বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সাবেক ক্রিকেটার কাজলের স্ত্রীসহ পরিবারের বিরুদ্ধে মামলায় সমালোচনার ঝড়
শিমুল ভূইয়া :
Published : Monday, 5 October, 2020 at 10:17 PM
সাবেক ক্রিকেটার কাজলের স্ত্রীসহ পরিবারের বিরুদ্ধে মামলায় সমালোচনার ঝড়খুলনা জেলা ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক ও খুলনা তরুণ একাডেমির কোচ কাজী রিয়াজুল ইসলাম কাজল নিহতের ঘটনায় স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যশোরে কাজলের শ্বশুরবাড়ির এলাকা এবং খুলনার খালিশপুরে নিজ এলাকায় এ মামলা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তারা।  কাজলের স্ত্রী ও তার পরিবার মামলার বিষয়ে জেনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কাজলের ৫ বছরের শিশু সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতেই কাজলের মা ষড়যন্ত্র করে এ মামলা করেছেন বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে কাজলের স্ত্রী বারান্দীপাড়া ফুলতলা এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে আফরিনা আক্তার সুমি বলেন, কাজলের সাথে তার সম্পর্কের কোনো ঘাটতি ছিল না। বিয়ের এক বছর পর কাজলের বোন রুমানা নিজের সংসার ছেড়ে তাদের বাড়িতে আসার পর থেকেই কাজলের মা ও বোনের সাথে কাজলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রোমানার স্বামী রাজশাহী ছিলেন।  রোমানা খুলনাতে এসে অন্য এক ছেলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। পরে প্রতিনিয়ত ওই ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসতেন। এক পর্যায়ে রোমানার স্বামী বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। রোমানার ধারণা, কাজল ও কাজলের স্ত্রী তার স্বামীকে বিষয়টি জানিয়ে সংসার ভেঙে দিয়েছে। এরপর থেকে তারা কাজল ও সুমির সংসার ভাঙার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর পর থেকে রোমানা ও তার মা সুমিকে শারীরিক নির্যাতন ও কাজলকে মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতে থাকেন। এর মধ্যে একবার সুমিকে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করেছিল কাজলের পরিবার। বাধ্য হয়ে কাজল স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভাড়া বাড়িতে ওঠেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কাজলের মা ও বোন। এছাড়া জমিজমা নিয়ে পারিবারিক মামলা চলছিল। কাজলের স্বাসকষ্ট থাকায় এসব বিষয়ে তাদের সাথে ঝগড়া হয়ে প্রায়ই কাজল অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হতাশা ও শ্বাসকষ্টের কারণেই কাজলের মৃত্যু হয়েছে দাবি স্ত্রীর।
এ বিষয়ে সুমির মা আসমা সিদ্দিকি মায়া জানান, বিয়ের সময় জামায়ের মোটরসাইকেল, ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও নগদ টাকা দিয়েছেন মেয়ের সুখের জন্য। অথচ মেয়ের শাশুড়ি সবকিছু আত্মসাৎ করে মেয়ে, জামাতা ও নাতনিকে বাড়ি থাকতে দেননি। তাদের নানামুখি অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জামাতার মৃত্যু হয়েছে। আর এখন উল্টো তাদের ফাঁসাতে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার আরেক আসামি খুলনা খালিশপুর এলাকার জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, কাজল মারা যাওয়ার পর বন্ধুরা মিলে তার দাফন সম্পন্ন করেছেন। মিলাদের আয়োজনও করেছেন বন্ধু মহলের অর্থায়নে। কাজল ছিলেন খুলনার গর্ব। ফলে ক্রীড়া জগতের অনেকে এগিয়ে এসেছেন। তবে কাজলের মা কিংবা ভাই বোনেরা কেউই তেমন সহযোগিতা করেননি। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর পর কাজলের শিশু মেয়ে ও স্ত্রীর ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় তাকে ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
এ বিষয় নিয়ে কাজলের নিকটতম বন্ধু মিন্টু, খোরশেদ, তাওহিদ, আব্দুর রবসহ অনেকে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে খালিশপুর ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার মোহাম্মদ খোরশেদ আহম্মেদ টুনা জানান, কাজলের মৃত্যুর পর স্ত্রী, সন্তানের সাথে মা বোনদের একটা বিরোধ চলছিল। বিষয়টি তিনি অবগত। তার উপস্থিতিতে সালিস ডেকে মীমাংসা করার কথাও ছিল কিন্তু এর মধ্যে কাজলের মা নাকি আদালতে মামলা করেছেন। তিনি আরও বলেন, কাজল ও তার স্ত্রী সন্তানের মধ্যে কোনো সম্পর্কের ঘাটতি ছিল না বলেও জানান টুনা।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিহত কাজলের মা খুলনা খালিশপুর চরেরহাট এলাকার মৃত কাজী আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম আদালতে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় নিহতের স্ত্রী বারান্দীপাড়া ফুলতলা এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে আফরিনা আক্তার সুমি, খুলনা খালিশপুর হালদারপাড়ার কানা সামসুর ছেলে জাহিদুল ইসলাম সবুজ, নিহতের শাশুড়ি মায়া বেগম, বারান্দীপাড়ার মনির ড্রাইভারের মেয়ে মনি বেগম ও শশুর আমজাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন এ সংক্রান্ত কোনো মামলা কোতোয়ালি থানায় রুজু হয়েছে কিনা এ বিষয়ে থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft