বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কারবালায় যুবক মন্নাফ হত্যাকান্ড
স্ত্রী ও ভগ্নিপতির দিকে সন্দেহের তীর
বিশেষ প্রতিনিধি
Published : Saturday, 24 October, 2020 at 10:50 AM
কারবালায় যুবক মন্নাফ হত্যাকান্ডযশোরের কারাবালার সিএন্ডবি কলোনিতে বকচর বিহারী কলোনির ইসরাফিল হোসেন মন্নাফ (৪০) হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী ও ভগ্নিপতির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তথ্য মিলেছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। পরিবারের দেয়া মামলা বা লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা করছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে পুলিশের দুটি চৌকস টিম তদন্তে নেমেছে বলে জানিয়েছেন ওসি কোতোয়ালি।

২৪ অক্টোবর সকালে স্থানীয়দের খবরে কারবালা সিএন্ডবি কলোনি রোডের মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের বাড়ির ড্রেনের পাশ থেকে উদ্ধার হয় মণিরামপুরের খেদাপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের ছেলে মন্নাফের লাশ। তিনি যশোরের বকচর বিহারী কলোনির গোলাম মোস্তফার বাড়ি ভাড়া থাকতেন। একই সাথে ব্যবসায়ী ভগ্নিপতির গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা ইন্সপেক্টর শাহিন ও এসআই আফম মনিরুজ্জামান, এসআই ইদ্রিসুর রহমান নিহত মন্নাফের মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তার মাথায় লাল গামছা প্যাচানো ছিল। পরনে লুঙ্গি ও লুঙ্গির নিচে ট্রাউজার এবং গায়ে চেক শার্ট ছিল। লাশের পাশেই পড়ে ছিল একটি বাইসাইকেল ও একটি ছাতা। তাকে পিটিয়ে, মাথায় আঘাত করে ও শ^াস রোধ করে  হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। আঘাতের চিহ্ন অনুযায়ী সুরোতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ।
থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, লাশ উদ্ধারের পরে পুলিশের দুটি চৌকস টিম নিহত মন্নাফের গ্রামের বাড়ি, ভাড়াটে বাড়ি ও ভগ্নিপতির বাড়ি খোঁজ খবর নিয়েছে। পরিবারের লোকজনের সাথে কথাও বলেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে তথ্য মিলেছে, ওই হত্যাকান্ড পরকীয়ার জের হিসেবে ঘটতে পারে। নিহত মন্নাফের স্ত্রী সুমির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তার ভগ্নিপতি শাহ আলম। ভগ্নিপতির বাড়ি যশোরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলায়। তিনি ধর্মতলা এলাকায় ভাড়া থাকেন।  তার বড় ব্যবসা আছে। মন্নাফ ভগ্নিপতির ফার্মেই কাজ করতেন। ভগ্নিপতির ব্যবসায়ীক গাড়ি চালাতেন বেতনভূক্ত ড্রাইভার হিসেবে। এ কারণে তার ভাড়ার বাড়িতে এবং ভগ্নিপতির ভাড়ার বাড়িতে দু’পরিবারের সদস্যদের অবাধ আসা যাওয়া ছিল। এরই এক পর্যায়ে মন্নাফের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করেন ভগ্নিপতি। এ নিয়ে স্ত্রীর ও ভগ্নিপতির সাথে বাক-বিতন্ডা এবং সম্পর্কের দুরত্ব সৃষ্টি হয় মন্নাফের। এরপর সেই ভগ্নিপতির ভাড়া বাড়ির অদুরে লাশ মিলল মন্নাফের।
নিহত মন্নাফের ভাই সরাসরি এই অভিযোগ তুলেছেন এক পুলিশ কর্মকতার কাছে। তবে এ ব্যাপারে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো এজাহার দেয়া হয়নি। আর এজাহার না দেয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় এনেছে। তবে তাকে আটক দেখানো হয়নি। মিডিয়ার কাছে আটককৃতের নাম ঠিকানাও প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা অফিসারদের মধ্যে এস আই ইদ্রিসুর রহমান জানিয়েছেন, তথ্য পাওয়া গেছে মন্নাফের স্ত্রী সুমির সাথে ভগ্নিপতি শাহ আলমের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। এ কারণে দু’মাস আগে তিনি স্ত্রী সুমিকে তালাক দেন। এ নিয়ে তাকে কয়েকবার হুমকি দেয়া হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এবিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এখনো হত্যার কোনো প্রকৃত তথ্য মেলেলি। তবে হত্যাকান্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত এ ব্যাপারে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিও অভিযান শুরু করেছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, কারা, কি কারণে এবং কেন এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। দুটি টিম মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়ার জের হিসেবে হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে যে তথ্য এসেছে তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুতই জড়িতরা শনাক্ত ও আটক হবে।










সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft