শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে অর্ধশত পুকুর ভরাট
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Thursday, 13 August, 2020 at 12:24 AM
যশোরে অর্ধশত পুকুর ভরাটচলমান ভৈরব খননকে পুঁজি করে ঠিকাদারের নিযুক্ত লোকজন ও কয়েকটি দালাল চক্রের মধ্যস্থতায় নদ পাড় এলাকায় অর্ধশত পুকুর ভরাট করা হয়েছে। পরিবেশে আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন এলাকা পুকুর শুণ্য করা হচ্ছে। এছাড়া তালিকায় রাখা হয়েছে আরো শতাধিক পুকুর।
ভৈরব নদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘ পাইপ লাগিয়ে বালি কাদা মাটি তুলে পুকুরগুলো ভরাট করা হচ্ছে। ১০ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ ব্যাপরে দ্রুত মাঠে নামছে পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে যশোরের শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় ভৈরব নদের অদুরে থাকা পুকুরগুলো একেএকে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সুবিধাবাদী পুকুর মালিকগন বিকল্প মুনাফার আশায় ভৈরব নদ খননে ব্যবহার হওয়া ডেজ্রার মেশিন ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে এ ধরণের অর্ধশত পুকুর ভরাট হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এক সময়ের দীঘি ও বড় পুকুর যেখানে মাছ চাষ হত, পাড়া-মহল্লার শত শত মানুষ নানাভাবে উপকার পেতেন। আজ তাদের বঞ্চিত করে পুকুর ভরাট করে সমতল ভূমি করা হচ্ছে। পরিবেশ সমুন্নত রাখা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের স্বার্থে পুকুর ভরাট বন্ধের দাবি উঠেছে। এছাড়া ভৈরবের বুকে ড্রেজার চালিয়ে  বালি ওঠনোই  ভূমি ধ্বসেরও শংকা করছেন অনেকে। এ ব্যাপারে একটি এলাকার লোকজন লিখিত অভিযোগও করেছেন।
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পাউবো এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিলেও চক্রটি না থেমে তারা বাঁকা পথ বেছে নিয়ে নতুন নতুন অপকৌশলে পুকুর ভরাট করছে। ভৈরব নদ শহরের অংশের বারান্দীপাড়া, শেখহাটি, নীলগঞ্জ, বকচর, সীতারামপুর, রাজারহাট, কুচয়া ও রুপদিয়া এলাকায় ৩ ডজন পুকর ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া যশোরের বোলাপুর, বাহাদুরপুর, ডাকাতিয়া এলাকায় আরো এক ডজন পুকুর ভরাট হয়েছে। এমনকি বাহাদুরপুরে একটি দীঘি ভরাট হয়েছে। এছাড়া বোলপুর এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  ৬টি ড্রেজার মেশিন চালিয়ে বালি কাদা উত্তোলণ করে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। এলাকার দালাল চক্র ঠিকাদার নিযুক্ত  ড্রেজার মেশিনম্যান কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে পুকুর ভরাট করছে। স্থানীয় মেম্বার আব্দুুস সালাম জানিয়েছেন, বোলপুরসহ গোটা গ্রাম  ঝুঁকিতে আছে। দ্রুত বালি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
বারান্দীপাড়ার টিক্কা মাহমুদ অভিযোগ করেন, তার এলাকায় কয়েক ডজন পুকর ভরাট করা হয়েছে। দালাল চক্র ও ড্রেজার মেশিন চক্র দীর্ঘ পাইপ দিয়ে পাড় জুড়ে পুকুর ভরাট কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এর প্রতিকার দাবি করেন তিনি।
ওই এলাকার বাসিন্দা যশোর আদ-দ্বীনের সামনের মুসলিম হোটেলের মালিক আব্দুর রহমান জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুকর ভরাট অবৈধ। কিন্তু তার এলাকায় ভরাট হচ্ছে। পরিবেশ আইন মানছে না। যশোরের সীতারামপুরে ভৈরবে বালি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর ও ডোবা। ওই অংশে নদ খননে নিযুক্ত ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে গোপালগঞ্জ থেকে দুটি ড্রেজার মেশিন এনে তোলা হয়েছে বালি।
ওই এলাকার এক সময়ের বাসিন্দা এখন যশোর শহরে বাস করা বাবলু ডাবলু নামে দু’ভাই পরিবেশ বিধি ভুলুণ্ঠিত করে মোটা অংকের টাকা হাত বদল করে পুকুর ডোবা সমতল ভূমি করার কাজটি করেছেন। কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে মেশিন দুটি। যত তাড়াতাড়ি পুকুর ভরাট হবে, তত তাড়াতাড়ি মোটা টাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত লোকজন ও ড্রেজার মেশিন কর্তপক্ষের পকেটে। আর পরিবেশ আইন ভুলুণ্ঠিত করে  যশোরেরর পুকুর ভরাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আরো অনেকে। ভৈরব থেকে ১শ’ মিটার পর্যন্ত ১৬ ফিট গভীর করে মাটি ও কাদা বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও তাদের নিযুক্ত লোকজন এক ঢিলে দু’পাখি শিকার করছেন। একদিকে সরকারের কাছ থেকে ভৈরব খনন বিল উত্তোলন করছেন। আবার  পাবলিকের পুকুর ভরাট করে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এভাবে পুকুর ভরাট করা হলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৬ (ঙ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যা একই আইনের ধারা ১৫(১)-এর ক্রমিক ৮ অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর উপ পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে পুকুর ভরাট করা চলবে না। এ আইনের উপেক্ষা করে যদি পুকুর ভরাট করা হয়, তাহলে ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ অনুযায়ী মামলা, এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে মাঠে নামছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম গ্রমের কাগজকে জানিয়েছেন, নদ খননে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে। পাউবো খনন বুঝে নেবে। কিন্তু ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাবলিককে বালি দেয়া, কারো ব্যক্তিগত পুকুর ডোবা ভরাট ও অর্থবাণিজ্যের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ওই সব অংশে কাউকে বালি মাটি বিক্রি করার অনুমতিও দেয়া হয়নি। যে চক্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে ভরাটের নামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ আসছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদ কাটতে বলা হয়েছে, কারো ডোবা, পুকুর নিচু জমি ভরাটের দায়িত্ব দেয়া হয়নি কাউকে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft