শনিবার, ০৮ মে, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
লোকসানের শঙ্কায় কলারোয়ার আম চাষীরা
মোস্তফা হোসেন বাবলু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) পৌর প্রতিনিধি :
Published : Monday, 18 May, 2020 at 3:30 PM
লোকসানের শঙ্কায় কলারোয়ার আম চাষীরাকলারোয়ায় জ্যৈষ্ঠের বাতাসে দুলছে আম চাষীদের দূ:স্বপ্ন। প্রান্তিক আম চাষীরা বিষমুক্ত আম রপ্তানির লক্ষ্যে শেষ মূহুর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করলেও করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছর বিদেশে আম রপ্তানির কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের দেশীয় বাজারে আম বিক্রির জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাদে, গুণে ও মানে বিখ্যাত কলারোয়ার আম ইউরোপের বাজারে সুনাম অর্জন করলে তাতে কোন লাভ নেই। রসালো আমের জন্য বিখ্যাত কলারোয়া উপজেলা। চলতি মৌসুমের ফলন অনেকটা কম। ক্ষতিগ্রস্ত শত শত আমচাষী।  এর মধ্যে 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা' হিসেবে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস দুর্যোগ। মানুষের আয় নেই, তার উপর আবার বাজারজাতকরণের সমস্যার কথা চিন্তা করে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন উপজেলা আম চাষীসহ ব্যবসায়ীরা। এ খাতের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজধানীসহ সারাদেশে সঠিকভাবে বাজারজাতকরণ সম্ভব হলে লোকসান কমানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অপরিপক্ক আম সরবরাহ বন্ধসহ চাষীদের সঙ্কট নিরসনে নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কলারোয়া উপজেলার সিংগা গ্রামের আম ব্যবসায়ী কবিরুল ইসলাম। ১৬ লাখ টাকার আমের বাগান রয়েছে এই ব্যবসায়ীর। করোনা পরিস্থিতিতে আম বিক্রি নিয়ে শঙ্কায়  পড়েছেন এই ব্যবসায়ী। আম ব্যবসায়ী কবিরুল  ইসলাম জানান, এ বছর ১৬ লাখ টাকার আম বাগান কেনা রয়েছে। খরচ বাদেও পাঁচ লাখ টাকা লাভ হবে এমন আশা ছিল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর তিনি ঢাকায় আম বিক্রি নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।''এই আমের ব্যবসা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো ব্যবসা নেই। বছর শেষে একবার আমের ব্যবসায় উপার্জিত অর্থ দিয়েই চলে আমাদের সংসার'।তিনি বলেন, প্রতি বছর গুটি আম (কাঁচা আম) বিক্রি হয় ৪-৫ লাখ টাকার। এ বছর সেটিও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। দোকানপাট, হাট-বাজার বন্ধ, পরিবহন সমস্যা। এ ছাড়া আম ভাঙার শ্রমিকও সংকট। নানা কারণে এ বছর আম ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হতে পারেন। তবে যদি সঠিকভাবে বাজারজাত করা যায় তবে ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া অসাধু অনেক ব্যবসায়ীও রয়েছেন যারা অপরিপক্ক আম ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য বা কেমিকেল মিশিয়ে বাজারজাত করে থাকেন। একই গ্রামের অপর আম শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বছর আমের ফলন ভালো হয়নি। যেটুকু হয়েছে সেটুকু স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করতে হবে। গত বছর খুলনা ও ঢাকায় নিয়ে আম বিক্রি করেছিলাম। এ বছর হয়তো সেটি আর সম্ভব হবে না। কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মহাসিন আলী জানান, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় বিদেশে আম রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না।তবে আম রপ্তানি না হলেও  দেশীও বাজারে ভাল লাভে আম বিক্রয় করতে পারবে। তিনি আরো বলেন চলতি মৌসুমে কলারোয়া উপজেলায় ৬০২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। মোট ২৬০০ ছোট-বড় বাগান রয়েছে। এ সব বাগান থেকে প্রায় ৪শ মেট্রিক  আম টন উৎপাদন হয়। এ থেকে ১০০ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানি করা হত । এরমধ্যে হিমসাগর ২০০ হেক্টর, ল্যাংড়া ২০০ হেক্টর আম্রপালি ১৫০হেক্টর। বাকি জমিতে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, লতাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে।এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অপরিপক্ক আম কেমিকেল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করণের চেষ্টা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনও অভিযান চালিয়ে সেগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে কলারোয়া দুই ট্রাক কেমিকেল মিশ্রিত অপরিপক্ক আম ভ্রাম্যমাণ আলাদত পরিচালনা করে ধ্বংস করেছে। যে আমগুলো রাজধানীতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ির) উপ পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, আগামী ৩১ মে থেকে হিমসাগর, ৭ জুন ল্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আম্রপালি আম ভাঙা ও বাজারজাতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে যদি কোনো বাগানের আম পাকে, তবে সেটি কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে তারা ব্যবস্থা নেবেন।সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সাতক্ষীরায় নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জেলার আমের সুনাম রয়েছে। সেই সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। নির্ধারিত দিনের আগে গাছ থেকে আম ভাঙা যাবে না মর্মে ব্যবসায়ী ও চাষীদের সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরিপক্ক আম কেমিকেল মিশিয়ে বাজারকরণের চেষ্টা করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft