শনিবার, ০৮ মে, ২০২১
ক্রীড়া সংবাদ
ব্যস্ত ব্যাট পাড়ায় এখন অখন্ড অবসর! (ভিডিও)
রবিউল খান (রূপদিয়া) যশোর
Published : Saturday, 3 October, 2020 at 11:51 PM
ব্যস্ত ব্যাট পাড়ায় এখন অখন্ড অবসর! (ভিডিও)যশোর সদর উপজেলার নিভৃত পল্লী নরেন্দ্রপুর। এখানকার মিস্ত্রিপাড়ার পরিচিতি ব্যাটগ্রাম নামে। এ পাড়ার নারী-পুরুষ সবাই ক্রিকেট ব্যাট তৈরিতে যুক্ত। বছরজুড়ে দেশব্যাপী ব্যাট সরবরাহ করতে তাদের নাওয়া, খাওয়ার সময় থাকতো না এক সময়। সেখানে এখন চলছে শুনশান নীরবতা। অখন্ড অবসর কাটাতে অনেকেই মোবাইলফোনে লুডু খেলছেন। ফেসবুকেও ব্যস্ত থাকেন কেউ কেউ। প্রাণঘাতী করোনা শুধু কর্মীদেরই নয়, স্থবির করে দিয়েছে সম্ভাবনাময় একটি শিল্পকেও। যেখানে এক সময় একজন মালিকের অধীনে অনেক কারিগর আর শ্রমিকেরা কাজ করতেন আজ সেখানকার চিত্র ভিন্ন। মালিকেরাই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের কিস্তি। আয় না থাকলেও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে গুণতে হচ্ছে কিস্তির টাকা। দু’য়ে মিলে চরম দুর্দিনে তারা।
মিস্ত্রিপাড়ার অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এখানকার শতাধিক পরিবার ক্রিকেট ব্যাট তৈরির সাথে জড়িত। ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৫টি কারখানা আছে এ পাড়ায়। তিন শতাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন এই পেশা থেকে। স্বচ্ছলতার মুখ দেখা এইসব পরিবারে করোনা এনে দিয়েছে দুঃসহ যন্ত্রণা। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্যে অনেকে ধারদেনা করে টিকিয়ে রাখছেন প্রতিষ্ঠান। অনেকেই বাধ্য হয়ে করেছেন পেশা বদল।
কারখানার মালিক আশরাফুল আলম বলেন, ‘যেখানে আগে দিনে চার/পাঁচ বস্তার অর্ডার থাকতো সেখানে এখন পনের কুড়ি দিনেও আধাবস্তার অর্ডার আসছে না। বিক্রি না হলে শ্রমিকদের কী দেব আমরাই বা চলবো কী করে’।
এক সময় কর্মীদের নিয়ে দম ফেলার সময় ছিল না আরিফুল ইসলামের। এখন অন্যদের সাথে তিনি ব্যস্ত মোবাইলফোনে। তিনি জানান, ‘কোনো কাজ নেই। তাই সময় কাটছে মোবাইলফোনে গেম আর ফেসবুক চালিয়ে’। কোনো জায়গা থেকে সহায়তা পাননি জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ‘হয়ত আমরা কারও হিসেবের তালিকায় নেই’।
একই পাড়ার কারখানা মালিক দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, ‘দিন দিন ব্যবসা বাড়ছিল। বেশি অর্ডার থাকায় সমিতি থেকে লোন নিয়ে কাঠসহ নানা উপকরণ কিনেছিলাম। মহাজনের খাতায় বাকিও ছিলও। আশা ছিল বেচাকেনা করে সব দেনা মিটিয়ে দেব। কে জানতো করোনা এসে সব হিসেব বদলে দিবে। এখন পড়েছি দুমুখি সংকটে। একদিকে মহাজনের দেনা অন্যদিকে কিস্তির দায়। আমাদের এখন মরার  জোগাড়’।
নারী উদ্যোক্তা শোভারানী বলেন, ‘করোনার সময় আমাদের আয় না থাকলেও ব্যয় আগের মতোই আছে। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু সদয় দৃষ্টি দিত তাহলে এ চালান বেঁচে যেতাম’। তার মতো একই অবস্থা দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার, আবু সাঈদ, তুহিন হোসেনসহ সবারই।
এ বিষয়ে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের আলী বলেন, ‘মিস্ত্রিপাড়ায় ব্যাট কারখানায় কাজ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা সমস্যায় আছেন। স্থানীয়ভাবে তাদের পাশে আছি। একইসাথে সরকারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে তারা সহজ শর্তে ঋণ পায়। এনজিওর ঋণের কিস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দিলে তাদের জন্য সুবিধা হতো। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সবাইকেই একটু মানবিক হতে হবে’।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft