বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অসুরবিনাশী শুদ্ধসত্তার আবির্ভাব তিথি শনিবার
সন্ধিতে জ্ঞানের প্রজ্ঞায় উদ্ভাসিত হবে ভক্ত হৃদয়
স্বপ্না দেবনাথ
Published : Friday, 23 October, 2020 at 9:26 PM
সন্ধিতে জ্ঞানের প্রজ্ঞায়  উদ্ভাসিত হবে ভক্ত হৃদয়মন্দিরে মন্দিরে ধূপের সুগন্ধ, ঢাক ঢোলের বাদ্যের সাথে সর্বজনীন দুর্গাপূজা এবার অভ্যন্তরীণ আবহে চলছে। শনিবার মহা অষ্টমী। শুক্রবার সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও নবদুর্গারূপী কলা বউকে সাজানোর পর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। হয়েছে চক্ষু দান। শনিবার মহা অষ্টমীতে অষ্টমী বিহীত পূজা শেষে মহা সন্ধিক্ষণে হবে সন্ধি পূজা ও বলিদান। কোথাও কোথাও মাতৃত্বরূপ উপলব্ধিতে করা হবে কুমারীপূজা। তবে সকল আয়োজনেই করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে। ধর্মীয় আচার বিধির বাইরে সাড়ম্বরতা পরিহারের নির্দেশনা মেনে চলতে পূজা আয়োজকরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন বলে জানিয়েছেন।
অষ্টমীপুজো হল দুর্গোৎসবের পাঁচটি দিনের মধ্যমণি। এ একটি দিনেই সংহত রয়েছে পাঁচ দিনের পুজোর নির্যাস। তাই অষ্টমীতে অঞ্জলি প্রদানে ভক্ত হৃদয় বেশি উদগ্রীব থাকে।   অষ্টমী তিথি হলো অসুরবিনাশী শুদ্ধসত্তার আবির্ভাব তিথি। এ তিথিতে দেবী মহালক্ষ্মীরূপা বৈষ্ণবী শক্তি দু’হাতে বর দেন ভক্তদের। দুর্গাপুজোর অন্যতম অংশ হল সন্ধিপুজো। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট মোট ৪৮ মিনিট সন্ধিক্ষণ। এসময়টুকুতেই হয় সন্ধি পূজা। সন্ধি পূজার অন্যতম অনুসঙ্গ শতঅষ্ট প্রদীপ এবং পদ্ম ফুল। সন্ধিপূজাতে দেবী চামুন্ডকে আরাধনা করা হয়। সন্ধিপুজোর সন্ধিক্ষণে দেবী স্বয়ং আবির্ভূত হন বলে বিশ্বাস করেন তার ভক্তরা। এটা মানা হয় যে, একশ’ আটটি প্রদীপের আলো অজ্ঞতার ও অশুদ্ধতার বিনাশক। এই প্রদীপের আলো যাবতীয় অজ্ঞতাকে পুড়িয়ে জ্ঞানের প্রজ্ঞায় উদ্ভাসিত করে হৃদয়কে। দেবীকে এ প্রদীপের আলোয় আরতী প্রদর্শন করে প্রার্থণা করা হয় যে, এ প্রদীপের আলো যেন হিংসা, দৈহিক বাসনা ও ভোগের আকাঙ্খাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।
অন্যদিকে, সন্ধিপূজাতে দেবীর চরণে নিবেদন করা হবে একশ’ আটটি পদ্ম ফুলের অর্ঘ্য। যদিও এখন পদ্ম পাওয়া অনেক কষ্টের। এ পদ্ম থেকেও ভক্তদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।   পদ্মফুলের জন্ম পাঁকে। কিন্তু, তবুও পদ্মফুল পাঁক থেকে ওঠে গায়ে পাঁকের দাগ না নিয়ে। এ থেকে আমরা শিখতে পারি যে, খারাপ পরিবেশে জন্মেও অনেক ভালো কাজ করা যায়।  পদ্ম যেমন কাদায় জন্মেও কাদা নিজ শরীরে না লাগিয়ে বেড়ে ওঠে, তেমনি মানুষেরও উচিৎ পরিস্থিতির দাস না হয়ে সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানো। পবিত্রতার পাশাপাশি পদ্মফুল শিক্ষা দেয় সংসারের আবর্জনা যেন মানুষের বিকাশে বাধা না হয়।
অষ্টমী এবং স্থান ভেদে কোথাও কোথাও নবমী তিথিতেও শুদ্ধাত্মা জীবন্ত কুমারী মেয়ের পূজা হয়ে থাকে। শাস্ত্রে দশ বছর বয়স্কা পর্যন্ত কুমারীকে পুজো করা উচিত বলে বলা হয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রে অবশ্য এক থেকে ষোল বছর বয়স পর্যন্ত কুমারীকে পুজোর কথা বলা হয়েছে। ‘দেবী ভাগবত’-এ আবার বলা হয়েছে, এক বছর বয়সের কুমারী পুজোর যোগ্য নয়। সব মিলে বিভিন্ন শাস্ত্র ভেদে এক থেকে থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প (ঋতুবতী না হওয়া) সুলক্ষণা কুমারীকে পূজা করার উল্লেখ পাওয়া যায়। পূজিত কুমারী কণ্যার গোত্রের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কুমারীর বয়সভেদে পূজা ভিন্ন ভিন্ন নাম পায়। শাস্ত্রমতে এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দু’ এ সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুঞ্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসর্ন্ধভা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞ এবং ষোল বছরে আম্বিকা পূজা হয়।
শনিবার অষ্টমীর পুজো সকাল সাতটা ৩৭ মিনিটে শুরু হয়ে সকাল নয়টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত চলবে। বীরাষ্টমী ব্রত সাঙ্গ করতে হবে সকাল নয়টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে। সন্ধি পুজো শুরু হবে সকালে সাড়ে ১১টায়। চলবে বেলা ১২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত। বলিদান হবে সকাল ১১টা ৫৪ মিনিটে। শুক্রবার বেলা ১২টা ২৭ মিনিটে মহাঅষ্টমী তিথি শুরু হয়েছে। শনিবার অষ্টমী থাকবে সকাল ১১টা ৫৪ মিনিট  পর্যন্ত।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft