মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কর্মময় জীবনের অধিকারি কবি শামসুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন
মিজানুর রহমান, চুড়ামনকাটি (যশোর) থেকে :
Published : Wednesday, 8 July, 2020 at 2:46 PM
কর্মময় জীবনের অধিকারি কবি শামসুজ্জামানের দাফন সম্পন্নবুধবার সকাল ১১ টায় যশোরের কবি অধ্যাপক ও সদর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মোহাম্মাদ শামসুজ্জানের জানাযা ছাতিয়ানতলা-চুড়ামনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্টিত হয়। জানাযা শেষে ছাতিয়ানতলা গ্রামে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকলীগের সভাপতি শামসুর রহমান, সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন, চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবেদ আলী, অধ্যাপক মসিউল আযম, জেলা কৃষকলীগের যুগ্ন সম্পাদক ফয়েজ আলম মনির, আনোয়ারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তোরাব আলী, জেলা মৎস্যজীবি লীগের সভাপতি আবু তোহা, ইউপি সদস্য এনামুল কবির প্রমূখ। কর্মময় জীবনের অধিকারি এই মানুষটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরন করেন।
নাম মোহাম্মাদ শামসুজ্জামান এলাকাবাসী মনু নামেই চেনেন। তিনি ১৯৫১ সালের ২০ অক্টোবর যশোর  সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল গফুর তরফদার মাতা মরহুমা রওশন আরা বেগম। মোহাম্মাদ সামসুজ্জামান ৯ ভাই-বোনের মধ্যে পিতা মাতার সপ্তম সন্তান ছিলেন।  সামসুজ্জামানের পিতা তৎকালিন চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বোর্ডের একটানা ২৬ বছর প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং তাঁর সেজ ভাই বিশিষ্টি কলামিষ্ট ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আমিরুল ইসলাম রন্টু চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৭৩ সাল হতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। গুনি এই মানুষটির মা ২০১৫ সালে শেকড় যশোরের মাধ্যমে মরণত্তোর রতœগর্ভা মায়ের সম্মননা পুরষ্কারে ভূষিত হন। তিনি সাত ভাই- তারমধ্যে ৬ষ্ঠ- তিনি বি.এ (অনার্স) এম.এ (বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। যশোরের কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে ১৯৭৭ সাল হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি যশোর বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের নির্বাচিত সভাপতি- বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক নিকেতন (চুড়ামনকাটি বাজার) এর সভাপতি, দৃষ্টান্ত সাহিত্য পর্ষদ (চুড়ামনকাটি বাজার) এর সাধারণ সম্পাদক, যশোর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি। তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকা এবং বিভিন্ন ম্যাগাজিনে নিয়মিত কবিতা, আলোচনা, প্রবন্ধ লিখতেন। তিনি তাঁর এলাকার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পরিচালক ও কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। বাংলাদেশ সাক্ষরতা সমিতির কেন্দ্র কমিটির সদস্য, যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্র কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। কবির বড় ভাই ভূমি বিভাগের সরকারী কর্মকর্তা, মেজ ভাই যশোর সরকারী এম. এম. কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান, সেজ ভাই ছাতিয়ানতলা-চুড়ামনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ৪র্থ ভাই ব্যবসায়ী, ৫ম ভাই খাদ্য বিভাগের পরিদর্শক ছিলেন এবং ছোট ভাই বর্তমানে কেশবপুর ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান। কবির স্ত্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ১ মেয়ে এম.এ (ইসলামের ইতিহাস) গৃহিনী- স্বামী এমবিবিএস ডাক্তার- ১ ছেলে বিএসসি (অনার্স) এমএসসি (পদার্থ) ব্যবসায়ী, পুত্রবধু কলেজের অধ্যাপিকা।
 জীবন দশায় তিনি লিখে গেছেন কাব্যগ্রন্থ:- গর্ভ থেকে রুপ লাবণ্যে-১৯৮৫, সম্পদনা গ্রন্থ (কাব্য):- দূর্বাশা- ২০০২, রক্তশপথ-২০০৪ সাল
জীবন কর্ম (স্মারক গ্রন্থ) কর্মবীর মুনশী মেহেরুল্লাহ- ২০০৯, ২০১০, ২০১১ সাল (ম্যাগাজিন)
বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক মাসিক পত্রিকা একুশের পত্রে তিনি নিয়মিত লিখতেন।তার কবিতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।  
২০/২৫ দিন আগের কথা স্যার আমাকে চুড়ামনকাটি বাজারে দেখেই এগিয়ে এসে বললো মিজান তুমি আমার মরার পর আমার জীবনিটা একটু লিখবা। ধরিয়ে দিলেন নিজের জীবনি সর্ম্পকে লেখা একটি কাগজ। সুস্থ সবল লোকটা এমন কথা বলতে আমি বললাম স্যার বহু দেরি আছে সময় হলে লিখবো। এরপর শুরু করলো কবিতা শুনানো। বললাম স্যার অন্য সময় শুনবো একটু ব্যস্ত আছি। তিনি আবার বললেন মবিন কেমন আছে আমার কথা কিছু বলে কি। আমি বললাম ভাই তো কথা হলেই আপনার কথা বলেন শুনে কি যে খুশি।
খুব মনে পড়ে আমি যখন গ্রামের কাগজে লেখালেখি শুরু করি তখন আমাকে ডেকে বলছে আমার দিকে নজর রাখবা। তোমার সম্পাদক প্রকাশক মবিন কিন্তু আমার ছাত্র কথা না শুনলে নালিশ করবো। আমি বললাম স্যার নালিশ পরে করবেন আগে দোয়া করেন। এরপর প্রায় দিনই এক সাথে চা খাওয়া আড্ডা দেওয়া আমাদের নেশা হয়ে যায়। স্যার সময় পেলেই চুড়ামনকাটি বাজারে থাকতেন। বিশেষ দিবস আসলে ধরিয়ে দিতো বিভিন্ন লেখা আর বলতো আসাদকে দিবা আর না হলে মোর্শেদকে দিবা। আর কখনো তিনি এমন কথা বলবেন না।
সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতেন যখন ফোন করে বলতাম স্যার এত তারিখে চুড়ামনকাটি প্রেসক্লাবের ভোট আপনি কিন্তু সকল দায়িত্ব পালন করবেন। দিন না আসা পর্যন্ত বারবার খোঁজ নিতেন আর বলতেন খাওয়া কিন্তু ভাল দিবা। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মবিন ভাই নান্টু ভাই তোহিদ ভাই আসলেন আমাদের প্রেসক্লাবের ভোটের দিন। স্যার সহ তাদের নিয়ে তোলা ছবিটি এখনো চোখের সামনে ভাসছে।
গুনি এই মানুষটি মরার আগের দিন পর্যন্ত একাধিক সামাজিক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। এখন তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে তার তার কর্মের মাধ্যমে।



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft