বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরাঞ্চলে যাচাই করা হচ্ছে চালের মজুত
খোঁজা হচ্ছে সংকট সৃষ্টিকারীদের
এম আইউব
Published : Friday, 23 October, 2020 at 12:11 AM

খোঁজা হচ্ছে সংকট সৃষ্টিকারীদেরযশোরাঞ্চলের চালের মজুত যাচাই করা শুরু হয়েছে। একইসাথে খোঁজা হচ্ছে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের। বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে যশোর এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বিভিন্ন রাইচমিল, আড়ত ও চালের দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, যাতে কেউ কোনোভাবেই চালের মজুত গড়ে তুলতে না পারে। সৃষ্টি করতে না পারে কোনো ধরনের সংকট।
এ বছর বেশকিছু দিন ধরে চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। ধানের দাম বেশির কথা বলে ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে দেয় লাগামহীনভাবে। অবস্থা এমন পর্যায়ে যায় যে, মিলারদের মর্জির উপর ক্রেতাদের চলা লাগছিল। এই অবস্থায় সরকার চালের দাম নির্ধারণ করে দিতে বাধ্য হয়। নতুন করে যাতে চালের বাজার অস্থিতিশীল না হয় সেজন্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে কঠোর দৃষ্টি রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সচিব ডক্টর আসমা মমতাজ বৃহস্পতিবার যশোর ও কালীগঞ্জের বারোবাজার পরিদর্শন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে,অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান যশোরের অটো রাইচমিল অ্যারিস্টো ফুড, শহরের সবচেয়ে বড় চালের আড়ত সোনালি স্টোর পরিদর্শন করেন। অ্যারিস্টো ফুডে কী পরিমাণ চাল এবং ধান মজুত আছে, এ পর্যন্ত কী পরিমাণ চাল বাইরে গেছে, কত দামে বিক্রি করা হয়েছে তার যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই করেন। সেখানে চিকন চাল সরকার নির্ধারিত দামের মধ্যে বিক্রি করা হয় বলে দেখতে পায় এই টিম। তবে, মাঝারি চাল কেজিতে এক দু’ টাকা বেশি দরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। একইভাবে সোনালি স্টোরে চালের দাম যাচাই করা হয়। সেখান থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে এই টিম। এরপর যায় কালীগঞ্জের বারোবাজারে। সেখানে বিভিন্ন চালের দোকানে মূল্য যাচাই করা হয়। কেবল মূল্য যাচাই করেননি অতিরিক্ত সচিব। তিনি বিভিন্ন বাজারে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের উপর জোর দেন।
এদিকে, জেলা বাজার কর্মকর্তার কার্যালয় বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরে চালের বর্তমান যে দর পাঠিয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সরু মিনিকেট পাইকারি ৪৮-৪৯, মাঝারি ৪৬-৪৭ এবং মোটা ৪২-৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খুচরা সরু মিনিকেট ৫০-৫২, মাঝারি ৪৮-৫০ এবং মোটা ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
উন্নত মিনিকেট পাইকারি ৫০-৫১, মাঝারি ৪৭-৪৮ এবং ৪৩-৪৪ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে জেলা বাজার কর্মকর্তা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। সেখানে উন্নত চাল খুচরা মিনিকেট ৫২-৫৪, মাঝারি ৫০-৫২ এবং মোটা ৪৫-৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও জেলার বিভিন্ন জায়গায় চালের দাম এর চেয়ে বেশি বলে খবর পাওয়া গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দাম কমানোর সুযোগ নেই। তাদের অভিযোগ, মিল মালিক সিন্ডিকেট চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা ইচ্ছা করলেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। অজুহাত ধানের দাম বেশি। প্রশ্ন হচ্ছে, যখন ধানের দাম বাড়েনি তখন চালের দাম বাড়ল কেন?
এদিকে, অতিরিক্ত সচিব যশোরের ধানের খেতও পরিদর্শন করেন। তিনি জানার চেষ্টা করেন ধান কাটার কতদিন বাকি রয়েছে। তার মতে, নতুন ধান উঠলে মিলাররা ইচ্ছে করলেও চালের দাম বাড়াতে পারবে না। এ কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধান এবং চাল দুটোর দিকেই নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft