শুক্রবার, ০৭ মে, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
পাটকল বন্ধের ঘোষণায় নীরব খুলনার শিল্পাঞ্চল
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 4 July, 2020 at 10:47 AM
পাটকল বন্ধের ঘোষণায় নীরব খুলনার শিল্পাঞ্চলপাটকল বন্ধের সিদ্ধান্তে খুলনার শিল্পাঞ্চল নীরব হয়ে পড়েছে, কঠিন অবস্থায় পড়েছে শ্রমিক পরিবারগুলো। ২ জুলাই দেওয়া মিল বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা। অনিশ্চিত ভবিষ্যত এবং সামনের দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন এটাই এখন তাদের ভাবনার বিষয়। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে শ্রমিকরা কোনোভাবে ঠকবেন না। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ‘সরকার বিজেএমসি পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে পাটকল শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছেন, কারও দুশ্চিন্তার কারণ নেই।’
তবে মিল বন্ধের ঘোষণায় কোনও শ্রমিক খুশি হতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক মো. সরোয়ার। তিনি বলেন, চাকরির আর দুই মাস বাকি ছিল। কিন্তু মিল বন্ধ করে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক ঘোষণায় খুশি হতে পারছি না। কারণ সরকার ঘোষণা দিলেও টাকা পাওয়ার বিষয়টি অনেক কঠিন। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে টাকা দেওয়াতো আর শ্রমিকের হাতে টাকা আসা না।
মিল বন্ধের ঘোষণায় শ্রমিক পরিবারগুলো কঠিন অবস্থায় পড়েছে বলে জানান ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক মো. মিন্টু। তিনি বলেন, চাকরি হারিয়ে কেউ খুশি হতে পারে না। আমাদের মজুরি অনিয়মিত থাকলেও শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বাকিতে পণ্য সামগ্রী দিতেন। তবে চাকরি না থাকায় এখন ওই সব ব্যবসায়ীরাও উদারতাকে সংকুচিত করে নিয়েছেন। আমরা আনন্দ সেদিনই করবো, যেদিন সরকার তার ঘোষণা অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ ও যোগ্য শ্রমিকদের নতুনভাবে নিয়োগ দিয়ে পাটকলগুলো ফের চালু করবে।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের অপর শ্রমিক মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা এখন আর সড়কে গিয়ে উচ্ছ্বাস করতে পারি না। ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকাতেও এখন লজ্জা হয়। টাকা না থাকায় তাদেরকে নিয়মিত খাবারও দিতে পারছি না।
সার্বিক বিষয়ে প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, শ্রমিকরা নির্বাক হয়ে পড়েছেন। সিবিএ-ননসিবিএ নেতাদের নিয়ে তারা একটি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকে বসার আগে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
এদিকে পাটকল বন্ধ হলেও শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। তিনি প্লাটিনাম জুটমিল গেটে শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, এবার পাটকল শ্রমিকরা এককালীন পাওনা পাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছেন। পাটকল বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকদের সমুদয় পাওনার অর্ধেক নগদে ও বাকি অর্ধেক তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গৃহীত পদক্ষেপ ও জারিকৃত প্রজ্ঞাপন লিফলেট আকারে শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
এছাড়া দিঘলিয়া সেসহাটিতে স্টার জুটমিল প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের পাওনা শতভাগ পরিশোধ করেই পিপিপি ভিত্তিতে মিলগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ২০১৪ সাল থেকে অবসরে যাওয়া এবং বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা এককালীন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শ্রমিকদের পাওনা টাকায় যাতে কোনও মধ্যস্বত্ত্বভোগী ভাগ বসাতে না পারে সেজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এককালীন পরিশোধে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে পাটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুপ আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজ-আল-আসাদ, শ্রম দফতরের খুলনার পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
পাটকল বন্ধের ঘোষণায় সাধারণ শ্রমিকরা বিপাকে পড়লেও সঠিকভাবে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কিছু শ্রমিক খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুটমিলে মিষ্টি বিতরণ করেন। পাশাপাশি বিজেএমসির খুলনা অফিসের সামনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং পিপলস গোল চত্বরে খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। এছাড়া পাটকলগুলোর নিরাপত্তায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রয়েছে পুলিশি পাহারা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft