রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
অর্থকড়ি
যশোরে আলুর দাম নাগালে আনতে মাঠে কর্মকর্তারা
অ্যাকশান শুরু প্রশাসনের
এম. আইউব
Published : Friday, 11 September, 2020 at 1:29 AM
অ্যাকশান শুরু প্রশাসনেরযশোরে লাগামহীন আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমেছেন কর্মকর্তারা। অ্যাকশান শুরু করেছে প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালত যাচ্ছে বাজারে বাজারে। ঘুরছে আড়ত থেকে দোকানে। করছে জরিমানা।
কেবল আড়ত আর দোকানে গিয়েই থামছে না। মূল জায়গা হিমাগারে হানা দেওয়া শুরু করেছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য, নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করতেই হবে। কোনোভাবেই এদিক-ওদিক করা যাবে না। যারাই করবে তাদের আনা হবে শাস্তির আওতায়।
গত দু’মাস ধরে যশোরে আলুর দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। দু’মাসের ব্যবধানে ২০ টাকার আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। এ নিয়ে গ্রামের কাগজে একাধিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। কেন দাম কমছে না, মূল সমস্যা কোথায়, সেটি উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। যদিও জেলা বাজার কর্মকর্তা দু’দফায় নোটিশ দেন হিমাগার মালিকদের। দ্বিতীয় দফার নোটিশে দাম বেধে দেওয়া হয়। বলা হয় হিমাগার থেকে পাইকারি ২৩ ও ভোক্তাদের কাছে খুচরা ৩০ টাকায় আলু বিক্রি করতে হবে। তারপরও যেন আমলে নিচ্ছেন না কেউই। এ নিয়ে মাঠে নামে গ্রামের কাগজ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গোচরীভুত হয়। শেষ পর্যন্ত তারা আটঘাট বেধে মাঠে নেমেছেন।
সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মধ্যে যশোরে আলুর দাম নির্ধারণ করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, হিমাগার থেকে পাইকারি ২৩ এবং খুচরা সর্বোচ্চ ৩০ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কোনোভাবেই বেশি দাম নিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন কর্মকর্তারা। কিন্তু তাতেও তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবারও যশোরের বাজারে ৩৫ টাকায় আলু বিক্রি হয়েছে। নির্ধারিত দামে কেন আলু বিক্রি করা হচ্ছে না-এ বিষয়ে কমপক্ষে ১০ জন বিক্রেতা ও আড়তদারের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এদের প্রত্যেকেই জানান, আলু যে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে হবে এটি তারা জানেন না। তাদের দাবি, ৩২ টাকায় আলু কিনতে হচ্ছে। তার উপর খরচ রয়েছে। এ কারণে ৩৫ টাকার নীচে আলু বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব না বলে জানান তারা। আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগার থেকে আগে দাম কমাতে হবে। তা না হলে বাজারে কোনোভাবেই দাম কমবে না।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর হিমাগারে যখন আলু রাখা হয় তখন দাম ছিল ১৪ টাকা। এরপর প্রতি কেজিতে হিমাগার ভাড়া বাবদ ৩.৬৬ টাকা, বাছাই খরচ ৪৫ পয়সা ও ওয়েটলস বাবদ ৮৮ পয়সা খরচ হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সবমিলিয়ে প্রতি কেজি আলুতে খরচ পড়েছে ১৮.৯৯ টাকা। ৩ জুন পর্যন্ত হিমাগার থেকে প্রতি কেজি আলু পাইকারি ২২.৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে সংরক্ষণকারীরা কেজিতে লাভ করেন ৩.৫১ টাকা।
যশোরে খাবার আলু বাণিজ্যিকভাগে বাজারজাত করতে আটটি কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করা হয়। এ বছর এই আটটি কোল্ডস্টোরে সর্বমোট ৩৬ হাজার সাতশ’ ৪৫ মেট্রিকটন আলু মজুত করা হয়েছে। মজুতকৃত আলুর অর্ধেকের বেশি বিক্রি করা হয়েছে ইতিমধ্যে। জুলাই মাস পর্যন্ত পাইকারি ২৩-২৪ টাকায় আলু বিক্রি হয়েছে। আগস্ট মাসে দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। মজুতদাররা হিমাগার থেকে পাইকারি ২৮ থেকে শুরু করে ৩১ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বর্তমানে আলু খুচরা ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম পর্যায়ের দোকানগুলোতে এই দাম আরও বেশি।
আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সকল কোল্ডস্টোরকে দু’দফায় পত্র দিয়েছেন জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান। ৬ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ পত্র দেন তিনি। পত্রে তিনি লিখেন, ‘কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে হিমাগার পর্যায় হতে এক কেজি আলুর পাইকারি মূল্য সর্বোচ্চ ২৩ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে কোনো পণ্যের পাইকারি মূল্য দু’থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে লভ্যাংশ নির্ধারিত হয়। আলুর ক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে ক্রয়মূল্যের সাথে সর্বোচ্চ ১০-১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন করে যৌক্তিক মূল্যে বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে।’
দফায় দফায় পত্র দেওয়ার পরও হিমাগার মালিক ও আড়তদাররা আমলে না নেওয়ায় মাঠে নেমেছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার যশোরের বাজারে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার শাহজাহান সরকার বাদশা। একইদিন অভিযান চালানো হয়েছে শার্শায়। এখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি। এ সময় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান তার সাথে ছিলেন। শার্শায় সুন্দরবন কোল্ড স্টোর ও কয়েকটি আড়তে অভিযান চালানো হয়। টের পেয়ে আড়তের মালিকরা সটকে পড়েন বলে জানিয়েছেন জেলা বাজার কর্মকর্তা। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব। তারা বলেছেন, অহেতুক দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারের পাঁচটি দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিশ্বজিত স্টোর, বিশ্বজিত স্টোর-২, সোহরাব স্টোর, খোকন স্টোর ও আল-আমিন স্টোরে এ অভিযান চালানো হয়।  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft