মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১
তথ্য ও প্রযুক্তি
কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকলে যেভাবে বুঝবেন
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 4 September, 2020 at 2:44 AM
কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকলে যেভাবে বুঝবেনকম্পিউটার যে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে, তা সবারই জানা। এই ম্যালওয়্যার জাতীয় ক্ষতিকর সফটওয়্যারগুলো কখনো হার্ডড্রাইভের পুরো জায়গা দখল করতে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করে। কিন্তু প্রথম অবস্থায় অনেকেই বিষয়টি ধরতে পারেন না।
কিছু ভাইরাস আছে যারা, আপনার ই-মেইল প্রোগ্রামগুলো ব্যবহার করতে চায়, যার মাধ্যমে অন্যদেরও ম্যালিসিয়াস কোড ছড়িয়ে দেয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনার অনলাইন জীবনে কিছু অভ্যাস তৈরি করা উচিত। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার। কিন্তু এরপরেও কখনো কখনো কোনো লিংকে ক্লিক করলে ভাইরাস ঢুকে যায়।
আপনার অ্যান্টি-ভাইরাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মূলত ঝুঁকি বাড়ে। তখন নিয়মিত স্ক্যানের নোটিফিকেশন পাবেন না। নোটিফিকেশন না আসলে সতর্ক হতে হবে।
যদি আপনার কম্পিউটার অস্থিতিশীল আচরণ করে, তখনও আপনাকে সতর্ক হতে হবে। কিছু ম্যালওয়ার আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অকেজো করে দিতে পারে, যার কারণে কম্পিউটার ক্র্যাশ করবে।
যদি নির্দিষ্ট কোনো ফাইল কিংবা অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করার সময় কম্পিউটার বারবার ক্র্যাশ করতে থাকে, তখন বুঝতে হবে ভাইরাস ঢুকেছে।
আরও যে সমস্যা হতে পারে
কম্পিউটারের কোনো আইকনে ক্লিক করলে কাজ না করা বা কাজ করতে দেরি হওয়া।
অনেক সময় কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করতে না পারা কিংবা ফাইল ডাউনলোড করতে না পারা।
কারণ ছাড়াই কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যাওয়া। তখন কম্পিউটার রিস্টার্ট করা ছাড়া উপায় থাকে না।
ইনস্টল করা অ্যান্টিভাইরাসের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
ব্রাউজারে অচেনা বিভিন্ন পপআপ বা অ্যাডঅন ইন্সটল হওয়া। এতে ব্রাউজিংয়ের গতি কমে যায়।
হঠাৎ করে ডেস্কটপ থেকে আইকন বা সফটওয়্যারের শর্টকাট হারিয়ে যাওয়া। কিংবা অটো রিমুভ হয়ে যাওয়া।
মুক্তির উপায়: এমন পরিস্থিতিতে আরও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত একটি অ্যান্টি ভাইরাস ইনস্টল করে নিন। এতে কাজে যেমন গতি আসবে, তেমনি আপনার ডিভাইসটিও সুরক্ষিত থাকবে।
যেভাবে কম্পিউটার ভাইরাসের জন্ম: কেউ কেউ বলেন, ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর কম্পিউটার ‘ভাইরাস’-এর জন্ম হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র ফ্রেড কোহেন পেনসিলভানিয়ার লেহিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তাবিষয়ক এক সেমিনারে প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস দেখান। একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটারে তিনি তার ছোট্ট সংকেত (কোড) প্রবেশ করিয়ে মাত্র ৫ মিনিটেই গোটা যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। আরও চারটি প্রদর্শনীতে গড়ে মাত্র আধা ঘণ্টা সময়েই এই কোড ব্যবহার করে সব নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে গোটা সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন তিনি।
কোহেনের উপদেষ্টা লেন অ্যাডলেম্যান তার এই নিজে থেকেই নিজের অনুলিপি (রেপ্লিকা/কপি) সৃষ্টির প্রোগ্রামটিকে ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করেন এবং একে ‘ভাইরাস’ নামে অভিহিত করেন। সেই থেকে এমন ক্ষতিকর প্রোগ্রামের নাম হয়ে গেল কম্পিউটার ভাইরাস।
কিন্তু কারও কারও মতে, এটাই প্রথম ভাইরাস নয়। আবার কেউ কেউ বলে থাকেন প্রথম ভাইরাসের নাম ‘ক্রিপার’ (১৯৭১)। কেমব্রিজভিত্তিক বিবিএনের কম্পিউটার প্রোগ্রামার রবার্ট (বব) থমাস ছোট একটা প্রোগ্রাম লেখেন, যা নিজে নিজেই অনুলিপি তৈরি করতে পারত। এটা ছিল পরীক্ষামূলক।’
কম্পিউটার ভাইরাসের এমন নামকরণের কারণ হলো, এই প্রোগ্রামগুলো জীবদেহের ভাইরাসের মতোই আচরণ করে থাকে। ভাইরাস যেমন এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়ায়, কম্পিউটার ভাইরাসও তেমনই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়ায়। দুটিই ক্ষতিকর ও আকারে ছোট।
১৯৯৯ সালে ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মেলিসা নামের একটি ভাইরাস। মেলিসা নামের আবেদনময়ী এক নৃত্যশিল্পীর নামে ভাইরাসটির নামকরণ করেন এর নকশাবিদ ডেভিড এল স্মিথ। ভাইরাসটি ঠিকমতো চালু হতে একটি আশ্রয়দাতার দরকার হতো। ই-মেইলে একটি ওয়ার্ডডকুমেন্ট আশ্রয় করে ভাইরাসটি ছড়ায়। যখন এতে ক্লিক করা হতো ভাইরাসটি স্বয়ংক্রিয় প্রতিলিপি তৈরি করে ই-মেইলের অ্যাড্রেসবুকে থাকা আরও ৫০ জনকে পাঠিয়ে দিত।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft