রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
জাতীয়
‘ভোট ডাকাত’ সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে : গয়েশ্বর
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 2 October, 2020 at 5:00 PM
‘ভোট ডাকাত’ সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে : গয়েশ্বরঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সরকারের দলদাস হয়ে কাজ করছে। পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে মতপ্রকাশের কারণে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এটা অন্যায় ও অমানবিক। আজ তাকে যারা চাকরিচ্যুত করেছে তাদরকেও একটা সময় চাকরিচ্যুত করতে হবে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। শুক্রবার (০২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
একই সমাবেশে বিএনপির বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভোট ডাকাত সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। এই সরকার ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় আছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের অবৈধ অব্যাহতির প্রতিবাদ এবং চলমান খুন-ধর্ষণের পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের দাবিতে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে এই ‘প্রতিবাদী যুব সমাবেশ’ হয়।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রাজীব আহসান, যুবদলের সাইদ হাসান মিন্টু, ছাত্রদলের সাবেক নেতা জহির উদ্দিন তুহিন, জাতীয় মুক্তমঞ্চের ইসমাইল তালুকদার খোকন প্রমুখ।
এসময় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসান, শামসুল আলম রানা, কাজী মোক্তার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এইচএম আবু জাফর, তরিকুল ইসলাম, এনামুল হক, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব সানজিদা ইয়াসমিন তুলি সহ হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সাথে জনগণের কোনো কাবিন নামা তথা ভোট দেয়ার সম্পর্ক নেই। সুতরাং তাদেরকে তালাক দেয়া যাবে না। বরং বিতাড়িত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আছে। সংসদ হলো ভোট ডাকাতদের অভয়ারণ্য। তারা মুক্তিযুদ্ধের ও স্বাধীনতার মূল চেতনা গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনষ্ট করেছে। আজকে দেশের সার্বভৌমত্ব আছে কি না দেখা যায় না। আজকে আমরা ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছি। করদ রাজ্য।
গয়েশ্বর বলেন, আজকে দেশের সার্বভৌমত্ব থাকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনের কোনো সময় থাকে না। ইস্যুতে আন্দোলন হয়। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বলেন, একজন ব্যক্তির ব্যর্থতায় মানুষ ত্যক্ত বিরক্ত। হয়তো মুক্তির উচ্ছসিত মানুষ তারা এমন নির্দয় খবর শুনতে চায়নি।
শহীদ জিয়া দেশের উন্নয়নের অনেক কিছু শেষ করতে পারেন নি। কিন্তু তিনি সবকিছুই শুরু করে গেছেন। তিনি শুরু করেছিলেন বলেই তার অনেক কিছুর শেষ হয়েছে। সেসময় মানুষ চেয়েছিল মুক্তি, কথা বলার অধিকার। কিন্তু করা হলো বাকশাল, সংবাদপত্র নাই। আর জিয়াউর রহমান হচ্ছেন- মানুষ যেই গণতন্ত্র চেয়েছেন, যেই স্বাধীনতা চেয়েছেন, যেই অধিকার চেয়েছেন সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। তার জানাজা নামাজে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।
বিএনপির এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি যোগ্য সন্তান হলে বাবার জানাজা যারা পরেনি অথচ এখন বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু বলছে তাদের বিচার আগে করুন শেখ হাসিনা। গয়েশ্বর বলেন, বর্তমান সরকার তো যৌন চেতনা বৃদ্ধির সুযোগ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেকে রক্ষা করছেন।
অথচ সারা জাতি ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের দ্বারা নিপীড়িত। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ডাক যারা দেয়ার কথা তারা দেয়নি। দিয়েছেন তৎকালিন সেনাবাহিনীর একজন মেজর তিনি হলেন- জিয়া। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জিয়ার নেতৃত্বেই দেশ পরিচালনা হয়েছে। গয়েশ্বর আরো বলেন, আমাদেরকে আরেকবার নামতে হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে হবে। বিশাল প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। যার ঢেউয়ে তারা ভেসে যাবে যারা দেশের স্বাধীনতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।
শওকত মাহমুদ বলেন, ভিন্নমতের কারণে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। সে পত্রিকায় কলামে সত্য কথা লিখে মতপ্রকাশ করেছে। আজ তাকে যারা চাকরিচ্যুত করেছে তাদরকেও একটা সময় চাকরিচ্যুত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে বব্যবস্থা নেয়া যাবে। ঢাবি সিন্ডিকেট দলদাস হয়ে কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। পশুপাখির জন্য যেমন অভয়ারণ্য দরকার তেমনি ধর্ষকলীগের জন্য ভাসানচরে অভয়ারণ্য করে দেন। পাপিয়াদের মতো যারা আছে তাদেরকে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
শওকত মাহমুদ বলেন, এই সরকারকে আরে বেশি সময় দেয়া যাবে না। আসুন সংগ্রাম করে তাদেরকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি। যার নেতৃত্ব দিবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, অধ্যাপক মোর্শেদ কলাম লিখে তো অন্যায় করেনি। কলামে যে কথা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেটা তিনি সাথেই সাথেই প্রত্যাহার করেছে। তবুও তাকে ধরা হলো। আজকে অধ্যাপক মোর্শেদ যদি জাফর ইকবাল হতো তাকে ধরা হতো না! তাকে অব্যাহতি দিয়ে চরম অন্যায় ও মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছে। তাকে পুনর্বহাল করতে হবে।
আলাল বলেন, ক্ষমতাসীনদের অবিচার অনাচারে অশান্তিতে পরিণত হয়েছে দেশ। তাদের দ্বারা জাতি কি শিক্ষা পাচ্ছে তা টের পাওয়া যাচ্ছে। আসলে হোটেল রেইনট্রিতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এমপির ছেলে কর্তৃক ধর্ষণ, সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণ, তাদের এসব খুন ধর্ষণের বিচার না হওয়ায় আবারো সেসবের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে তালাক দিতে হবে। না হলে দেশের মুক্তি নেই। ব্যাংকের টাকা পাচার, ড. কামালের গায়ে হাত তোলার বিচার হয়নি। সুতরাং তাদেরকে বিদায় করতে হবে।
জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ একজন মেধাবী শিক্ষক। চারটা ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া শিক্ষক। জাতি গড়ার কারিগর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাকে কলাম লেখার কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যা অন্যায় ও বিধিবহির্ভূত।
অন্যদিকে দেশে গুম খুন ধর্ষণসহ অবিচার চলছে। সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। দুর্নীতিবাজ সরকার বড় বড় কথা বলে নিজেরাই দুর্নীতি ও লুট করছে। অন্যায় যখন নিয়ম হয় প্রতিবাদ প্রতিরোধ তখন কর্তব্যবোধ হয়ে যায়, বলেন এহসানুল হুদা।
সভাপতির বক্তব্যে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, গুম খুন অন্যায় দূর করতে হলে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। আসুন আমরা সংঘবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাই। এক্ষেত্রে যুবসমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে না পারলে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে অভিশাপ দিবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft