শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এ বছর বাগেরহাটের শিকদারবাড়িতে হচ্ছে না দুর্গোৎসব
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
Published : Thursday, 22 October, 2020 at 3:09 PM
এ বছর বাগেরহাটের শিকদারবাড়িতে হচ্ছে না দুর্গোৎসববাগেরহাটের শিকদারবাড়ি কর্তৃপক্ষ এ বছর দুর্গোৎসবের আয়োজন থেকে সরে এসেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমলে আগামী বছর বৃহৎ পরিসরে দুর্গোৎসব করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের শিকদারবাড়ির পূজা মণ্ডপের গেটে তালা ঝুলছে। মণ্ডপ এলাকায় সুনসান নীরবতা।
স্থানীয় শেখ মনিরুজ্জামান, আবুল কাসেম ও গৌর পাল এই প্রতিবেদককে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ব্যক্তি উদ্যোগে বাগেরহাটের হাকিমপুরের শিকদারবাড়িতে দেশের সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে এই পূজা দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।
এ বছর করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বড় পরিসরে পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবারটি। পূজার উৎসবে বিপুল মানুষের সমাগমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে তাই তারা এবার বড় পরিসরে করছে না। ভবিষ্যতে করোনার সংক্রমণ কমলে আবারও বড় পরিসরে হবে বলে আশা তাদের।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন বলেন, গত ৮/৯ বছর ধরে ব্যবসায়ী লিটন শিকদার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার বাড়ির সামনে দূর্গাপূজা করে আসছেন। অল্প দিনেই দেশ-বিদেশে হাকিমপুরের শিকদারবাড়ির পূজাটি পরিচিতি পেয়েছে। এই এলাকার সব ধর্মের মানুষ তার এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে সাধ্য অনুযায়ী তারা তাকে সহযোগিতা করে থাকে। করোনার কারণে লিটন শিকদার এ বছর পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভালো করেছেন। করোনা দেশ থেকে বিদায় হলে আগামীতে আবারও বড় পরিসরে করা যাবে।
শিকদারবাড়ির আয়োজক লিটন শিকদার এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০১১ সালে ২৫১টি প্রতিমা নিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়। সর্বশেষ গত বছরও শিকদারবাড়িতে ৮০১টি প্রতিমা দিয়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই থেকে প্রতিবছর বড় পরিসরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। পূজার ছয় মাস আগে থেকেই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। যখন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হবে তখন থেকেই দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। যার কারণে এবার পূজা না করার সিদ্ধান্ত নেই। পূজা দেখতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে এই পূজামণ্ডপে।
তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যবিধি সামাজিক দূরত্ব মেনে এই উৎসব করা সম্ভব হবে না। তাই আমরা প্রতিমা তৈরি না করেই আচার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পারিবারিকভাবে ঘট পূজা করব।
বাগেরহাট জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রতন কুমার নন্দী এই প্রতিবেদককে বলেন, বাগেরহাট জেলায় এ বছর ৬১৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দর্শনার্থীদের মুখে মাস্ক পরে মণ্ডপে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
জেলার কোনো পূজামণ্ডপে যাতে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ধর্মীয় আচারবিধি মেনে সব মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান এই নেতা।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে দুর্গোৎসব হচ্ছে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিপুল জনসমাগম না করে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে পূজা দেখতে সব মন্দিরের কমিটিগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করবে সেই প্রত্যাশা এই পুলিশ কর্মকর্তা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft