সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
অর্থকড়ি
শার্শায় পাটের উপযুক্ত দাম পেয়ে কৃষক পরিবার খুশি
আব্দুল মান্নান, শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা :
Published : Saturday, 3 October, 2020 at 3:07 PM
শার্শায় পাটের উপযুক্ত দাম পেয়ে কৃষক পরিবার খুশিযশোরের শার্শায় এ বছর 'সোনালি আঁশ' পাটের ভাল দাম পাওয়ায় পাট চাষীরা বেজায় খুশি। কৃষক পরিবারে বইছে আনন্দ। সব শঙ্কা কাটিয়ে এবার হাসি ফুটেছে পাট চাষীদের মুখে। কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২হাজার ১০০টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে। এতে প্রতিবিঘায় শুধু পাট বিক্রি করেই কৃষক লাভবান হচ্ছেন ১৩ থেকে ১৭ হাজার টাকা।সেই সঙ্গে পাটখড়ির দাম যুক্ত করলে প্রতিবিঘায় এখন কৃষকের লাভ হচ্ছে ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা। বেসরকারি পাটকলগুলো এ অঞ্চলের পাটের একমাত্র ক্রেতা। কৃষকরা বলছেন,সরকারি পাটকল চালু থাকলে দাম আরও বেশি দাম পাওয়া যেত। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, “এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। শার্শায় পাট চাষের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির বিপরীতে চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৬০০হেক্টরে।যা থেকে পাট উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন।” গত বছর পাটের উপযুক্ত দাম পাওয়ায় এ মৌসুমে কৃষকরা পাটের আবাদ বেশি করেছে। গত কয়েক বছর পাটের দাম না পাওয়ার কারনে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় সেসময় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে মনে করেন তিনি। উপজেলার টেংরা গ্রামের পাটচাষী মোহাম্মদ আলি মিলন বলেন,গেলবছরের চেয়ে এবার ভাল দামে পাট বিক্রি করেছি। প্রতি মণ ভাল পাট ২,০০০-২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০০-৬০০ টাকা বেশি।এ বছর ভাল দাম পাচ্ছি তার জন্য ভাল লাগছে।পাটের সুদিন ফিরে এসেছে। নাভারন বাজারের পাট ব্যবসায়ী আবুজার বলেন,নতুন ওঠা পাট আমরা বিভিন্ন দামে ক্রয় করছি। ধূসর-কালো রঙের পাট ১৮০০-২০০০ টাকা,সোনালি রঙের পাট ২১০০-২৩০০ টাকা পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে আমরা ক্রয় করছি।এবার পাটের দাম ভাল জানিয়ে তিনি জানান, গতবারের তুলনায় এবার পাটের দাম ভাল হওয়ায় কৃষকও খুশি। তবে কিছুদিনের মধ্যে পাটের দাম আরও বাড়তে পারে। বারোপোতা গ্রামের পাটচাষী আব্দুল মোমিন বলেন,পাটের পাশাপাশি পাটখড়িরও এবার দাম ভাল। দেড় বিঘা জমিতে আবাদ করে ১২ মণ পাট পেয়েছি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকার মতো। শুধু পাটখড়ি বিক্রয় করেছি নয় হাজার টাকা। এবারের পাটের দামে আমরা খুশি। বাগআচড়া বাজারে পাট বিক্রি করতে আসা কৃষক মোজাম গাজি বলেন,এবার ২ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে ২৫ মণ ফলন পাট পেয়েছি। প্রতিমণ পাট বিক্রয় করেছি ২৪শত টাকা দরে। এতে বেশ ভাল লাভ হয়েছে। "সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু বাজারে পাটের ভালো দাম পেয়ে সেই হতাশা কেটে গেছে।" উপজেলার শালকোনা গ্রামের আলতাফ হোসেন এবার ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। ফলন পেয়েছেন বিঘায় ১০-১১ মণ ২০দিন আগে পাট বিক্রয় করেছিলাম ১৯শ টাকা মণ। আজ বিক্রয় করলাম ২৫শ টাকা মণ। জামতলা বাজারের আড়ৎদার লাল্টু গাজি বলেন, বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে পাটের দাম মণে এক হাজার টাকা বেড়েছে। আগে ১৮-১৯শ টাকা মণ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২ হাজার ৪শ টাকা মণ। বেসরকারি পাটকল গুলোতে আমরা পাট বিক্রি করে থাকি। অনেক সময় তারা টাকা আটকে রাখে, এতে নগদ টাকা সংকটে পড়তে হয় তাদের। টেংরা বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, পাট যখন প্রথম বাজারে উঠেলো তখন প্রতিমণের দাম ছিল ১৮শ টাকা। এখন দিন দিন দাম বেড়েই চলেছে। গতকাল বিক্রয় হয়েছে মানভেদে প্রতিমণ পাট ২১শ-২৪শ টাকা। নাভারন বাজারের পাট ব্যবসায়ী কুরবান আলি জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিমণ দেশী পাট ১ হাজার ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা এবং তোষা পাট ২ হাজার ২শ’ থেকে ২ হাজার ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলনও ভাল। এবার পাটের বাজারদর ও বিভিন্ন মিলে চাহিদা থাকায় চাষীর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে। বাজারদর এভাবে থাকলে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। আকিজ পাটকল, আহাদ পাটকল, আফিল উইভিং জুটমিলসহ খুলনাঞ্চলের বেসরকারি জুটমিলগুলো স্থানীয় বাজার থেকে ফড়িয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সারা বছরের পাট সংগ্রহ করে থাকেন। আফিল গ্রুপের যশোরে আফিল উইভিং জুট মিলের ৪টি ইউনিট রয়েছে। গ্রুপের পরিচালক মাহবুব আলম লাভলু বলেন, আমরা প্রতিবছর যশোর ও ফরিদপুর জেলা থেকে পাট সংগ্রহ করে থাকি। এখানকার উৎপাদিত পাটের মান ভালো। এবারও আমরা বিপুল পরিমাণ পাট কিনেছি। যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বীরেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, যশোরে এবার পাটের ভাল ফলন হয়েছে। কৃষক তার ক্ষেতের পাট বিক্রি করা শুরু করেছেন। দাম ভালো পাওয়ায় তারা দারুন খুশি। আশা করছি আগামীতে পাটের চাষ ব্যপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft