশা ফ্যাশানের সুমন শেখ, সি’র সাকিয়া জাহানসহ আরও কয়েকজন জানান, সিটি প্লাজার ব্যবসায়ী সমিতির বৈঠকের মাধ্যমে নিয়মিত করনীয় নির্ধারণ করছে। কর্মীসহ সকলের সুস্বাস্থ্য এখন সবার আগে বিবেচ্য।   সেটি মাথায় রেখেই বেচাকেনা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন করোনার সংক্রমণ রোধ করে বেচাকেনাতে ক্রেতারা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা স্বল্প সময় অবস্থান বিষয়টি ক্রেতাদের  গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
দোকানের বিক্রয়কর্মীরা এ বিষয়ে বলেন,  গøাভস, মাস্ক পরে বিক্রি করতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। পণ্যের বিষয়ে বলা কিংবা সেটা দেখানোতেও কষ্ট হচ্ছে। তবুও এটা হাসিমুখে করছেন তারা। ক্রেতারা যদি সঙ্কটকালীন এ বিষয়টি মাথায় রেখে অল্প দেখেশুনে পণ্য পছন্দ করেন এতে সকলের স্বার্থ বজায় থাকবে।
এ বিষয়ে সিটি প্লাজা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শফিকুর আজাদ বলেন, করোনার কারণে সকল ব্যবসায়ীরই ক্ষতি হচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় সরকার ঈদের কেনাকাটার জন্য সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে-যা অন্ধকারে কিছুটা আশার আলো। সকলের স্বার্থ বিবেচনায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সিটি প্লাজার ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী হিসেবে সবসময়ই ক্রেতা বেশি হবে এমনটাই আশা করা স্বাভাবিক। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে কেনাকাটা করার জন্য ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft