সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
জাতীয়
নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ
ঢাকা অফিস
Published : Friday, 16 October, 2020 at 1:31 PM
নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চবামপন্থী কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ধর্ষণ ও ‘বিচারহীনতা’র প্রতিবাদে নয় দফা দাবিতে লংমার্চ নিয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগ থেকে শুরু হয় লংমার্চটি। এতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। তারা ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড বহনের পাশাপাশি দাবি-দাওয়া সংবলিত স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের গন্তব্য নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ।
নেতারা জানিয়েছেন, লংমার্চ চলাকালীন পথে কয়েকটি স্থানে তারা যাত্রাবিরতি ও সমাবেশ করবেন। নারায়নগঞ্জে দুপুরের খাবার ও সমাবেশ শেষে যাবেন কুমিল্লায়। সেখানেও সমাবেশ করে রাতে রওয়ানা করবেন ফেনীর উদ্দেশ্যে। এখানে রাত্রযাপন করে আগামীকাল শনিবার নোয়াখালী শহরের মাইজদীতে গিয়ে লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশ করে শনিবার ঢাকা ফিরবেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘ধর্ষণবিরোধী নয় দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ চলছে। লংমার্চ কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধা দেওয়ার কথা না। তবে, একটি ছাত্র সংগঠন হয়তো বাধা দিতেও পারে।’
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে গণজমায়েত কর্মসূচি শুরু করেন বামপন্থী কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসব ছাত্র সংগঠন এবার এবার লংমার্চ নিয়ে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে নোয়াখালী লংমার্চ’ কর্মসূচি পালন করছে।
নয় দফা:
৯ দফা দাবি হলো:
১. সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ নির্যাতন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২. পাহাড়-সমতলের নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৩. হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশকে সিডো সনদে স্বাক্ষর পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।
৫. তদন্তকালীন ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।
৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এর ১৫৫(৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হব।
৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ পরিহার করতে হবে।
৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft