মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া ব্রিজ খুলে দেয়ার দাবি দু’উপজেলাবাসীর
চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর)
Published : Thursday, 14 May, 2020 at 9:31 PM
বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া ব্রিজ খুলে দেয়ার দাবি দু’উপজেলাবাসীরযশোরের বাঘারপাড়া ও মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত নারিকেলবাড়িয়া ব্রিজটি খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে দু’উপজেলার বাসিন্দারা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতে কেউ অবাধে প্রবেশ না করতে পারে-সেজন্য ব্রিজটি ঘিরে রাখে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসন।  তবে এ নিয়ে কাঁদাছুড়াছুড়িতে মেতে উঠেছে দু’পারের বাসিন্দারা।
বাঘারপাড়ার ক্ষেত্রপালা গ্রামের বাসিন্দা মন্টু মিয়া জানান, নারিকেলবাড়িয়ার ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন শালিখার সীমাখালী ঢুকতে দেয়া হচ্ছেনা। বাঘারপাড়া উপজেলার মানুষ পেলেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ফজর আলী। তিনি জানান, ব্রিজ আটকে দেয়ায় সীমাখালী যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছে শালিখা উপজেলার বাসিন্দারা।
এদিকে শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নারিকেলবাড়িয়া বাজার কাছাকাছি হওয়ায় আমরা এই বাজার থেকে কেনাবেচা করে থাকি। ব্রিজটি আটকে দেয়ায় আমরা অনেক সমস্যায় পড়েছি। একই এলাকার অপর বাসিন্দা কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা শালিখার মানুষ হলেও বাঘারপাড়া উপজেলার সাথে আমাগের যোগাযোগ বেশি। আর নারিকেলবাড়িয়া বাজারই আমাগের আসল বাজার। পথ বন্ধ করে দেয়ায় অনেক দূর থেকে বাজার করে আনতি হচ্ছে’।
জানতে চাইলে শালিখার শতখালি ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ঝন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল সরদারের লোকজন আমার এলাকার মানুষকে বাঘারপাড়ায় ঢুকতে দিচ্ছেনা। অশালীন কথাও বলছে তারা। প্রশাসনের নির্দেশে প্রথমে আমার এলাকা লক করা হয়েছিল। পরে আলোচনার ভিত্তিতে খুলে দিয়েছি। কিন্তু তারা (নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন) ব্রিজ আটকে রেখেছেন। তবে বিষয়টি এখন দু’উপজেলার প্রশাসনের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। চেয়ারম্যান আবুল সরদারের সাথে তার কোনো বিরোধ নেই বলেও উল্লেখ করেন ঝন্টু।
এ ব্যাপারে নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল সরদার বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ব্রিজ আটকে দেয়া হয়েছে। এতে আমার ব্যক্তিগত কোনো হাত নেই। আমার বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন-তারা মনগড়া অসত্য কথা বলছেন’।
অনেকেই দাবি করেছেন, দু’উপজেলার সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে দ্ব›দ্ব নতুন নয়। মুলত যানবাহন শ্রমিকদের আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দ্ব›দ্ব চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা উপলক্ষ মাত্র।
এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ বলেন, ‘করোনাভাইরাস যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়াতে না পারে-সে জন্য নারিকেলবাড়িয়া ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুলে দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে সপ্তাহ খানেক সময় লাগতে পারে। স্থানীয় দু’পাড়ের বাসিন্দাদের সাথে কোনো দ্ব›দ্ব সৃষ্টি হয়েছে কিনা-সেটা আমার জানা নেই’।
জানতে চাইলে শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর রহমান বলেন, ‘দু’এলাকার সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করেনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এক জেলা থেকে অন্য জেলার ছোট ছোট সীমান্ত পথ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বর্তমানে একটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে শুনেছি। আলোচনার ভিত্তিতে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft