মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শখের মাল্টায় ইমান আলীর সফলতা
ফরিদুজ্জামান, খাজুরা (যশোর) অফিস :
Published : Thursday, 1 October, 2020 at 4:12 PM
শখের মাল্টায় ইমান আলীর সফলতাইমান আলী সখের বশে মাল্টা বাগান করে সফলতা পেয়েছেন। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এলাকায় তার মাল্টা বাগান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিনই উৎসাহী এলাকাবাসী তার বাগান দেখতে আসছেন। তার দেখাদেখি বর্তমানে অনেক কৃষকই মাল্টায় চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ইমান আলী যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খর্দ্দবন গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।
মাল্টা বাগান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে ঝুলছে প্রায় ২০০-২৫০ মাল্টা। এরই মধ্যে সবুজ থেকে তা হালকা হলুদ রঙ ধারণ করেছে। পুষ্ট হয়ে ওঠা মাল্টার ভরে নুয়ে পড়েছে গাছ। শরৎতের দক্ষিণের ঝিরিঝিরি বাতাসে সেই মাল্টা দোল খাচ্ছে।
বাগানের মালিক কৃষক ইমান আলী জানান, ১৫ শতক জমিতে ৪৫টি বারি-০১ মাল্টার চারা রোপণ করেন। চলতি বছরের মার্চে গাছে ফুল আসে। তখন ফুল ঠেকাতে হরমোন স্প্রে করেন। এর একমাস পরেই আসে ফল। বর্তমানে তার বাগানের মাল্টার গায়ে হলুদ রঙ ধারণ করেছে। মাল্টার সাথে সাথী ফসল হিসেবে তিনটি আবাদও করেছেন। এতে তার বাড়তি আয় হয়েছে।
বাগানে বসেই চাকু দিয়ে একটি মাল্টা কাটা হয়। মাল্টার ভেতরেও হলুদ রঙ আসতে শুরু করেছে। তা খেয়ে দেখেন এ প্রতিবেদকের সাথে থাকা ব্যাংকার মুশফিকুর রহমান। তিনি জানান, একেবারেই বাজারে পাওয়া মাল্টার মত খেতে। তবে স্বাদ অনেকটা মিষ্টি।
কৃষক ইমান আলী আরও জানান, কখনোই ভাবেননি গাছে এভাবে ফল আসবে। তার সহকর্মী কৃষকদেরও ধারণা ছিল এ অঞ্চলের মাটিতে মাল্টা হবে না। এখন সে ধারণা এখন বদলে গেছে। মাল্টা চাষে তিনি বাড়তি কোন যতœ নেননি। সাথী ফসল আবাদের সময় যে সার ব্যবহার করেছিলেন তা থেকেই মাল্টার গাছ বেড়ে উঠে ফল দাঁড়িয়েছে। এবার তিনি বাণিজ্যিকভাবে আরো অধিক জমিতে মাল্টা চাষ করবেন।
বাগানের মালিকের ছেলে রুহুল আমিন জানান, কয়েকটি মাল্টা স্থানীয় বাজারের ফল ব্যবসায়ীদেরকে দেখিয়েছেন। মাল্টার আকার ও সাইজ তাদের পছন্দ হয়েছে। তবে মাল্টায় পুরোপুরি হলুদ রঙ আসলে তারা নিবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ২০১৭ সালে উপজেলার ২৪টি ব্লকের ১৫টিতে চারা বরাদ্দ আসে। ওই সময় কৃষকদের চারা ও কিছু রাসায়নিক সার দেওয়া হয়। এতে সরকারি বাড়তি বরাদ্দ না থাকলেও সর্বদা কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা দেশে সব্জির জন্য পরিচিত। পরীক্ষামূলক মাল্টা চাষে যে সাফল্য পাওয়া গেছে তাতে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমেধ্য অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে অল্প পরিসরে বাগান গড়েছেন। এমন হারে মাল্টার চাষ সম্প্রসারণ হলে কয়েক বছরের মধ্যে মাল্টা হিসেবেও এ অঞ্চলের পরিচিতি পাবে। এক্ষেত্রে আগ্রহীদের চারা দেওয়া থেকে শুরু সব ধরণের পরামর্শ প্রদান করবে কৃষি অফিস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft