মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরের বাজারে মানুষের ঢল
কোন সর্তকবার্তা কাজে আসছে না
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Friday, 15 May, 2020 at 1:01 AM
কোন সর্তকবার্তা কাজে আসছে নাকোন সর্তকবার্তা কাজে আসছে না। যশোরের বাজারে থামছে না মানুষের ঢল। সচেতনতামূলক আবেদন, নিবেদন আমলে নিচ্ছে না মানুষ। করোনা মহামারী তাদের কাছে কোন ব্যাপার নয়, উৎসব বড় হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শহরে এই অবস্থা চলতে থাকলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। যে কোন মূল্যে মানুষের এ ঢল বন্ধ করতে হবে।
যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলাকে করোনার রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যশোরে ৮৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে সংক্রমণের দিক দিয়ে যশোর অন্যান্য জেলার থেকে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া ১৪ মে পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৬৩ জন ও মারা গেছে ২শ’ ৮৩ জন। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে ১৯ জন, বর্তমানে আক্রান্তে সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে।
করোনা প্রার্দুভাবরোধে সরকার নানামুখী প্রদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু কোনটাই কাজে আসছে না। মানুষকে কোনভাবেই ঘরে রাখা যাচ্ছে না। তারা মানছে না কোন নিয়মকানুন ও সর্তকবার্তা। ইচ্ছামত ঘর থেকে বের হচ্ছে ও শহরময় চলাফেরা করছে। আড্ডা জমাচ্ছে চায়ের দোকানগুলোতে। এক্ষেত্রে মানুষকে ঘরে ফেরাতে পুলিশ, ব্যাব ও সেনাসদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বর্তমানে যশোরের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। ব্যবসায়ীদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে প্রশাসন গত ১০ মে থেকে যশোরের লকডাউন শিথিল করে। এদিন থেকেই শহরের বাজারঘাট ও দোকানপাট বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলার অনুমতি দেয়া হয়। এরপর থেকে গত পাঁচদিন বাজারে মানুষের বাধভাঙ্গা ঢল নামে। যা ঈদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে দোকানিরা জানিয়েছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের এইচএমএম রোড, কাপুড়িয়াপট্টি, গাড়িখানা, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু (এমকে রোড), মুজিব সড়ক ও কালেক্টরেট মার্কেটে মানুষের ঢল নেমেছে। তারা উর্ধ্বশ্বাসে বাজারে ঢুকছে ও দু’হাত ভরে মালামালের প্যাকেট নিয়ে বের হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে ছিট কাপড়, জুতা ও প্রশাধনীর দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড়। এসব দোকানে মানা হচ্ছে না কোন শারীরিক দূরত্ব। মানুষ গায়ের ওপর দাড়িয়ে ভিড় করেই পছন্দমত জিনিষপত্র কিনছে। যদিও দোকানিরা নামমাত্রভাবে একজন কর্মচারীকে প্রবেশ মুখে দাড় করিয়ে আগতদের হাতে স্যানিটাইজার জাতীয় কিছু মাখিয়ে দিচ্ছে। এরপর ক্রেতারা দোকানময় দাপিয়ে বেড়িয়ে বিভিন্ন প্রকার মালামাল ঘেটে তাদের পছন্দেরটি বেছে নিচ্ছে। এ কাজে ব্যবসায়ীসহ কর্মচারী ও ক্রেতা কতটুকু নিরাপদ থাকছে সেটাই প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
যশোরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন শুরু থেকেই মাঠে রয়েছে। তারা জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে ও সচেতনতায় কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সাথে রয়েছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব সদস্য। তারা সমন্বিত টিম হিসেবে জেলাব্যাপী কাজ করছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাসদস্য ও র‌্যাব পৃথকভাবে টহল ও ভ্রাম্যমান আদালত চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মানুষকে করোনা সর্তকতায় প্রতিদিন শহরে মাইকিং করা হচ্ছে। একইসাথে পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে মানুষকে সচেতনভাবে চলাফেরা করতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এ কাজে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন নিজেই মাঠে রয়েছেন। গত দু’দিন তিনি নিজে উপস্থিত থেকে শহরের আইএফআইসি ব্যাংকের সামনে ও সিটি প্লাজা মার্কেটের সামনে বাজারে আগত মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছেন। লিফলেটে মানুষকে জরুরি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে না আসা থেকে শুরু করে হাত ধোঁয়া ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটাসহ ১২ টি সচেতনতামূলক তথ্য জানানো হয়েছে। তারপরও মানুষ চলছে সেই পুরনো স্টাইলে। আর নিজে বিপদের দিকে ধাবিত হচ্ছে ও পরিবারসহ গোটা এলাকাবাসীকে বিপদে ঢেলে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, বাজারে মানুষের এ ঢল বন্ধ করা না গেলে যশোরের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারণ হচ্ছে করোনা মোকাবেলায় মানুষ ঘরে থাকলেই নিরাপদে থাকতে পারবে। আর যত বাইরে যাবে জনসমাগমে মিলিত হবে ততই এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে ও ভয়াবহতা বাড়বে। মানুষ বাজারের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে নিজেই সংক্রমণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আবার তার শিশু সন্তান, বৃদ্ধ মা, বাবাসহ পরিবারের সকলকে ঝুঁকিতে ফেলছে। করোনা থেকে মুক্তি পেতে হলে অকারণে ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করতে হবে। বছর ঘুরে বারবার উৎসব আসবে, কিন্তু জীবন গেলে আর তা ফিরে পাওয়া যাবে না। এ কারণে সবাইকে নিয়ম মেনে সকল কাজ করতে হবে। জনসমাগমে আসা বন্ধ করতে হবে।
এ ব্যাপারে যশোর পুলিশের মুখপাত্র তৌহিদুল ইসলাম বলেন, করোনা সচেতনায় যশোর পুলিশ বিভাগের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সুপারের উদ্যোগে শহরের মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম ঈদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি মানুষকে অযথা বাজারে আসা থেকে বিরত থাকতে আহবান জানান।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, করোনা প্রার্দুভাবরোধে যশোর জেলা প্রশাসন যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে কয়েকটি টিম নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে। এছাড়া তথ্য অফিসের মাধ্যমে শহরে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। একইসাথে ব্যবসায়ী সমিতির মাধ্যমে বাজার এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। যাতে মানুষ তাদের জরুরি প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাড়িতে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে। তিনি নিয়ম মেনে চলতে ও অকারণে বাজারে না আসতে শহরবাসীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft