মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
করোনাজয়ীদের কথা
চিকিৎসককে নিয়মিত পরামর্শ দিতে হবে : সাংবাদিক সিদ্দিক
স্বপ্না দেবনাথ
Published : Thursday, 14 May, 2020 at 12:39 AM
চিকিৎসককে নিয়মিত পরামর্শ দিতে হবে : সাংবাদিক সিদ্দিক করোনা বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম। পরিস্থিতি এমন যে করোনাভাইরাসের ভয়ে সন্তান তার পিতা-মাতার শেষকৃত্যতে পর্যন্ত অংশ নিতে রাজি হচ্ছে না। করোনা পজিটিভ রোগীরা হয়ে উঠছেন অনেকের কাছে আতঙ্ক। একটু সাবধানে থাকলে যেমন করোনা সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব তেমনি যথাযথ সচেতনতা ও সকলের সহযোগিতায় আক্রান্তরা মনোবলও বজায় রাখতে পারেন। জয়ী হয়ে ফিরে আসতে পারেন সকলের মধ্যে। এমনটাই বলেছেন যশোরে করোনাজয়ী সাংবাদিক সিদ্দিক হোসেন।
দৈনিক লোকসমাজের মফস্বল সম্পাদক সিদ্দিক হোসেন পার করেছেন জীবনের ৬২ বছর। করোনার থাবায় নিজেই হয়েছেন সংবাদের বিষয়।
করোনাজয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, মানুষ মনে করছে করোনা মানে মৃত্যু। করোনা মানে ভয়। আসলে তা না। করোনা থেকে বাঁচতে হলে ঘরে থাকতে হবে, সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। আর সবে চেয়ে বেশি যা দরকার তা হলো, আক্রান্ত রোগীর পরিবারকে মানসিক সাহস ও শক্তির যোগান দেয়া। শনাক্ত হওয়ার পরপর রোগীর বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। এতে অনেকে সেই বাড়ির লোককে ঘৃণার চোখে দেখছেন-অন্য গ্রহের বাসিন্দা মনে করছেন! সহযোগিতার বদলে অসহযোগিতা করছেন,খারাপ ব্যবহার করছেন। যা কাম্য না।
করোনা শনাক্তের গল্পে সিদ্দিক হোসেন জানান, গত ২৫ এপ্রিল তিনি হার্টের সমস্যা নিয়ে যশোর মেডিকেল কলেজের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি হন। চিকিৎসকের মনে হয়েছিল তার করোনার উপসর্গ রয়েছে। কিন্তু করোনার যেসব উপসর্গ বলা হচ্ছে কাঁশি, হাঁচি, শরীর ব্যথা এগুলো কিছুই ছিল না তার। তারপরও চিকিৎসকের কথা শুনে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে যান। পরে করোনা টেস্টের জন্যে নমুনা দিয়ে তিনি নিজ দায়িত্বে বাসায় চলে আসেন। ২৯ এপ্রিল তিনি জানতে পারেন তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
শরীরে করোনা পজিটিভ শুনে এক মিনিটের জন্যেও ঘাবড়ে যাননি বলে জানান সিদ্দিক হোসেন। তিনি বলেন, কার কী রকম লাগে তার জানা নেই। তবে শুরু থেকেই তার মনোবল ছিল  চাঙ্গা। তাই হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে থাকারই মানসিক প্রস্তুতি নেন তিনি।
তিনি জানান, আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন। হার্টের সমস্যার জন্যে ওষুধ খেলেও করোনার জন্যে তিনি কোনো ওষুধ খাননি। ২৯ এপ্রিলের পর থেকে সুস্থ হওয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত পর্যাপ্ত ঘুমিয়েছেন, গরম পানি ও চা পান করেছেন পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও সাহস বজায় রেখেছেন।   
তিনি বলেন, অসুস্থ অবস্থায় দু’একজন বাদে সকলের সহযোগিতা পেয়েছেন। তার প্রতিবেশী, স্বজন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে থেকে অনেকে প্রতিনিয়ত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।
করোনায় বিড়ম্বনা নিয়ে তিনি বলেন, শনাক্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট কোনো ডাক্তারের পরামর্শ বা দিক নির্দেশনা তিনি পাননি। এমনকি নমুনা পরীক্ষা করানোর পর রিপোর্ট পাওয়া এবং তার সত্যতা নিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রোগীদের মনোবল বজায় রাখার পাশাপাশি তার পরিবারের মানসিক সহযোগিতার জন্যে কর্তৃপক্ষের আরও বেশি যত্নবান হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন এই করোনাজয়ী। পাশাপাশি বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা পজিটিভ রোগীদের নিয়মিত নির্দিষ্ট চিকিৎসকের মাধ্যমে পরামর্শে রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।  
সিভিলসার্জন অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত ২৯ এপ্রিল সিদ্দিক হোসেনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়। এরপর তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়। এই সময় তার বাড়িটি লকডাউন করা হয়। ২ মে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর প্রথম দফা করোনা ‘নেগেটিভ’ শনাক্ত হয়। ৭ মে দ্বিতীয় দফায় নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্যে ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার প্রতিবেদনেও করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত হলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাজয়ী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft