সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ভবদহের জলাবন্ধতায় ভূক্তভোগীদের উদ্যোগে সেচ পাম্প স্থাপন
বোরো মৌসুমে দু’ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের স্বপ্ন কৃষকের
জাহাঙ্গীর আলম ও ফিরোজ উদ্দিন, মণিরামপুর(যশোর)
Published : Saturday, 24 October, 2020 at 2:24 PM
বোরো মৌসুমে দু’ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের স্বপ্ন কৃষকেরযশোরের দুঃখ মরণফাঁদ ভবদহের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বছরের পর বছর জলাবন্ধতার কারণে বিলে ধান চাষ করতে পারে না কৃষক। নিঃস্ব ভবদহপাড়ের মানুষ ঘুরে দাড়াতে নিজেদের দেয়া অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করেছেন পাঁচ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন সেচপাম্প। জলাবদ্ধ বিলকপালিয়ার ভূক্তভোগি কৃষকেরা সেচপাম্পে পানি সরিয়ে আগামী বোরো মৌসুমে বিলের প্রায় দু’ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের স্বপ্ন দেখছেন। পাম্প চালুর ২০ দিনের মাথায় বিল থেকে প্রায় ৮ ইঞ্চি পানি নিষ্কাশন হয়েছে। বিলপাড়ের মানুষ ধান চাষ করতে পারলে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে বিলপাড়ের মানুষ ঘুরে দাড়াতে পারবে। অপরদিকে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অবশ্য পাম্প চালুর শুরুতে বিদ্যুত সংযোগে পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) বেকে বসে। পাম্পে বিদ্যুত সংযোগ না দিতে যশোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ আপত্তিপত্র দেয়। তাদের আপত্তিতে পাম্পে বিদ্যুত সংযোগে বিলম্ব হয়। পরবর্তিতে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের প্রচেষ্টায় সেচপাম্পে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়। আশার কথা হলো এখন পাউবো নিজেরাই ভবদহ স্লইচগেটের ২১ ও ৯ ভেন্ট এ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২-৬৩ সালে ভবদহ এলাকায় তিনটি পোল্ডার, ১০৫৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও দুশ’ ৮২টি গেট নির্মাণ করায় জোয়ারের পানিবাহিত পলি বিলগুলিতে বাধা সৃষ্টি করায় ভূমি গঠন প্রক্রিয়া ব্যহত হয়। ১৯৮৬ সালে স্থায়ী জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়ে ১৯৮৮ সালে ভয়াবহ আকার ধাণ করে। এসময় এ অঞ্চলেল মানুষ বাস্তভিটা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ভবদহ সংকট উত্তরণে সরকারের গৃহীত শ’ শ’ কোটি টাকার প্রকল্প এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো কাজে আসেনি।
সরেজমিন ভবদহ বিলপাড়ে গেলে কার্ত্তিক মন্ডল, বিষু মন্ডল, নরেশ বিশ^াস, মনিশান্ত মন্ডলসহ একাধিক ভূক্তভোগীর সাথে কথা হয়। তারা জানান, বছর দু’য়েক আগেও বোরো মৌসুমে বিলের প্রায় জমিতে ধান চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ধান চাষ সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিলকপালিয়া পাড়ের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার মশিয়ূর রহমানসহ কপালিয়া, মনোহরপুর, পাঁচাকড়ি, বালিদহ, নেহালপুর ও অভয়নগর উপজেলার কালিশাকুল গ্রামের পরিতোষ সরকার, মাস্টার চিত্তরঞ্জন, হাফিজুর রহমান, সাইদুজ্জামান, মোজাম হোসেন ও হাফিজুর রহমান মিলে পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
পাম্প কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মশিয়ূর রহমান জানান, সেচপাম্প স্থাপনে গ্রামবাসীও সাড়া দেন। সকলের সম্মিলিত অর্থে পাম্পটি স্থাপিত হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, বিলের প্রায় দু’ হাজার হেক্টর জমিতে (মণিরামপুর অংশে এক হাজার দুশ’ হেক্টর ও অভয়নগর অংশে আটশ’ হেক্টর) ধান চাষ হলে প্রায় ছয় হাজার ছয়শ’ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে।
এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ভবদহ এলাকায় আসলে তিনি পাম্প স্থাপনের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি ভবদহ স্লইচগেটে পাম্প স্থাপনে যাচাই-বাছাই করতে যশোর জেলা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।
পাউবো’র জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপনে ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছে। ভবদহ ও তৎসংলগ্ন এলাকা হতে পানি সরাতে ও আগামী বোরো মৌসুমে কৃষকরা বিলে ধান চাষ করতে পারে সেজন্য-এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত অনুমোদন করিয়ে কাজ শুরু হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft