মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
করোনা পরিস্থিতিতেও বেপোরায়া গাছখোকোরা
সড়কের গাছ কেটেই যাচ্ছে অভিনব কৌশলে
শাহানুর আলম উজ্জ্বল/শামীম রেজা, চৌগাছা (যশোর) :
Published : Thursday, 18 June, 2020 at 1:21 PM
সড়কের গাছ কেটেই যাচ্ছে অভিনব কৌশলেযশোরের চৌগাছায় গাছখেকোদের কোনক্রমেই থামানো যাচ্ছেনা। বিভিন্ন পাকা সড়কে কৌশলে গাছ কাটা অব্যহত রেখেছে। প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিবেশ বিরুদ্ধ এহেন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইদানিং গাছখেকোরা সড়কের গাছ সাবাড় করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নির্বিচারে গাছ নিধনের ফলে পুলিশ বাহিনী, বনবিভাগ ও প্রশাসনের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মানুষ।
জানা গেছে, চৌগাছা-কোটচাঁদপুর, চৌগাছা-যশোর, চৌগাছা-ঝিকরগাছা, চৌগাছা-মহেশপুর পাকা রাস্তার দু’পাশে এক দেড় দশক আগে জেলা পরিষদের কয়েক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ রোপন করা হয়। গাছগুলো এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ গাছের মূল্য প্রায় ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্ত গাছখেকোরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে রাতে গাছের বাঁকল চারিপাশ গোলাকৃতিভাবে কেটে দিচ্ছে। গাছের গোড়া থেকে দেড় থেকে দুই হাত উপরে এমনটি করা হচ্ছে। এছাড়া গাছে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে। কোন কোন গাছে এসিডও ঢেলে দেয়া হচ্ছে। এমনকি গাছের গোড়ায় রাসায়নিক সার অতিমাত্রায় ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সাথে দেয়া হচ্ছে লবন। এসব পদ্ধতির ফলে ধীরেধীরে কিছুদিনের মধ্যে গাছ শুকিয়ে মারা যায়। পরবর্তীতে ওই গাছ রাতে মেরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সরজমিন গাছ পরিদর্শনে গেলে দুর্বৃত্তদের নিষ্ঠুরতার প্রমান পাওয়া যায়। চৌগাছা-ঝিকরগাছা পাকা সড়কের আমজামতলা বাজারের সন্নিকটে সড়কের দু’ধারে ১০টি কড়াই ও সেগুন গাছ দুর্বৃত্তদের ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। দুর্বৃত্তরা প্রত্যেকটি গাছের নিচের অংশের দেড় থেকে ২ ফিট উপরে গোলাকৃতিভাবে বাঁকল এমনকি গাছের কান্ড কেটে ফেলেছে। এভাবে কাটার কারনে ৬টি কড়াই গাছ ইতোমধ্যে মারাও গেছে। সড়কের গাছ কেটেই যাচ্ছে অভিনব কৌশলে
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিনের মধ্যেই এই গাছ সেখানে থাকবেনা। রাতেরই কে বা কারা কেটে নিয়ে যাবে। ইতোপূর্বে এই সড়কের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের ফাঁকা মাঠে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মূল্যের ৩টি কড়াই গাছ গোলাকৃতিভাবে বাঁকল কাটা হয়। চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ঋষিপাড়ার পাশেই একটি বড় কড়াই গাছের চারপাশের বাঁকল এমনকি গাছের কান্ড নিখুঁত ভাবে কেটে রাখা হয়। চৌগাছা-কোটচাদপুর সড়কে কয়েকটি কড়ই গাছ পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ারও ঘটনা ঘটে। গাছগুলোর খবর নিতে গেলে ওই গাছের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। যেখানে গাছ ছিল তার চিহ্ন পর্যন্ত নেই।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয়রা বলেন, বাইরের লোকজন এ কাজ করতে আসিনি। স্থানীয় দুর্বৃত্তরা এ নিষ্ঠুর কাজ করে। গাছের উপর এসব পদ্ধতি প্রয়োগ করার ফলে ধীরেধীরে গাছ মারা যায়। এই সুযোগে রাতে সংঘবদ্ধরা দ্রুত গাছ কেটে মাঠের মধ্যে বিভিন্ন ফসলি জমিতে নিয়ে রাখে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তা বিক্রি করে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারনে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ নিধন বেড়ে গেছে।
এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রাস্তার মূল্যবান গাছ কাটার জন্য রাস্তার ধারের জমির মালিকরা বেশী দায়ী। তারা এই গাছকে বিষফোঁড়া মনে করে সঙ্গবদ্ধ চক্রের সাথে আতাতের মাধ্যমে গাছ নিধন করছে। এর সাথে মিল মালিক বা কাঠ ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ আছে বলেও অনেকে জানান।
গাছের বাঁকল কেটে ফেললে বা পুড়িয়ে ফেললে কী ক্ষতি সাধন হয়, এমন প্রশ্নে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, গাছের বাঁকল খাদ্য তৈরি ও খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করে। এছাড়া সালোক সংশ্লেষণ একটি জৈবনিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ সূর্যের আলোর সাহায্যে পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। গাছের উপরিভাগ ও মূলভাগের কোনটিই সংকট দেখা দিলে গাছ বা উদ্ভিদ মারা যায়। সে কারনে গাছের বাঁকল না থাকলে সেই গাছ বেঁচে থাকতে পারেনা।
জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে জেলা পরিষদের গাছ অভিনব কৌশলে কাটা হচ্ছে যা দুঃখজনক। চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কে গাছ ক্ষতিসাধনের খবরটি আমি শুনেছি। যারা এই কাজের সাথে জড়িত তাদের খোঁজখবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসরামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছের সাথে এমন নিষ্ঠুরতা মেনে নেয়া যায়না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে জনগনকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft