রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এমপি রনজিত রায়ের পরিবারের তিনজনসহ যশোরে শনাক্ত আরও ২৫
ফয়সল ইসলাম :
Published : Wednesday, 17 June, 2020 at 11:47 PM
এমপি রনজিত রায়ের পরিবারের তিনজনসহ যশোরে শনাক্ত আরও ২৫করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়ের পরিবারের তিনজনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় (১৬ জুন সকাল ৮টা থেকে ১৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) যশোরে নতুন করে ২৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, পাঁচজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। জেলায় করোনায় আক্রান্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দু’শ’ ৬৮ জনে।
এদিকে, বুধবারই যশোরে করোনা জয় করেছেন ১৬ জন। এরমধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলায় পাঁচজন, অভয়নগরে পাঁচজন ও শার্শার ছয়জন। নতুন ১৬ জনসহ ইতোমধ্যে করোনা জয় করেছেন একশ’ ২০ জন। চিকিৎসাধীন আছেন একশ’ ৪৬ জন। সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, করোনায় সংক্রমিত নতুন যে ২৫ জন শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে ১৫ জনই অভয়নগর উপজেলার বাসিন্দা। করোনা সংক্রমণে যশোরের হটস্পটে পরিণত হওয়া উপজেলাটির নওয়াপাড়া পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ৮১ জন বাসিন্দা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন একজন। অন্য আক্রান্তদের মধ্যে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন রক্ষীসহ সদর উপজেলায় পাঁচজন, কেশবপুরের একজন নারী স্বাস্থ্যকর্মীসহ দু’জন, চৌগাছা, শার্শা ও মণিরামপুর উপজেলার একজন করে রোগি রয়েছেন।
সিভিল সার্জন আরও জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাব থেকে একশ’ ৪২টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৭টির রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে মর্মে বুধবার সকালে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফলোআপ অর্থাৎ আগে শনাক্ত হওয়া দু’জন রোগীর নমুনা পরীক্ষায় দ্বিতীয়বারও পজেটিভ এসেছে। ফলে ২৫ জন নতুন রোগি শনাক্ত হয়েছে। বাকি একশ’ ১৫টি নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, তাদের সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বসবাসের বাড়ি লকডাউন করার জন্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মেডিকেল অফিসার আদনান ইমতিয়াজ বলেন, যশোর সদর উপজেলায় নতুন করে শনাক্ত হওয়া পাঁচজন করোনা আক্রান্তের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন আগে থেকে আক্রান্ত এমপি রনজিত কুমার রায়ের পুত্র (৩৫), পুত্রবধূ (২৭) ও তিন বছর বয়সী পুতনি। এর আগে গত ৯ জুন সকালে যশোর শহরের রেলরোড এলাকার বাড়ি বাড়ি থেকে এমপি রনজিত কুমার রায়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে রাতে যবিপ্রবি’র জিনোম সেন্টারের ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষার রেজাল্ট পজেটিভ আসে। অর্থাৎ তিনি আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হয় স্বাস্থ্য বিভাগ। কালক্ষেপণ না করেই রাতেই তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) যশোরে ভর্তি করা হয়। পরদিন সেখানে দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষায়ও রেজাল্ট পজেটিভ আসে। সিএমএইচ-এর আইসোলেশন ইউনিটে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। তার সংস্পর্শে থাকায় পরিবারের সদস্যদের ১৪ জুন নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রিপোর্টে তিনজনের নমুনায় করোনাভাইরাসের অস্তিত্ত¡ মিলেছে।
ডাক্তার আদনান আরও বলেন, সদর উপজেলায় আক্রান্ত অন্য দু’জনের মধ্যে একজন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের রক্ষী (৩৫)। তিনি সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেন। অপরজন বিরামপুর এলাকার বাসিন্দা পুরুষ (৩০)। আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসাথে তাদের বসবাসের বাড়ি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা লকডাউন করেছেন।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এস এম মাহমুদুর রহমান রিজভী বলেন, উপজেলায় নতুন করে ১৫ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নওয়াপাড়া পৌর এলাকা বুইকারার বাসিন্দা ৫৬, ৩৫ ও ৫৬ বছর বয়সী তিনজন পুরুষ এবং ৫০ বছর বয়সী একজন নারী রয়েছেন। এছাড়াও মডেল কলেজ পাড়ার (বেঙ্গল মিল) একজন পুরুষ (৪৮), রাজঘাট এলাকার ৬০, ৩৫ ও  ৩৩ বছর বয়সী পুরুষ, শাহীবাগ পালপাড়ার একই পরিবারের ৬০ ও ২২ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ ও ৫৫ বছর বয়সী একজন নারী, গুয়াখোলার ৫৫ ও ৪৬ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ, দিয়াপাড়ার ৭৭ বছর বয়সী একজন এবং স্টেশন বাজার এলাকার বাসিন্দা এক যুবক (১৬) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রত্যেককে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডাক্তার রিজভী আরও বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এতে জনগণের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিলেও সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো আগ্রহ নেই। ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে রেডজোন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নওয়াপাড়া পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডকে লকডাউন করা হয়েছে। মানুষকে ঘরবন্দি ও সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নওয়াপাড়া শহরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম লকডাউন এলাকায় জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহŸান জানিয়ে বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলার মির্জানগর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নারী (৩৫) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বসবাস করেন ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছেন সাতবাড়িয়া গ্রামের একজন পুরুষ (৪৪)। তিনি খুলনায় চাকরি করেন। তার স্ত্রী স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত। আক্রান্ত দু’জনই হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নাহার বলেন, নতুন শনাক্ত হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগী উপজেলার ছোট কাকুড়িয়া গ্রামের একজন নারী (৪৫)। তার স্বামী (৫০) করোনায় সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি ১৩ জুন নিশ্চিত হয় স্বাস্থ্য বিভাগ। নিজ বাড়িতেই তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ হোসেন বলেন, বুধবার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে উপজেলার বসতপুর গ্রামের বাসিন্দা একজন পুরুষ (৩০) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বাড়িতে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি। ফলে বাড়ি লকডাউন করে উন্নত চিকিৎসার জন্যে যশোর ব²ব্যাধি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্র দেবনাথ বলেন, রোহিতা ইউনিয়নের জলকর গ্রামের বাসিন্দা এক ব্যক্তি (৩২) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি অভয়নগর ভূমি অফিসে চাকরি করেন। তার নমুনায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় নিজ বাড়িতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাবে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহভাজনদের নমুনা পরীক্ষণ দলের সদস্য ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর তানভীর ইসলাম জানিয়েছেন, ১৫ জুন দিবাগত রাতে যশোরের ৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২ জনের, নড়াইলের ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জনের, ঝিনাইদহের ২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনের ও বাগেরহাটের ৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনের নমুনাতে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। আর সাতক্ষীরার ১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে সবগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
অর্থাৎ যবিপ্রবির ল্যাবে মোট ১৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১৭৪ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে
এদিকে, সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন গত ১০ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার আটটি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়েছে তিন হাজার তিনশ’ ৩৭টি। এর মধ্যে রিপোর্ট এসেছে তিন হাজার আটটি।
এদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাবে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহভাজনদের নমুনা পরীক্ষণ দলের সদস্য ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর তানভীর ইসলাম জানিয়েছেন, ১৬ জুন দিবাগত রাতে যশোরের একশ’ ৪২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জন (দু’টি ফলোআপ), নড়াইলের একজনের নমুনা পরীক্ষায় একজন, ঝিনাইদহের ৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় একজন ও সাতক্ষীরা জেলার ছয়জনের নমুনা পরীক্ষায় একজনের পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। এছাড়া মাগুরার ১৬ জন ও বাগেরহাট জেলার নয়জনের নমুনা পরীক্ষা করে সবগুলোর ফলাফল নেগেটিভ হয়েছে।
অর্থাৎ যবিপ্রবির ল্যাবে ৬ জেলার মোট ২১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ জনের করোনা পজিটিভ ও একশ’ ৮৯ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft