সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতা নিয়ে হৈচৈ
অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে পদ ছেড়ে দেবেন চেয়ারম্যান
কাগজ সংবাদ
Published : Thursday, 8 October, 2020 at 8:45 PM
ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতা নিয়ে হৈচৈযশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে বয়স্ক ও বিধবা ১৪ নারীর ভাতার প্রায় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এ নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেবেন।
অভিযোগে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নে বয়স্ক ও বিধবাদের নতুন তালিকা করা হয়। এরপর ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর শহিদুল ইসলাম তালিকাভুক্ত ১৪ জন অসহায় মহিলার কাছ থেকে ৫শ’ টাকা হারে উৎকোচ আদায় করেন। কিন্তু এরপর থেকে চেয়ারম্যান ও মেম্বর নিরব হয়ে যান। তাদের সাথে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করলে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হয়। বলা হয়, ভাতার কার্ড এলেই তাদের কাছে পৌছে দেয়া হবে। এক পর্যায়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর মহিলারা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড ইস্যু হয়েছে। এ কার্ড আরো দু’মাস আগে পানিসারা ইউনিয়নের মেম্বর শহিদুল ইসলাম অফিস থেকে উত্তোলন করে ইউনিয়নে নিয়ে গেছেন। সেখান থেকেই কার্ড বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে নারীরা আরো জানতে পারেন, তাদের নামে বরাদ্দকৃত নতুন কার্ডের জন্য জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। ভাতার কার্ড থেকে ওইসব মহিলাদের ছবি সরিয়ে তাদের নিয়োগকৃত মেয়েদের ছবি লাগিয়ে বোরকা পরিহিত মহিলা পাঠিয়ে সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখা থেকে এ টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।
এরপর অসহায় নারীরা সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, গত ১০ জুলাই বয়স্ক ভাতার টাকা ও ১৩ আগষ্ট বিধবা ভাতার টাকা ভূক্তভোগীরা ব্যাংকের হিসাব থেকে উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা হারে ১৪ জনের এ টাকার মোট পরিমাণ ৮৪ হাজার। এছাড়া কার্ড করিয়ে দেবার কথা বলে ১৪ জনের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা হারে প্রথম দফায় হাতিয়ে নেয়া হয়েছে আরো ৭ হাজার টাকা। এ টাকার মোট পরিমাণ ৯১ হাজার টাকা। অথচ এ কার্ড প্রকৃত বয়স্ক ও বিধবাদের হাতে আজো পৌছায়নি।
অবশ্য, ভূক্তভোগী ১৪ জনের মধ্যে একজন এ টাকা পেয়েছেন বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনা গ্রামে প্রচার হয়ে গেলে ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে যায়। এ নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বরকে ভূক্তভোগী ও গ্রামবাসীর কাছে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে। কিন্তু বারবারই তারা টাকা আত্মসাতের কথা অস্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে প্রতারিত নারীরা এ টাকা ফেরত পাবার জন্যে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এক পর্যায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভূক্তভোগীরা গোটা বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে তারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশের আলী ও মেম্বর শহিদুল ইসলামকে দুষেছেন।
বিষয়টি নিয়ে পানিসারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতার কার্ড বিতরণের জন্য উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তারা এসব কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন। এসব কার্ডের কোন টাকা তারা উত্তোলন করেননি। তারা প্রতিপক্ষের মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার।
এ ব্যাপারে পানিসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশের আলী বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতার কোন টাকা তিনি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেননি। তার জানা মতে এ জাতীয় কোন ঘটনাও ঘটেনি। সামনে নির্বাচন ও দলীয় গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর সাথে বিএনপি জামায়াতের পরাজিত পক্ষরা জড়িত।
তিনি বলেন, গ্রামে তার ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওই কার্ডের সামান্য কয়টি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
যোগাযোগ করা হলে সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার ম্যানেজার রাকিবুল হাসান বলেন, ভাতার বিষয়ে তারা কোন খোঁজ খবর নেন না। তারা শুধুমাত্র কার্ডধারীকে সরকারি অনুদানের এ টাকা প্রদান করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ছবি বদল করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিল ছাপ্পড় মেরে একইনাম বলে যদি কেউ টাকা উত্তোলন করেন, সেক্ষেত্রে তাদের কিছু করার থাকে না।
তিনি বলেন, বয়স্ক অধিকাংশ মহিলা বোরকা পরে ব্যাংকে আসেন। ফলে তাদের মুখ খুলে ছবির সাথে চেহারা মিলিয়ে নেবার অনেকাংশে সুযোগ থাকে না। এ কথা বললে তাদেরকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
যশোর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক অসীত কুমার সাহা বলেন, তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ নেই। তবে অভিযোগ পেলে তারা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ভাতা বিতরণে তারা শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft