রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
ক্রীড়া সংবাদ
খেলার অনুপযোগী যশোর স্টেডিয়াম
আবুল বাসার মুকুল :
Published : Monday, 7 September, 2020 at 2:02 AM
খেলার অনুপযোগী যশোর স্টেডিয়ামভিতরে ঢুকলেই মনে হবে পরিত্যক্ত স্টেডিয়াম। সারা মাঠ জুড়ে বড় বড় ঘাস। আমেনা খাতুন গ্যালারিতে দৈন্যতা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস সংলগ্ন ভিআইপি গ্যালারির অবস্থা একই। বর্তমানে এমনই চিত্র যশোর স্টেডিয়ামে।
যশোরে খেলাধুলার প্রাণ কেন্দ্র স্টেডিয়াম। এখানে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন ইভেন্টের ঘরোয়া লিগের খেলা। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। ২০১৯ সালের গোড়া থেকে শেষ অবধি জেলার ক্রীড়াঙ্গন মুখরিত ছিল। অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রিমিয়ার ডিভিশন ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ের ক্রিকেট। এছাড়া বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব-১৭ এবং আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা। এছাড়া, বেশকিছু ইভেন্টের খেলা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে মাঠের বেহাল দশা প্রমাণ করে এখানে কোনো খেলার আয়োজন তো দূরের কথা, চিন্তা করাও অবাস্তব।
মাঠে বড় বড় ঘাস। যা প্রায় তিন থেকে চার ফুট উঁচু হয়েছে। কোথাও ফুটে আছে কাশফুল। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমে ঘাস বড় হয়। এবার কিছুটা ব্যতিক্রম। করোনার কারণে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থায় দীর্ঘদিন যাবৎ এডহক কমিটি থাকায় ঘরোয়া কোনো খেলাধুলার আয়োজন ছিল না। এর ফলে মাঠের ঘাস অস্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে।খেলার অনুপযোগী যশোর স্টেডিয়াম
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের মাঠ রাস্তা থেকে প্রায় এক থেকে দেড় ফুট নীচু। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের পানি ঢুকে পড়ে মাঠে। তখন মনে হয় এটি জলাশয়। আর বেড়ে ওঠে ঘাস। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে শুরু হয় খড় ঘাস কাটার উৎসব। প্রতি বছর এটি করতে খরচ হয় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। খড় কাটা হলেও থেকে যায় গোড়ার দিকের শক্ত অংশ। মাঠে পড়ে গিয়ে খেলোয়াড়দের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় ক্ষত। খেলার মাঠে খড় ঘাস কখনোই খেলাধুলার জন্যে উপযোগী না-এটি জানেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও রয়েছে নানান ভোগান্তি।    
রাস্তা থেকে মাঠ প্রায় তিন ফুট উঁচু করা না গেলে ও নতুন করে খেলার মাঠের উপযোগী ঘাস না লাগালে এসব থেকে পরিত্রাণের কোনো সুযোগ নেই। মাঠ উঁচু করতে হলে প্রায় দু’ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ বহন করা সম্ভব না বলে দাবি তাদের।
আমেনা খাতুন গ্যালারির বেহাল দশা বেশ আগেভাগেই শুরু হয়েছে। নীচতলা ও দ্বিতীয় তলায় চেয়ারের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। যা দু’একটি আছে তা বসার অনুপযোগী। বর্ষার পানি প্রবেশ করে ভবনের ভিতরে। ভেঙে গেছে বিভিন্ন স্থানের কাঁচ। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস সংলগ্ন ভিআইপি গ্যালারির অবস্থা আরও নাজুক। এখানে ওপরের চালের অনেকাংশ নেই। আম্পানে তছনছ করে দিয়েছে এটি। গ্যালারির উত্তরদিকের একটি অংশ ভেঙে গেছে বেশ আগেই।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার নানা সমস্যা অচিরেই দূর হোক, স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক-এই প্রত্যাশা অনেক ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় ও ক্রীড়া পিপাসুর। এজন্যে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিতে হবে সর্বাগ্রে। মাঠ যেন কোনো গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি না হয়ে যায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে তাদের।
এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির বলেন,‘আমরা সবেমাত্র দায়িত্ব পেয়েছি। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব না। করোনা এখনো বিদ্যমান। সব সেক্টরকেই ওলটপালট করে দিয়েছে মহামারি এ ভাইরাস। অচিরেই মেশিন কিনে ঘাস কাটা হবে। এছাড়া, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে স্টেডিয়ামের উন্নয়নের জন্যে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থ পাওয়া গেলে সব সমস্যার সমাধান করা সহজ হবে।’



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft