সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মাগুরার গ্রিনসিটিতে হতদরিদ্র ৪০ পরিবারের ঠাঁই
স্থায়ী ঠিকানায় এগিয়ে নিচ্ছেন জীবন যাত্রা
মাগুরা প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 16 September, 2020 at 4:57 PM

স্থায়ী ঠিকানায় এগিয়ে নিচ্ছেন জীবন যাত্রা মাগুরার সদর উপজেলার বাহারবাগ গ্রামে নবনির্মিত  গ্রিন সিটি নামের গুচ্ছ গ্রামে বসতঘর পেয়েছেন ভূমিহীন ৪০টি পরিবার। হতদরিদ্র এসব পরিবার স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে নিচ্ছেন তাদের জীবন যাত্রা।  
সরেজমিন গ্রিন সিটি ঘুরে দেখার সময় বসতঘর পাওয়া আনোয়ারা বেগম (৫৮) জানান, নিজের ঘর না থাকার জ্বালা তিনি মর্মে মর্মে উপলদ্ধী করেছেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমরা ভূমিহীন গরিব মানুষ।  পাকা ঘরে বসবাস করতে  পারবো কখনো ভাবিনি। বাহারবাগ গ্রামের গ্রিন সিটিতে বসতঘর পেয়ে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি। নতুন ঘরে ওঠার পর তার স্বামী  আবুল বাসার(৬২) ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করছেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন থেকে মাঝে মধ্যে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করছে।
তিনি আরো জানান, তাদের বাড়ি ছিল মাগুরা সদর উপজেলার ভুলগগ্রামে। অভাবের তাড়নায় তার স্বামী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। যা ছিল তার স্বামীর জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তার ছেলে মাছুম মোল্যা (৩০) বর্তমানে ঢাকায় অটো চালায়। মেয়ে মঞ্জিলা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন  বাহারবাগ গ্রামের জহুর শেখের সাথে। মেয়ের মাধ্যমে আবেদন করে বাহারবাগ গ্রিন সিটিতে নতুন ঠিকানা পেয়েছি।  এখানে আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে সংসারের ব্যায় নির্বাহ করছেন। আমরা এখানে ভালো আছি।
বাহারবাগ গ্রিন সিটিতে বাড়ি পাওয়া ছকিনা খাতুন (৫০) জানান, বাহারবাগ গ্রিন সিটির পার্শ্ববর্তি শংকোচ খালি গ্রামে পরের বাড়িতে থাকতেন। তার স্বামীর নাম ধলণ বিশ্বাস ছিলেন ভূমিহীন। ৮ বছর আগে তার স্বামী মারা যায়। এরপর  একই গ্রামে বোন জাবেদার বাড়িতে মেয়ে রহিমাকে নিয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে সংসার চলতো। আমরা ভূমিহীন ছিলাম। আমাদের নিজস্ব কোন ঘরবাড়ি ছিল না। বর্তমান সরকার আমাদের বসত ঘর দিয়েছেন। ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন এতে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। এখানে আমরা খুব শান্তিতে বসবাস করছি।
মাগুরা সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গ্রিন সিটিতে মনোয়ারা বেগম, সকিনা খাতুনের মত ভূমিহীন ৪০টি হতদরিদ্র পরিবার পেয়েছে বসতঘর। এখানে ঘর পাওয়া পরিবারের অধিকাংশই ভূমিহীন দিনমজুর। এছাড়া এখানে ঘর পেয়েছেন স্বামী পরিত্যাক্তা ও বিধবা নারীরা।
 ভূমিন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায় (সিভিআরপি) প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে সদরের বাহারবাগে গ্রিনসিটি নামের এ আবাসনটি ১ একর ২০ শতাংশ জমির উপর প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়েছে। মূল রাস্তা থেকে ১১ ফুট নিচু জমি ভরাট করে এটি নির্মিত হয়েছে। চারিদিকে সবুজ মাঠ, গাছাপালা দ্বারা বেষ্টিত থাকার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, সোলার, শিক্ষা কেন্দ্র, মন্দির, বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও  চিকিৎসা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকায় গুচ্ছ গ্রামটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রিনসিটি। এছাড়া বাহারবাগ থেকে আমুড়িয়া, ধর্মদাহ, শুত্রুজিৎপুর বাজার হয়ে বিভিন্ন পাঁকা রাস্তা দিয়ে  মাগুরা শহরে প্রবেশের সুযোাগ থাকায় বিভিন্ন রুটে ভ্যান,ইজিবাইক ও রিক্সা চালিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে এখানে থাকা পরিবারগুলো। এর পাশাপাশি গ্রিনসিটির আশপাশে সুবিশাল মাঠ থাকায় এখানে থাকা অধিবাসিরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে সমাজের মূল ¯্রােতে ফিরতে পারছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।    
 গ্রিনসিটির মধ্য দিয়ে ৫ফিট প্রস্থ ও ৩৭৫ ফিট লম্বা ইটের সলিং রাস্তা তৈরি হয়েছে। এখানে ৪০টি ঘরের পাশপাশি রয়েছে একটি মিলনায়তন। এছাড়া ব্র্যাকের আয়শা-আবেদ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নারীদেরকে দক্ষ কওে গড়ে তুলতে সেলাই প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে করে তারা নানা আয় বর্ধক কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন। এছাড়া গ্রীণ সিটিতে মাছ চাষের জন্য রয়েছে একটি পুকুর। রয়েছে হাঁস-মুরগী পালনের ব্যবস্থা। রোপন করা হয়েছে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ওষধী গাছ। রয়েছে শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। দুই কক্ষের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে পাকা টয়লেট ও পরিবেশ বান্ধব চুলা। জাতীয় পতাকার রঙের আদলে সুবজ ও লাল রঙের মিশ্রনে সেমি পাকা টিনসেডে প্রতিটি ঘরকে রঙ দিয়ে এ গ্রিন সিটিকে সাজানো হয়েছে। ঘরের চালার টিনগুলো সবুজ হওয়ায় দূর থেকে এই গ্রিনসিটিকে সবুজ আচ্ছাদিত মনে হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবাসন সুবিধার পাশাপাশি এখানে স্থান পাওয়া পরিবারগুলো আয়বর্ধক নানা কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হবেন। পাবেন সরকারি সব সুবিধা।
 মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, ভূমিন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায় (সিভিআরপি) প্রকল্পের আওতায় এই গ্রিনসিটি নির্মিত হয়েছে। তবে অন্যান্য গুচ্ছগ্রাম থেকে এটির নকশা, স্থাপনা ও কার্যক্রমে ভিন্নতা আনা হয়েছে। এই গ্রিনসিটি অনুকরণীয় একটি কাজ হিসাবে চিহিৃত হবে বলে মনে করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক ড.আশরাফুল আলম জানান, মাগুরা সদরের বাহারবাগে গ্রিনসিটি নামের গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে আশ্রায়ন প্রকল্পের একটি অংশ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অজর্নের অংশ হিসেবে রাস্তার পাশে নিচু জমি ভরাট করে বাহারবাগে গ্রিনসিটি নামের গুচ্ছগ্রামটি নির্মিত হয়েছে। ভূমিন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায় (সিভিআরপি) প্রকল্পের আওতায় মাগুরায় এটি প্রথম করা হয়েছে। যা সারা বাংলাদেশে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, বাহারবাগ গ্রিনসিটিতে ভূমিহীন হতদরিদ্র ৪০টি পরিবার তাদের ঠিকানা পেয়েছে। আমরা এ ৪০টি পরিবারের জন্য কর্মসংস্থান বিষয়ক উদ্যোগ গ্রহণ করছি। এর মাধ্যমে টেকসই গ্রিনসিটির লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected]com, [email protected]
Design and Developed by i2soft