বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ভয়াবহ অবস্থা যশোরে
একদিনেই করোনায় আক্রান্ত ১০৮
ফয়সল ইসলাম :
Published : Saturday, 11 July, 2020 at 12:54 AM
ভয়াবহ অবস্থা যশোরেযশোরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্তের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। শুক্রবার জেলায় শনাক্ত হয়েছে একশ’ ১৮ জন। এর মধ্যে কালীগঞ্জের বারবাজার হাইওয়ে ফাঁড়ির ১০ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় তারা ঝিনাইদহ জেলায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ফলে যশোর জেলায় নতুন শনাক্ত রোগী তালিকাভুক্ত হয়েছে একশ’ আটজন। এক লাফেই আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে নয়শ’ ৩৭ জনে।
নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সদর উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন সর্বোচ্চ ৫৩ জন। এছাড়াও মণিরামপুরের ১৪ জন, অভয়নগর ও শার্শায় ১০ জন করে, ঝিকরগাছার নয়জন, বাঘারপাড়ায় পাঁচজন, কেশবপুরে চারজন এবং চৌগাছা উপজেলার তিনজন রয়েছে। সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, শুক্রবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাব থেকে একশ’ ৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে যশোরের ৩৫ জন ও ঝিনাইদহের জেলার ১০ জন রয়েছে। এছাড়াও ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টারের (এনআইএলএমআরসি) পিসিআর ল্যাবে আরও ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। অর্থাৎ এ যাবতকালের মধ্যে একদিনেই একশ’ আটজন রোগী শনাক্তের রেকর্ড সৃষ্টি হল। রোগীর চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একযোগে কাজ করছেন। তবে আক্রান্ত সবাইকে সন্ধান করা হয়তো সম্ভব হয়নি।
সদর উপজেলায় নতুন শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে যশোর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের চারজন, দু’নম্বর ওয়ার্ডের একজন, তিন নম্বর ওয়ার্ডের দু’জন, চার নম্বর ওয়ার্ডের ছয়জন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ জন, ছয় নম্বর ওয়ার্ডের দু’জন, সাত নম্বর ওয়ার্ডে একজন, আট নম্বর ওয়ার্ডে একজন, নয় নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচজন বাসিন্দা রয়েছেন। আক্রান্ত অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা রয়েছেন আটজন। এছাড়াও করোনা পজিটিভ ১১ জনকে কোনো ভাবেই সন্ধান করা যায়নি।
আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য রয়েছেন দুর্নীতি দুমন কমিশন (দুদক) যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ (৩৩)। তিনি চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় বসবাস করেন। পুরাতন কসবা বিমান অফিস এলাকায় বসবাসকারী ও এলজিইডি’র মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম (৫০), আরবপুর এলাকায় বসবাসকারী ও ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের (৩০), ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি এমএম কলেজ যশোরের অধ্যাপক হারুন অর রশিদ (৫০) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
মণিরামপুর উপজেলায় নতুন শনাক্ত ১৪ জনের মধ্যে সন্ধান পাওয়া গেছে ১২ জনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন নওয়াপড়া রোড এলাকার বাসিন্দা পুরুষ (৩৬), উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মী ও দুর্গাপুরের বাসিন্দা নারী (৩৫), মনোহরপুর গ্রামের পুরুষ (৩৩), পৌর শহরের বাসিন্দা ব্র্যাকের পুরুষ কর্মী (৪৫) ও ৫৮ ও ৫০ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ, মোহনপুর গ্রামের পুরুষ (৫২), তাহেরপুর গ্রামের ৭৮ ও ৫০ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ, কামালপুর গ্রামের পুরুষ (৩৮), সালামতপুর গ্রামের পুরুষ (৩০) ও দেবীদাসপুর গ্রামের পুরুষ (৪০)।
অভয়নগর উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বুইকারার ৩৫ ও ৫৬ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ, সুন্দলী গ্রামের একই পরিবারের তিন সদস্য। তারা পুরুষ (৭০), নারী (৩৫) এবং ওই নারীর তিন বছর বয়সী ছেলে। সুন্দলী গ্রামের অপর এক পুরুষ (৪৮), গুয়াখোলার নারী (৫৪) ও তার মেয়ে (৩১) এবং চলিশিয়ার পুরুষ (৪০)। এছাড়াও অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফুলতার জুগনিপাশার বাসিন্দা পুরুষ (৫৫) নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছিলেন। তার করোনা পজিটি এসেছে।
শার্শা উপজেলার ১০ জনের মধ্যে সন্ধান পাওয়া সাতজন হলেন ছোটআঁচড়া গ্রামের ৪০ ও ৪২ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ, দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের পুরুষ (৪০), বারপোতা গ্রামের পুরুষ (৪৭), কাজীরবেড় গ্রামের পুরুষ (৫৫), গাজিপুর গ্রামের পুরুষ (৬০) ও নমাজ গ্রামের এক নারী (৩২)।
ঝিকরগাছার নয়জনের মধ্যে সন্ধান পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণনগর এলাকার ৩৮ ও ৪৮ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ (৪৯) ও বেনেয়ালী গ্রামের পুরুষ (৪৩)। বাকি ছয়জনের খোঁজ করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাশিদুল আলম।
শুক্রবার বাঘারপাড়ায় নতুন যে পাঁচজন শনাক্ত হয়েছেন তাদের কাউকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শরিফুল ইসলাম।
কেশবপুর উপজেলায় নতুন করে করোনা পজিটিভ হওয়া চারজনের মধ্যে ৬০, ৪১ ও ৫৫ বছর বয়সী তিনজন পুরুষের নাম-মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের বসবাসের ঠিকানা দিতে পারেনি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এমনকি একজনের সন্ধানই করতে পারেনি।
চৌগাছায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সোনালী ব্যাংক চৌগাছা শাখার ম্যানেজার আতিকুল ইসলাম (৩৭)। তিনি বসবাস করেন শহরের আমবাগান পাড়ায়। অন্য দু’জনের মধ্যে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের পুরুষ কর্মী (২৮) ও কুঠিপাড়ার এক যুবক (২৮)।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মিডিয়া ফোকাল পার্সন ডাক্তার রেহেনেওয়াজ রনি জানিয়েছেন, গত ১০ মার্চ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার আট উপজেলা থেকে করোনা সংক্রমিত সন্দেহভাজন ছয় হাজার একশ’ ৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্যে ঢাকার আইইডিসিআর, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও যবিপ্রবি’র ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচ হাজার ৫২টি নমুনার রিপোর্ট এসেছে। আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন নয়শ’ ৩৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন চারশ’ ৪০ জন। চিকিৎসাধীন আছেন চারশ’ ৭৯ জন। এর মধ্যে বাড়িতে ২৫ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে আছেন চারশ’ ৫৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।




আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft