বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
সারাদেশ
ইউএনওর আলমারির চাবি উদ্ধার : সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্ন !
শাহ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে
Published : Monday, 14 September, 2020 at 6:31 PM
ইউএনওর আলমারির চাবি উদ্ধার : সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্ন ! দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ঘরের স্টিলের আলমারির চাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওয়াহিদা খানমের বাসভবনের চাকরিচ্যুত মালি রবিউল ইসলাম ফরাসের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রোববার রাত পৌনে ৯টায় ইউএনওর ঘরের স্টিলের আলমারির চাবিটি উদ্ধার করে।ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের দোতলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্টিলের আলমারির চাবিটি উদ্ধার করা হয়।বি
রামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার চাবি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, ইউএনও এবং তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় আটক রবিউল ইসলামের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রোববার রাতে ইউএনও’র বাসভবনের দোতলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তার ঘরের স্টিলের আলমারির চাবি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, চাবি পেলেও সে আলমারি খুলতে পারেনি, যে কারণে কোনও কিছু নিতে পারেনি।প্র
সঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। বাসার পেছনে মই দিয়ে উঠে ভেনটিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে হামলাকারীরা। ভেতরে ঢুকে ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে ইউএনও ওয়াহিদাকে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমান তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।চিকিৎসারা বলেছেন, তিনি বর্তমানে ভালো আছেন।
ইউএনও ওয়াহিদা  খানম হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় ৪ জন গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে আসাদুল,নবীরুল ও সান্টুকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে জেল-হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সসর্বশেষ এ ঘটনায় ইউএনওর বাসার সাময়িক বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে গ্রেফতার দেখি শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে ৬ দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। এর আগে রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি দিনাজপুরে এক প্রেস ব্রিফিং এ রবিউল ইসলামকে মামলার প্রধান আসামী শনাক্ত করে অধিকতর তদন্তের কথা জানান। সেই সাথে জানান, রবিউল ইসলাম এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি মতো হামলায় ব্যবহার করা হাতুড়ি এবং মই উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে, এই ঘটনার পর র‍্যাব-১৩ রংপুর সদর দপ্তরে ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধায় এক প্রেস ব্রিফিং এ জানায়, নিচক চুরির ঘটনা থেকে ইউএনও ওয়াহিদার উপর হামলা। চুরি করা দেখে ফেলায় আসাদুল ইউএনওর উপর হামলা করেছে।আসাদুল স্বীকার দিয়েছে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং চুরি দেখে ফেলায় ইউএনও ওয়াহিদা  এবং তার বাবার উপর হামলা করেছে।  আসাদুলের স্বীকারোক্তি মতো,সিটিটিভি ফুটেছে থাকা আগন্তুকের  পরিধানকৃত লাল রংগের শার্ট  আসাদুলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কিন্তু, ঘটনার মুল আসামি হিসেবে  শনিবার বিকেলে  পুলিশ চিহ্নিত করে রবিউল ইসলাম ফরাসকে। এছাড়াও এ ঘটনায় কমপক্ষে আরো ২৫ জনকে আটক করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে,তাদের অধিকাংশকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখন চলছে,রবিউল ইসলাম ফরাসের পালা। কিন্তু, এ পালা মেনে নিতে নারাজ সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, রবিউল ইসলাম ৫০ হাজার  টাকা চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হয় ৪ মাস আগে। সে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কাজ করেন। দিনাজপুর সদর থেকে ঘোড়াঘাট উপজেলার দুরত্ব কমপক্ষে ৮৫/৯০ কিলোমিটার দুরে। তাছাড়া রবিউলের মতো একজন হ্যাংলা পাতলা মানুষের শক্তি বা কতোটুকু !  ইউএনও এবং তার মুক্তিযোদ্ধা পিতাকে একাই সে পরাস্ত করবে !  ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেছে ধারণকৃত হামলাকারীকে লম্বা দেখাচ্ছে। রবিউল ইসলাম ফরাস খাটো গরনের।  তাহলে কি রবিউল ইসলাম ফরাস ভারতীয় সিনেমা বা সিরিয়াল দেখে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
এমন অনেক কিছুই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে,সাধারণ মানুষের মনে।      



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft